ইঞ্জেকশন দিয়ে বিউটি ট্রিটমেন্ট বিপজ্জনক, কড়া নজরদারি কেন্দ্রের। ছবি: ফ্রিপিক।
চেহারায় বুড়ো হতে এখন আর কেউ চান না। শরীরের বয়স বাড়ুক, তবে ত্বকে যেন তার বিন্দুমাত্র ছাপ না পড়ে। বয়স বাড়লে ত্বক কুঁচকে যাওয়া, বলিরেখা পড়ার সমস্যা স্বাভাবিক। কিন্তু এখনকার সময়ে বয়সের সেটুকু ছাপ রাখতেও অনেকে রাজি নন। ত্বক হবে যৌবনের মতোই ঝকঝকে ও টানটান। তারকাদের দেখাদেখি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে চেষ্টার অন্ত নেই। পঞ্চাশে পৌঁছেও চেহারায় কুড়ির লাবণ্য ধরে রাখার যে অদম্য প্রয়াস, তা থেকেই নিত্যনতুন অ্যান্টি-এজিং থেরাপি নিয়ে মাতামাতি চলছে। আর এতেই ঘনাচ্ছে বিপদ। বোটক্স হোক বা গ্লুটাথিয়োন থেরাপি, বা ত্বকে পেপটাইড ইঞ্জেকশন ফুটিয়ে যৌবনের জেল্লা ফিরিয়ে আনার ট্রিটমেন্ট— কোনওটিই নিরাপদ নয়। এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করল কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা সিডিএসসিও।
কেউ চান ত্বকের উজ্জ্বলতা, কেউ বলিরেখা ও দাগছোপহীন ত্বক, কারও প্রয়োজন ত্বকে তারুণ্যের জেল্লা, আর এ সবের জন্য চটজলদি পদ্ধতি হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে ত্বকের নানা থেরাপি। এগুলিতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ত্বকে এমন রাসায়নিক ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা খুব দ্রুত ত্বকের ভোলই বদলে দিচ্ছে। দেশের যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা বিউটি ক্লিনিকগুলিকে অনুমোদন ছাড়া অবাধে এমন চিকিৎসা চলছে, যার পরিণতি দাঁড়াচ্ছে মারাত্মক। ড্রাগ নিয়ামক সংস্থার বক্তব্য, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে রক্তে বিষ মিশছে। অজান্তেই এমন উপাদান শরীরে ঢুকছে, যা ত্বকের জেল্লা সাময়িক ভাবে ফেরাচ্ছে ঠিকই, বদলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি করছে। প্রভাব পড়ছে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও।
বয়স ধরে রাখতে গ্লুটাথিয়ন ট্রিটমেন্ট করাচ্ছিলেন অভিনেত্রী শেফালি জরিওয়ালা। মাত্র ৪২ বছর বয়সে আচমকা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই এ ধরনের বিউটি ট্রিটমেন্টের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। নিষ্প্রাণ ত্বকে জেল্লা ফেরাতে ইঞ্জেকশন দিয়ে ত্বকের ট্রিটমেন্টের চল এখন বেড়েছে। আর তাতে গা ভাসাচ্ছেন কমবয়সি থেকে মধ্যবয়সিরা। এককথায়, সৌন্দর্যের সহজ রাস্তা খুলে দেয় এই ধরনের থেরাপি। আর তাতেই বাড়ছে আগ্রহ।
ড্রাগ নিয়ামক সংস্থার নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়মক সংস্থা জানিয়েছে, ১৯৪০ সালের 'ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট' অনুযায়ী, প্রসাধন সামগ্রী বলতে কেবল সেই সব পণ্যকে বোঝায় যা ত্বকে মালিশ করে, স্ক্রাব করে বা স্প্রে করার মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো কোনও উপাদান প্রসাধনীর আওতায় পড়ে না।
কসমেটিক্স বা প্রসাধন সামগ্রী কেবল শরীরের বাইরে ব্যবহারের জন্য, শরীরের ভিতরে তা প্রবেশ করানো যাবে না।
ইঞ্জেকশন দিলেই ত্বকের জেল্লা বাড়বে, বয়স কমে যাবে, এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো যাবে না।
প্রসাধনী পণ্যকে 'মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট' হিসেবে দাবি করে যাঁরা ইঞ্জেকশন দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, চটজলদি ত্বকের জেল্লা ফেরাতে বা যৌবন ধরে রাখার উদ্দেশ্যে কোনও রকম বিউটি ট্রিটমেন্ট করানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যত্রতত্র ক্লিনিকে গিয়ে এমন ইঞ্জেকশন থেরাপি করালে তা শরীরের উপরে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের কোনও চিকিৎসাই স্থায়ী নয়। তাই করানোর আগে ভাবনাচিন্তা করাই ভাল।