এক দিন আচমকাই চোখে প্রচণ্ড অস্বস্তি বোধ করছিলেন ঋতম। সকাল থেকে কোনও সমস্যা না থাকলেও যত বেলা বাড়ল, ততই যেন তাঁর দু’চোখ লাল হতে থাকল, সঙ্গে অনবরত জল পড়তে থাকার মতো সমস্যাও দেখা দিল। পরিবারের সকলেই ভেবেছিলেন, নির্ঘাত কনজাংক্টিভাইটিস হয়েছে ঋতমের। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে জানা যায়, আদতে চোখের অ্যালার্জির কারণেই এমন অবস্থা তাঁর।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সুমিত চৌধুরী জানাচ্ছেন, বাতাসে মজুত থাকা ধূলিকণা, ফুলের রেণু যখন আমাদের দেহে প্রবেশ করার চেষ্টা করে, তখন দেহে তৈরি হওয়া হিস্টামাইনের মতো কিছু পদার্থের কারণে নানা ধরনের অস্বস্তি বাড়ে। এ সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও নানা ভাবে আমাদের সুস্থ রাখার চেষ্টা করে। তবে কোনও কারণে যদি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে যায়, তখন দেখা দেয় অ্যালার্জির নানা লক্ষণ, যা শুরু হয় কার্যত চোখ থেকে।
কেন হয়, লক্ষণ কেমন
সাধারণত বাতাসের ধূলিকণা, ধোঁয়া, ফুলের রেণু, ভাইরাস কিংবা কোনও পশুর লোমের কারণে চোখের অ্যালার্জি বাড়তে পারে। কোনও সুগন্ধি, প্রসাধন সামগ্রী বা চোখের ড্রপে থাকা কোনও পদার্থের কারণেও দেখা দিতে পারে অ্যালার্জি। এ ছাড়াও, ডিম, মাছ, বেগুন, বাদাম জাতীয় খাবারে কারও অ্যালার্জি থাকলেও চোখের উপরে সেটির প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া, পোষ্যের লোম থেকেও এমন অ্যালার্জি বাড়তে পারে।
এর জেরে কখনও চোখ লাল হয়ে যায়, কখনও আবার চোখ থেকে প্রচণ্ড পরিমাণে জল পড়তে থাকে। সঙ্গে বাড়ে চুলকানি ও অস্বস্তি। এ ছাড়াও, মাঝেমধ্যেই নাক থেকে জল পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সকলের ক্ষেত্রে যে একই ধরনের লক্ষণ একই মাত্রায় দেখা দেবে, এ ভাবনা ঠিক নয়।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যদি এই অস্বস্তি কাটানোর জন্য চোখ কচলাতে থাকেন কেউ, তা হলে কিন্তু সমস্যা বাড়তেই থাকে। চোখের বড় কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
করণীয় যা
চোখ লাল হয়ে থাকলে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। মনে করেন, গুরুতর কোনও সমস্যা হয়েছে চোখে। সুমিত জানাচ্ছেন, প্রথমেই ভয় না পেয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলের ঝাপটা দিতে হবে চোখে। কিছু লুব্রিকেটিং ড্রপ ব্যবহার করা যায়, যদি অ্যালার্জির মাত্রা অতিরিক্ত বাড়ে। যদি এই পন্থায় কাজ না দেয়, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ‘সফ্ট স্টেরয়েড’ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের মতে, চোখের অ্যালার্জি নিজে থেকেই সাধারণত কমে যায়। তবে যদি উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকে তা ক্রমশ বেড়ে যায়, তা হলে দিন সাতেকের মধ্যে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়াই শ্রেয়।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন সুমিত। কারণ, বসন্ত কিংবা গ্রীষ্মের শুরুতে, যখন আবহাওয়া কিছুটা শুষ্ক থাকে, তখন বাচ্চাদের অ্যালার্জি কনজাংক্টিভাইটিস খুবই দেখা দেয়। স্প্রিং কিংবা ভার্নাল কনজাংক্টিভাইটিস নামে পরিচিত এই রোগ একেবারে ছোট থেকে প্রায় ১৪-১৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের মধ্যে দেখা দিতে পারে। লক্ষণও একই ধরনের হয়, যেমন চোখ লাল হয়ে যায় কিংবা অস্বস্তি বাড়তে থাকে।
চিকিৎসক সুমিতের পরামর্শ, এ ক্ষেত্রেও বারবার চোখে জলের ঝাপটা দেওয়া কিংবা কোল্ড কমপ্রেস করলে আরাম মিলতে পারে। জরুরি ওষুধও। তবে তিনি এ-ও সতর্ক করছেন— বাচ্চাদের চোখে এমন লক্ষণ দেখা দিলে যেন কোনও ভাবেই বাজারচলতি স্টেরয়েডে ভরসা করা যাবে না। কারণ, এই ওষুধগুলি সাময়িক আরাম দিয়ে চোখের লাল ভাব সারিয়ে দিলেও দীর্ঘ দিন ব্যবহার করতে থাকলে চোখের কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে। বাচ্চাদের চোখে ছানির মতো সমস্যার আশঙ্কাও থেকে যায়। এমনও হতে পারে, ওই স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে আগামী দিনে অন্য ওষুধও আর ঠিক ভাবে কাজ করল না। ফলে, বাচ্চাদের চোখের লাল ভাব যদি এক সপ্তাহের মধ্যে না সারে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ আবশ্যক।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে