Night Coffee Effects

মহিলাদের মেজাজ ও ব্যবহার বদলে দিতে পারে কফি! রাত জেগে কাপের পর কাপ খেলেই বিপদ

রাত জাগতে চা বা কফি অনেকেই খান। চা যতটা নিরাপদ, কফি ততটা নয়। অন্তত বিজ্ঞানীরা তেমনই বলছেন। বিশেষ কর মহিলারা যদি রাত জাগতে কাপের পর কাপ কফি পান করেন, তা হলে তাঁদের ব্যবহার ও আচরণে বড় বদল আসতে পারে বলে দবি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৩
Share:

রাতজাগা কফিতেই বদলে যেতে পারে আচরণ, মহিলারা সাবধান। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

রাত জাগতে কফি অনেকেই খান। কিন্ত তাতে কি আচার-আচরণে বদল আসে? আপাতদৃষ্টিতে তা বোঝা না গেলেও, এমনই ঘটতে পারে দীর্ঘমেয়াদে। দাবি করেছেন টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। রাত জেগে কাপের পর কাপ ক্যাফিন শরীরে ঢুকলে তা মহিলাদের জন্য বিপদ বয়ে আনতে পারে। নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে মস্তিষ্ক, বদলে যেতে পারে মন-মেজাজ। এমনকি বেপরোয়া করে তুলতে পারে রাতের কফি।

Advertisement

কফি যেমন ভাল, তেমনই এর কিছু খারাপ গুণও আছে। অতিরিক্ত ক্যাফিন শরীর সইতে পারে না। এতে স্বাভাবিক ঘুমের চক্র বদলে যায়। শরীরের নিজস্ব জৈবিক ঘড়ি (বায়োলজ্যিকাল ক্লক) আছে। সেটি কাঁটায় কাঁটায় চলে। কিন্তু ক্যাফিন মস্তিষ্কের স্নায়কোষগুলিকে এতটাই উদ্দীপিত করে তোলে, যে সেখান থেকে সঙ্কেত আদানপ্রদানের পথটা রুদ্ধ হয়ে যায়। হরমোনের ভারসাম্যেও বদল আসে। ফলে যেমন অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়, তেমনই ভুলে যাওয়ার রোগও হতে পারে।

টেক্সাসের গবেষকেরা স্নায়ুতন্ত্রের উপরে কফির প্রভাব কতটা, সে নিয়ে গবেষণা করছেন। তাতে দেখা গিয়েছে, ক্যাফিন অ্যাডিনোসিন ক্ষরণে বাধা দেয়। এই রাসায়নিক মস্তিষ্কে ক্লান্তির সংকেত পাঠায় ও ঘুমের হরমোনগুলির ক্ষরণে সাহায্য করে। দিনভর কাজের শেষে যে ক্লান্তি ভাব আসে, সেটি ওই অ্যাডিনোসিনের জন্যই। কফির ক্যাফিনের গঠন অনেকটা অ্যাডিনোসিনের মতো। তাই সেটি যদি বেশি পরিমাণে মস্তিষ্কে জমা হয়, তখন স্নায়ুতন্ত্রে ভুল সংকেত যায়। স্নায়ুকোষগুলি বুঝতে পারে না যে শরীর ক্লান্ত। মস্তিষ্ক তখন বিশ্রাম নেওয়ার বদলে ক্রমাগত সংকেত পাঠাতে থাকে, যা স্নায়ুতন্ত্রকে অধিক সক্রিয় করে তোলে। এতে ঘুম যেমন নষ্ট হয়, তেমনই অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজকর্মগুলিও ঠিকমতো হতে পারে না।

Advertisement

গবেষকরা দেখেছেন যে, দিনের বেলা কফি খেলে ততটা ক্ষতি হয় না। কিন্তু রাতে স্নায়ুতন্ত্রের উপরে তা বড় প্রভাব ফেলে। সাধারণত, মানবশরীরের জৈবিক ঘড়ি তাকে রাতেই ঘুমনোর নির্দেশ দেয়। ওই সময়ে যদি মস্তিষ্ককে বেশি মাত্রায় সজাগ করে রাখা হয়, তা হলে প্রভাব পড়ে মেজাজ এবং আচরণের উপরেও।

আরও এক বদল ঘটে মস্তিষ্কে। গবেষকদের দাবি, কফির ক্যাফিন মস্তিষ্কের ‘প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স’ অংশের উপর প্রভাব ফেলে। ওই অংশটি সিদ্ধান্ত নিতে ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নেয়। এই অংশটি যদি তার নিয়ন্ত্রণ হারায়, তা হলে আচরণে বদল আসবেই। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হবে। চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাবে। আচরণে বেপরোয়া ভাব আসবে। গবেষকেরা এমনও দেখেছেন, রাতে বেশি কফি খেলে মহিলাদের ডোপামিন বা ‘হ্যাপি হরমোন’-এর ক্ষরণ অনেক বেড়ে যায়। এতে আত্মবিশ্বাস হঠাৎ করে বেড়ে যায় যা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে প্ররোচিত করতে পারে।

Advertisement

পেশাগত কারণে যাঁদের রাত জাগতে হয় অথবা পড়াশোনার জন্য, তাঁদের রাতে বেশি কফি খেতে বারণই করছেন চিকিৎসকেরা। এর বদলে ভেষজ চা বা গ্রিন টি অনেক বেশি নিরাপদ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement