হাইপোরয়েডিজমে কোন খাবার, কী ভাবে খাওয়া দরকার? ছবি:সংগৃহীত।
শরীর সুস্থ রাখতে সাধারণত যে খাবার খেতে বলেন চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা, সেই খাবারই বারণ হয়ে যায় হাইপোথাইরয়েডিজ়ম-এ ভুগলে। এটি এমন একটি সমস্যা, যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি যথেষ্ট মাত্রায় থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন করতে পারে না। তার ফলেই দৈনন্দিন জীবনে দোসর হয় ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি। সেই সঙ্গেই বুক ধড়ফড়, অস্বাভাবিক ভাবে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া। শরীরের বিপাক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে হরমোনটি।
কপি: ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, ব্রকোলি, ব্রাসেলস স্প্রাউট-সহ বেশ কয়েকটি সব্জি থাইরয়েডের সমস্যা হলে খেতে বারণ করা হয়। কারণ, এই ধরনের সব্জি আয়োডিন শোষণে বাধা দেয় বলে মনে করা হয়। থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে এই ধরনের সব্জি বাদ দেওয়া মানে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ফাঁক থেকে যাওয়া। পুষ্টিবিদেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই সব্জিগুলি সুসিদ্ধ করে বা ভাল করে রান্না করে খাওয়ার। রান্না করলে, যে ধরনের উপাদান আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়, তা হ্রাস পায়। ফলে ক্ষতির ঝুঁকি তেমন থাকে না। তবে পুষ্টিবিদেরা মনে করান, কোনও ধরনের খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া ভাল নয়। পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সুস্থ থাকার জন্য জরুরি।
সয়াবিন জাতীয় খাবার: সয়াবিন, সয়া দুগ্ধ জাতীয় খাবারও থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করা হয়। সে কারণে, থাইরয়েড থাকলে সয়াবিন, সয়াদানা এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। সয়া প্রোটিন থাইরয়েডের ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট করে। আবার সয়াবিনে প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট-সহ একাধিক পুষ্টিগুণ রয়েছে। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, খেয়াল রাখা দরকার, থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়ার পরেই যেন সয়াবিন জাতীয় খাবার না খাওয়া হয়। অন্তত ঘণ্টা ৪-৫ বিরতি দিয়ে খেলে ততটাও সমস্যা নেই। তবে পরিমাণ বুঝে খাওয়া সবসময়েই ভাল।
আয়োডিন: অনেকেই স্বাস্থ্যরক্ষার্থে আয়োডিন যুক্ত সাদা নুন বাদ দিয়ে হিমালয়ান রক সল্ট, সৈন্ধব লবণ-সহ নানা ধরনের খনিজ লবণ দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখেন। পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন, আয়োডিন থাইরয়েড উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। দৈনন্দিন খাবার থেকে যথেষ্ট পরিমাণ আয়োডিন না মিললে, সমস্যা হতে পারে।