অ্যালকোহল নেই, তবুও কি স্বাস্থ্যকর রুট বিয়ার? ছবি: সংগৃহীত।
গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে কিংবা মেজাজ ফুরফুরে করতে অনেকেই ঠান্ডা ঠান্ডা রুট বিয়ারে চুমুক দিচ্ছেন। রুট বিয়ার এক ধরনের কার্বনেটেড পানীয় যাতে কোনও রকম অ্যালকোহল থাকে না। মূলত গাছের শিকড় আর ভেষজ দিয়ে এই পানীয় তৈরি করা হয়। অ্যালকোহল না থাকলেও একটি নির্দিষ্ট গ্রাহকগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার জন্য 'বিয়ার' শব্দটি বেছে নেওয়া হয়েছিল এক সময়। এই পানীয়টির আদি রেসিপিগুলির প্রধান উপাদানগুলির মধ্যে ছিল স্যাসাফ্রাস, উইন্টারগ্রিন এবং সরসপেরিলা, যা উত্তর আমেরিকার আদিবাসীরা সাধারণত ঔষধি পানীয় হিসেবে ব্যবহার করতেন। এই শিকড় ও ভেষজগুলিই পানীয়টিকে এর স্বতন্ত্র স্বাদ দিয়েছিল, যা রুট বিয়ারের বাণিজ্যিক সংস্করণগুলিতেও বজায় ছিল, যদিও সেখানে আরও ভিন্ন ভিন্ন উপাদানও ব্যবহার করা হতে থাকে।
এখন অল্পবয়সিদের মধ্যে রুট বিয়ার খাওয়ার চল বেড়েছে। অ্যালকোহল নেই, তবুও গরমের দিনে রুট বিয়ারে ঘন ঘন চুমুক দেওয়া কি স্বাস্থ্যকর?
১) রুট বিয়ার চড়া মিষ্টি স্বাদের হয়। এই বিয়ারে মিষ্টি স্বাদ আনার জন্য উচ্চ মাত্রায় ফ্রুকটোজ় কর্ন সিরাপ ব্যবহার করা হয়। রোজ রোজ রুট বিয়ারে চুমুক দিলে তাই ডায়াবিটিস আর ওবেসিটির ঝুঁকি বাড়ে।
২) দাঁতের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে চাইলে রোজ রুট বিয়ারে চুমুক দিলে চলবে না এতে এত উচ্চ মাত্রায় চিনি থাকে যে দাঁতের স্বাস্থ্যের বারোটা বাজে। রুট বিয়ারে দাঁতের এলামেলের ক্ষয় হয়, দাঁতের রং বদলাতে শুরু করে।
৩) রুট বিয়ারে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফিন থাকে, বেশি মাত্রায় ক্যাফিন শরীরে ঢুকলে অনিদ্রার সমস্যা শুরু হয়। আর রাতে ভাল ঘুম না হলেই শরীরে হাজার রকম সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। এই কারণে মানসিক চাপ বাড়ে, ভুলভাল খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে।
৪) রুট বিয়ারের বাদামি রং আনার জন্য ক্যারামেল রং ব্যবহার করা হয়, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে এই রং থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। শুধু ক্যানসার নয়, ক্যারামেল রঙের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
৫) রুট বিয়ারে সোডিয়াম বেনজ়োয়েটও পাওয়া যায়, কারণ এটি হাই ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে। রুট বিয়ারে থাকা এই প্রিজ়ারভেটিভের কৃত্রিম সংস্করণটি ডিএনএ-র ক্ষতি করে, যা থেকে পরবর্তীতে পারকিনসন্স রোগ এবং যকৃতের নানা ধরনের সমস্যাও হতে পারে।