—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
এ বছর মাঝামাঝি সময় থেকে একটি এল নিনিয়ো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা বিশ্ব জুড়ে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে গভীর প্রভাব ফেলবে। আশঙ্কাজনক এই জলবায়ু পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড মিটিয়োরোলজিকাল অর্গানাইজ়েশন’ (ডব্লিউএমও)।
প্রতি মাসে বিশ্ব জলবায়ু পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রকাশিত হয় ডব্লিউএমও-র একটি রিপোর্ট। ‘গ্লোবাল সিজ়নাল ক্লাইমেট আপডেট’-এর সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে জানানো হয়েছে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের সমুদ্রের জলের তাপমাত্রায় স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যেই ফের এল নিনিয়ো পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে। ডব্লিউএমও-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে বিশ্বের অধিকাংশ স্থলভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা দেখা যাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন
হতে পারে।
এল নিনিয়ো পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী জলবায়ু প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরন বদলে দেয় এবং বৃষ্টি, খরা ও চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। এল নিনিয়ো মূলত নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ার ঘটনা। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এই জলবায়ু প্রক্রিয়াটি ঘটে এবং ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এর আগে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ২০২৩-এর জুনে, স্থায়ী হয়েছিল ২০২৪-এর
এপ্রিল পর্যন্ত।
কী ভাবে তৈরি হয় এই পরিস্থিতি? আবহবিদেরা জানাচ্ছেন, সাধারণ অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব দিকের জল তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে এবং পশ্চিম দিকে উষ্ণ জল জমা হয়। কিন্তু এল নিনিয়োর সময়ে এই স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে যায়। ফলে উষ্ণ জল পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
ডব্লিউএমও-র জলবায়ু পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান উইলফ্রান মুফুমা ওকিয়ার কথায়, “বছরের শুরুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এখন জলবায়ু মডেলগুলি যে ইঙ্গিত দিচ্ছে তা থেকে স্পষ্ট, এল নিনিয়ো কিছু দিনের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে এবং আগামী মাসগুলিতে তা আরও শক্তিশালী হতে পারে।” ওকিয়া আরও বলেন, “জলবায়ু পূর্বাভাসের যে মডেলগুলি আমরা পেয়েছি, তা থেকে আমরা অনুমান করতে পারি যে এটি একটি শক্তিশালী এল নিনিয়ো হতে পারে।” তবে একই সঙ্গে আবহাওয়া সংস্থার কর্তা বলেন, “বছরের এই সময়ে ‘স্প্রিং প্রেডিক্টেবিলিটি ব্যারিয়ার’ বা বসন্তকালীন জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে পূর্বাভাসে কিছু অনিশ্চয়তা থাকে। সাধারণত এপ্রিলের পরে পূর্বাভাস আরও নির্ভরযোগ্য হয়।”
এল নিনিয়োর প্রভাব শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না, গোটা বিশ্বের আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও কৃষিতে প্রভাব ফেলে। এর প্রভাব বিভিন্ন দেশে আলাদা আলাদা হয়। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাবে এ বছরে ভারতে বর্ষা দুর্বল হতে পারে, যার ফলে খরার আশঙ্কা বাড়ে। তা ছাড়া, কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যাও হতে পারে। ওকিয়া এ বারের সম্ভাব্য এল নিনিয়ো সম্পর্কে এখনও ‘অনিশ্চিত’ হলেও ডব্লিউএমও-র এই পূর্বাভাসের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন দেশের সরকার, মানবাধিকার সংগঠন, জলসম্পদ বিষয়ক সংগঠন, এমনকি কৃষকেরাও। ফলে এ বারের পূর্বাভাসে সিঁদুরে মেঘ দেখছে তারা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে