ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
পোষ্য হিসাবে বেশির ভাগ মানুষের পন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কুকুরের নাম। সারমেয় ভালবাসেন না এমন মানুষের দলে যেমন অনেকে রয়েছেন। তেমনই যাঁরা কুকুর ভালবাসেন, তাঁরা অবোলা এই প্রাণীর জন্য কোনও কিছুই করা বাদ দেন না। কুকুর প্রভুভক্ত প্রাণী। সে-ও লেজ নাড়িয়ে মালিকের বলা সমস্ত কথা শোনে। কতটা কী বোঝে তা তারাই বলতে পারবে। কিন্তু প্রভুকে ভালবাসার বিষয়ে এরা কোনও কমতি রাখে না। এ ছাড়া বাড়িকে চোর-ডাকাতের হাত থেকে বাঁচাতেও কুকুরের জুড়ি মেলা ভার।
শাস্ত্র জানাচ্ছে বাড়িতে কুকুর পোষার আরও নানা গুণাগুণ রয়েছে। অবোলা এই জীবন স্বয়ং কালভৈরবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। তাই বাড়িতে কুকুর পোষা পুণ্যসম। শাস্ত্রমতে, কালভৈরব হল মহাদেবের উগ্র রূপ। হিন্দু পুরাণে কুকুরকে কালভৈরবের বাহন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বাড়িতে কুকুর পুষে সেটির সেবা করা কালভৈরবের সেবা করার সমান হিসাবে মনে করা হয়। এর ফলে কী কী হয় জেনে নিন।
বাড়িতে কুকুর পোষার শাস্ত্রসম্মত গুণাগুণগুলি কী?
১. বাড়িতে কুকুর পোষা মানে নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে সেটিকে খেতে দেওয়া। রুটিনমাফিক তার যত্ন নেওয়া, স্নান করানো প্রভৃতি। এর ফলে আমাদের জীবনে নিয়মানুবর্তিতা আসে, যা শনিদেবকে তুষ্ট করে। সেই কারণে বাড়িতে কুকুর (বিশেষ করে কালো কুকুর) পুষলে কোষ্ঠীতে শনির স্থান উন্নত হয়।
২. নিয়মিত কুকুরকে খাবার দিলে এবং তার যত্ন নিলে রাহুর স্থানও উন্নত হয়। রাহুর কুপ্রভাব জীবন থেকে অনেকটা কেটে যায়। পরিবর্তে তাঁর সুদৃষ্টি মেলে।
৩. কুকুর পোষার ফলে শুক্রের স্থান উন্নত হয় বলে মনে করা হয়। কারণ, কুকুর সামাজিক প্রাণী। সে সকলের সঙ্গে মিশতে, খেলতে পছন্দ করে। কুকুরকে হাঁটতে নিয়ে বেরোলে অন্যান্য মানুষের সঙ্গে কথা হয়, সেখান থেকে বন্ধুত্বও তৈরি হয়। শুক্রকে যেহেতু সম্পর্কের কারক গ্রহ বলা হয়। তাই কুকুর পোষার ফলে শুক্র উন্নত হয় বলে মনে করা হয়।
৪. অবোলা প্রাণীকে পোষ মানিয়ে বাড়িতে রাখা সহজ বিষয় নয়। কুকুর যতই প্রভুভক্ত হোক, আদতে সে শিশু-সম। সে এমন নানা কাজ করে যা মানুষের সমস্যার কারণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যাঁরা কুকুর পোষেন, তাঁরা বিষয়টির সঙ্গে ধীরে ধীরে খাপ খাইয়ে নেন। এর ফলে আমাদের ধৈর্ষ বৃদ্ধি পায়। যা কোষ্ঠীতে বৃহস্পতির স্থান উন্নত করতে সহায়ক।
৫. শাস্ত্রমতে বিশ্বাস করা হয়, কেবল চোর নয়, বাড়িকে যে কোনও প্রকার নেগেটিভ শক্তি থেকে বাঁচাতেও সাহায্য করে কুকুর।