শিশুর ডায়েরিয়া হলে কোন কোন খাবার একেবারেই খাওয়াবেন না? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
পেটের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। ছোটরাই বেশি ভুগছে এই সমস্যায়। ডায়েরিয়া, বমি বা রক্ত আমাশয়ের প্রকোপও বাড়ছে। এত দিন পেটের রোগ বা ডায়েরিয়ার জন্য মূলত রোটাভাইরাসকে দায়ী করা হত। কিন্তু এখন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে, যে ধরনের ডায়েরিয়া ছড়াচ্ছে তার জন্য ‘হিউম্যান অ্যাডিনোভাইরাস-এফ’ (এইচএডিভি-এফ) দায়ী। মূলত ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সি শিশুরাই বেশি ভুক্তভোগী। সর্দি-কাশির জন্য দায়ী অ্যাডিনোভাইরাস বর্তমানে তার রূপ বদলাতে শুরু করেছে। আইসিএমআর জানাচ্ছে, অ্যাডিনোভাইরাসের অসংখ্য উপরূপ তৈরি হয়েছে যার মধ্যে অ্যডিনোভাইরাস-এফ উপরূপটি সবচেয়ে বেশি সংক্রামক। এটি শরীরে ঢুকলে অগ্ন্যাশয়ে সংক্রমণের কারণও হতে পারে। কেবল বমি, পেট খারাপ নয়, প্যানক্রিয়াটাইটিসের কারণ হয়ে উঠতে পারে এই ভাইরাস।
চিকিৎসক অর্পণ সাহার মতে, ‘‘শিশুর ডায়েরিয়া হলে অযথা ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এই সময়ে খাবার বন্ধ নয়, বরং সঠিক খাবার দেওয়া খুব জরুরি। কিছু খাবার দ্রুত ভাল হতে সাহায্য করে, আবার কিছু খাবার সমস্যা বাড়াতে পারে—তাই একটু সচেতন থাকুন।’’
শিশুর ডায়েরিয়া হলে কী কী খাওয়াবেন?
১) ভাত, মুড়ি, চিঁড়ে, সাবু
২) মুসুর বা মুগডালের পাতলা জল
৩) আলু, কাঁচকলা, লাউ
৪) আপেল সেদ্ধ, বেদানার রস
৫) বাড়িতে পাতা টক দই, ছানা
৬) পাতলা মাছের ঝোল
৭) চিকেন স্ট্যু (হালকা, কম মশলা), সেদ্ধ ডিম
৮) ডাবের জল + ওআরএস (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
শিশুর ডায়েরিয়া হলে কী কী খাওয়াবেন না?
১) আটা/ময়দা (রুটি, পরোটা, বিস্কুট ইত্যাদি)
২) দুধ ও দুধজাত খাবার যেমন মিষ্টি দই, পনির, আইসক্রিম
৩) অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার
৪) ঘন ডাল, ছোলা, রাজমা (গ্যাসের সমস্যা থাকলে)
৫) ফাস্ট ফুড (চিপ্স, চাউমিন)
৬) সোডা/কোল্ড ড্রিংক, অতিরিক্ত মিষ্টি
৭) বাসি খাবার
৮) পাকা কলা, কমলালেবু, মুসাম্বি, পেয়ারা, আঙুরের মতো ফল
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে?
১) শিশু বার বার বমি করলে সতর্ক হোন।
২) শিশু জল বা ওআরএস একেবারেই খেতে না চাইলে।
৩) প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে।
৪) শিশু দুর্বল হয়ে পড়লে, সারা ক্ষণ ঘুম ভাব দেখা দিলে।