Calcutta University

পরীক্ষার খাতা দেখতে অনীহা? এ বারে কড়া অবস্থান নিচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাগত জানাচ্ছেন অধিকাংশ অধ্যক্ষ ও শিক্ষক

জাতীয় নীতি অনুযায়ী যে ভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে হয় সেখানে এই দায়িত্ব সকলকেই নিতে হবে। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চাইলে শিক্ষা সমাজের কাছেও যে খারাপ বার্তা পৌঁছোয়, তা একেবারেই চাইছেন না কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৮:২৯
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

চলতি মাসের শেষ থেকে বা জুনের প্রথম থেকেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজের শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ করা হবে খাতা দেখা বা স্ক্রুটিনির কাজ। আর তাতেই মাথায় হাত পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের বোর্ড অফ স্টাডিজ়ের সদস্যদের একাংশের।

Advertisement

কিন্তু কেন?

স্নাতকের বোর্ড অফ স্টাডিজ়ের এক সদস্যের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে কলেজের শিক্ষকদের একাংশের তরফে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। প্রতি ক্ষেত্রে তাঁদের থেকে যে বাধার সম্মুখীন হতে হয়, সেটা গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থার উপরেই প্রভাব ফেলে। খাতা দেখা, প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি স্ক্রুটিনি সহ নানা কাজে শিক্ষকদের যুক্ত থাকতে হয়। এটা একজন শিক্ষকের কর্তব্য। তিনি বলেন, ‘‘খাতা দেখার খাতার জন্য খুব কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, এটা সত্যি। কিন্তু শিক্ষক হিসেবে খাতা দেখা আমাদের কর্তব্য, সে ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ যা-ই হোক না কেন। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে কিছু শিক্ষক চূড়ান্ত অসহযোগিতা করেন। নানা অজুহাতে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে চান।’’ তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের স্বার্থের কথা সর্বাগ্রে ভেবে দেখা উচিত। জাতীয় নীতি অনুযায়ী যে ভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়, সেখানে এই দায়িত্ব সকলকেই নিতে হবে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক বার সমস্যা হয়েছে। সেই দায়িত্ব বণ্টন আসন্ন হতেই তাই ফের এই দুশ্চিন্তায় বোর্ড অফ স্টাডিজ়।

Advertisement

মাইক্রোবায়োলজির বোর্ড অফ স্টাডিজ়ের চেয়ারম্যান তথা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাগরময় ঘোষ বলেন, ‘‘শিক্ষকদের অনেকেই এই সব দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন। এটা অনভিপ্রেত। এটা শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এর আগেও কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, আবারও জানাব। এই পরিস্থিতির বদল প্রয়োজন।’’ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র খবর, এই প্রবণতা রোধে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী কোনও শিক্ষক আর তাঁকে দেওয়া কোনও দায়িত্ব সরাসরি এড়িয়ে যেতে পারবেন না। অধ্যক্ষের মাধ্যমে সেই আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে হবে। কিন্তু তার পরেও সমস্যা মেটেনি বলে অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে অধ্যক্ষদের আরও বেশি করে সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে বলে দাবি তাঁর। খবর, যে বিষয়গুলিতে বেশি সংখ্যায় পড়ুয়া থাকেন সেই বিষয়গুলিতে এই সমস্যা বেশি হয়।

এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘টিচিং- লার্নিং- ইভ্যালুয়েশন, এই তিনটি শব্দের সঙ্গেই শিক্ষকের দায়িত্ব যুক্ত থাকে। কিন্তু শিক্ষকদের একাংশ এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে চান, সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই পরিস্থিতির অবশ্যই বদল প্রয়োজন এবং কর্তৃপক্ষ কড়া অবস্থান নিলেও স্বাগত জানাব।’’যদিও এই বিষয়ে এ বারে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেই জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা।

সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই খবর পৌঁছিয়েছে। তাঁরা কোনও ভাবেই এই পরিস্থিতির পক্ষে নন। এক কর্তা জানান, দ্রুত সার্কুলার জারি করে অধ্যক্ষ সহ শিক্ষকদের এই বিষয়ে সচেতন করা হবে। শিক্ষকতার পাশাপাশি এগুলিকেও দায়িত্ব হিসেবে যে বিবেচনা করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সেগুলিই শিক্ষকদের জানানো হবে। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চাইলে শিক্ষা সমাজের কাছেও যে খারাপ বার্তা পৌঁছোয়, তা একেবারেই চাইছেন না কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement