ওজন ঝরাতে চাইলে মাথায় রাখুন কিছু সংখ্যা। ছবি: সংগৃহীত।
রোগা হওয়া সহজ নয়। কম দিনে ওজন ঝরানো আরও কঠিন। এ কথা ঠিক। তেমনই পুষ্টিবিদদের মতে, কম সময়ে রোগা হওয়া অসম্ভবও কিছু নয়। তবে তার জন্য বিশেষ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে হবে।
ফিটনেসবিদ থেকে পুষ্টিবিদ, সবাই একটি বিষয়ে সমর্থন করবেন যে চটজলদি ওজন ঝরার প্রক্রিয়া কখনওই ভাল নয়। হুড়মুড়িয়ে ওজন কমছে মানেই তা স্বাস্থ্যকর নয়। এতে আপনার মুখে হাসি ফুটবে ঠিকই, তবে শরীর বেহাল হয়ে যাবে কিছু দিনেই। দ্রুত ওজন কমাতে গেলে তা ক্ষণস্থায়ী হবে এবং শরীরে পুষ্টির ঘাটতিও ঘটবে। বরং ওজন কমানো উচিত ধীর গতিতে। এতে সব দিকই রক্ষা হবে।
মাসের হিসাবে কতটা করে ওজন কমানো নিরাপদ
সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)–এর তথ্য বলছে, প্রতি সপ্তাহে ১ কেজি বা ৫০০ গ্রাম করে ওজন কমলে তা স্বাস্থ্যকর। সেই হিসাবে এক মাসে ৪-৫ কেজি ওজন কমতেই পারে। তবে তা নির্ভর করবে শারীরিক অবস্থার উপরেও। উচ্চতা, অসুখবিসুখের ইতিহাস ইত্যাদি মাথায় রেখে মাসে যদি ২ থেকে ৪ কেজি ওজনও কমে, তা হলেও সেটি ভাল। তবে তার বেশি নয়।
হার্ভার্ড স্কুল অফ হেল্থ অ্যাণ্ড মেডিসিন এই বিষয়ে আরও একটি তথ্য দিয়েছে। শুরুতে যা ওজন ছিল, ৬ মাসের মধ্যে তার ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমানোই উচিত। যদি কারও ওজন ৯০ কেজি হয় এবং ৬ মাসের মধ্যে তিনি ৯ থেকে ১০ কেজি কমাতে পারেন, তা হলে সেটি স্বাস্থ্যকরই হবে। আসলে, প্রথম এক থেকে দুই সপ্তাহে ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমে। নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করলে এবং শরীরচর্চায় ফাঁকি না দিলে, এক মাসের মধ্যে ওজন খুব তাড়াতাড়ি ঝরে যায়। তবে এর পর থেকে বিষয়টি কঠিন হয়। বাড়তি ক্যালোরি ঝরিয়ে শরীরে জমা মেদ পোড়াতে বেশ ভালই কসরত করতে হয়। তাই সে দিক থেকে ৬ মাসে ১০ কেজি কমিয়ে ফেলা মোটেও সহজ কাজ নয়।
ওজন ঝরানোর ক্ষেত্রে কিছু সংখ্যা মাথায় রেখে চলা ভীষণ জরুরি। ফিটনেসবিদ রাজা সাহা বলেন, ‘‘দ্রুত ওজন ঝরালে সেই ওজন ধরে রাখা মোটেও সহজ নয়। একটু অনিয়ম হলেই আগের চেহারা ফিরে যেতে হয়। তবে ওজন ঝরানোর প্রক্রিয়ায় কিছু সংখ্যা মাথায় ঢুকিয়ে নিলে ওজন ঝরানোর পথটি মসৃণ হয়ে যায়।’’
কোন কোন সংখ্যার উল্লেখ করেছেন ফিটনেসবিদ?
১) একবারও মদ খাওয়া চলবে না।
২) রোজ অন্তত ৮,০০০ পা হাঁটতে হবে।
৩) প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর অল্প অল্প করে খাবার খেতে হবে।
৪) ৭ ঘণ্টার ঘুম।
৫) রোজ ১৫০ গ্রাম প্রোটিন খেতে হবে।
৬) সপ্তাহে ৪টি ইনটেন্স ট্রেনিং সেশন নিতে হবে।
৭) সপ্তাহ দু’ দিন অন্তত ৩০ মিনিট করে কার্ডিয়ো সেশন করতে হবে।