Sleep Positions

বাড়ির বয়স্ক মানুষটি কোন দিকে পাশ ফিরে ঘুমোন? শোয়ার ভঙ্গিই জানাবে জটিল রোগের আগাম খবর

উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। আবার চিত হয়ে রোজ শোয়াও ঠিক নয়। শয়নের ভঙ্গির সঙ্গে স্বাস্থ্যের এক নিবিড় যোগাযোগ আছে। কোন ভঙ্গিতে শোয়া ভাল আর কোন ভঙ্গি অসুখের কারণ হতে পারে, সে নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে। বয়স্কদের জন্য এটি খুবই জরুরি বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ১০:০৯
Share:

বয়স্কদের শোয়ার ভঙ্গি দেখেই ধরা যাবে রোগের লক্ষণ। ফাইল চিত্র।

বাড়ির প্রবীণ মানুষটি কি রোজই চিত হয়ে ঘুমোন? দুই হাত থাকে বুকের উপরে? এই শোয়ার ভঙ্গি কি আদৌ স্বাস্থ্যকর, না কি হতে পারে কোনও রোগের লক্ষণ? শোয়ার ভঙ্গিও যে নানা অসুখের ইঙ্গিত দিতে পারে, তা ভাবার সময় এসেছে। অন্তত গবেষকেরা তেমনই বলছেন। সারা দিন কাজের পর ক্লান্ত হয়ে বিছানায় যখন শুতে যান, সবচেয়ে আরামের ভঙ্গিটিই বেছে নেন। কেউ হাঁটু মুড়ে, বুকের কাছে পা তুলে, কেউ উপুড় হয়ে, কেউ আবার চিত হয়ে ঘুমোতে পছন্দ করেন। সেই সময়ে কারও খেয়াল থাকে না, ঠিক কোন ভঙ্গিতে শোয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। কিন্তু গবেষণা বলছে, শোয়ার ভঙ্গি দেখে বোঝা যায় অনেক কিছুই। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য তো আরও বেশি।

Advertisement

শোয়ার ভঙ্গিই দেবে অসুখের আগাম খবর

জন্স হপকিন্স মেডিসিন এবং হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকেরা শয়নের ভঙ্গি নিয়ে গবেষণা করছেন দীর্ঘ সময় ধরেই। তাঁদের মতে, একজন বয়স্ক মানুষ যদি হঠাৎ তাঁর শোয়ার ধরন পরিবর্তন করেন বা নির্দিষ্ট কোনও ভঙ্গিতেই ঘুমোতে শুরু করেন, তা হলে সেটি লক্ষ রাখতেই হবে। ঘুমের ভঙ্গিই জানাবে অনেক কিছু।

Advertisement

বয়স্কেরা কী ভাবে ঘুমোচ্ছেন, তা খেয়াল করেছেন কি? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বালিশে হেলান দিয়ে বা উঁচু হয়ে শোয়া

যদি কেউ পিঠের নীচে একাধিক বালিশ দিয়ে প্রায় বসে থাকার মতো ভঙ্গি করেন, অথবা মাথা উঁচু করে ঘুমনোর চেষ্টা করেন, তা হলে বুঝতে হবে ঘুমের সময়ে তাঁর শ্বাসকষ্ট হয়। অথবা দমবন্ধ হয়ে আসে। হার্টের রোগ বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন থাকলে তা হতে পারে। সিওপিডি বাসা বাঁধলেও এমন হতে পারে।

হাঁটু বুকের কাছে নিয়ে গুটিয়ে শোয়া

হাঁটু বুকের কাছাকাছি নিয়ে শোয়ার অর্থ হল স্নায়বিক রোগ দেখা দিচ্ছে ধীরে ধীরে। পার্কিনসন্স বা ডিমেনশিয়া, অর্থাৎ স্মৃতিনাশের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে বিটা অ্যামাইলয়েড প্রোটিন জমা হতে থাকে। তখন মস্তিষ্কে প্রদাহ শুরু হয়। মস্তিষ্ক তার অবচেতনে তাই স্নায়বিক ক্ষয় রোধে শোয়ার এমন ভঙ্গি বেছে নেয়।

ঘুমের সময়ে বেশি নড়াচড়া

ঘুমের মধ্যে খুব বেশি হাত-পা ছোঁড়া বা পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও সাবধান হতে হবে। এটি মস্তিষ্কের স্টেম কোষে সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে ‘স্লিপ বিহেভিয়র ডিজ়অর্ডার’। অনেক ক্ষেত্রে যা পার্কিনসন্সের মতো জটিল স্নায়বিক রোগের ইঙ্গিত দেয়।

শয়নের ভঙ্গিই জানাবে রোগের আগাম খবর। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

উপুড় হয়ে শোয়া

বয়স্কদের ক্ষেত্রে হঠাৎ উপুড় হয়ে শোয়ার প্রবণতা স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হতে পারে। অনিদ্রাজনিত রোগেরও কারণ হতে পারে। তবে সকলের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। উপুড় হয়ে ঘুমোনোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে মেরুদণ্ডে। পেটে চাপ দিয়ে শোয়ার ফলে শরীরের পুরো ওজনটাই পেটের উপর পড়ে। দীর্ঘ দিন এমন ভঙ্গিতে ঘুমোলে মেরুদণ্ডের ব্যথা ভোগাতে পারে।

বয়স্কদের জন্য শোয়ার আদর্শ ভঙ্গি

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র অনুসারে, হার্টের রোগ থাকলে সব সময়ে ডান দিকে ফিরে শোয়া উচিত। এক সময়ে মনে করা হত, হার্টের রোগ থাকলে বাঁ দিকে ফিরে ঘুমোনো ভাল। এতে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, বাঁ দিকে ফিরে শুলে ইলেকট্রোকার্ডিয়োগ্রামের রিডিং ঠিক মতো আসে না। গবেষকেরা হার্টের রোগীদের উপর ভেক্টরকার্ডিয়োগ্রাফি নামে এক ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখেন, যাঁরা ডান দিকে ফিরে ঘুমোন, তাঁদের হৃৎস্পন্দনের হার ঠিক থাকে, ইসিজি-র রিডিংও যথাযথ আসে।

পাশ ফিরে শোয়ার সময় দুই পায়ের মাঝে বালিশ রেখে শুলে মেরুদণ্ড ও হিপ জয়েন্টে চাপ কম পড়বে, যা বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

পাশ ফিরে শোয়ার সময় দুই হাত প্রসারিত করে নয়, কনুই ভেঙে হাত মাথার কাছে রাখতে পারেন। তাতে কাঁধের ভার সমান ভাবে পড়বে। যদি চিত হয়ে শুতে হয়, তা হলে দুই পায়ের নীচে বা কোমরের নীচে বালিশ রেখে শুলে সমস্যা কম হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement