ওজন কমবে, ট্যাবলেট খেলেই কাজ হবে দ্রুত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ওজন কমানোর ওষুধ নিয়ে আলোচনা ইদানীং কালে খুবই বেশি। একটির পর একটি ওষুধ আসছে। তবে বেশির ভাগই ইঞ্জেকশন। ওজন কমানোর যে ওষুধগুলির নাম এখন চেনা, তার মধ্যে ওজ়েম্পিক, মাউনজ়েরো, সবই ইঞ্জেকশন হিসাবে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, সুচ ফুটিয়ে ওষুধ নিতে হয়। খাওয়ার ওষুধ বলতে একমাত্র ওয়েগোভি যা টাইপ ২ ডায়াবিটিস কমানোর ওষুধ, তা ওজন কমাতেও কাজে আসছে বলে দাবি। এখন আরও একটি ওষুধ আসতে চলেছে বাজারে, যেটিও ট্যাবলেটের মতোই খেতে হয়। ওষুধটি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ এই ওষুধ ওজ়েম্পিক, মাউনজ়েরো বা ওয়েগোভির চেয়ে অনেকটাই আলাদা বলে দাবি করা হয়েছে। সেটি সুগারের ওষুধ নয়, স্থূলত্ব কমাতেই তৈরি করা হয়েছে।
আমেরিকার ওষুধ নির্মাতা সংস্থা এলি লিলি ওষুধটি তৈরি করেছে, এর নাম অরফোরগ্লিপ্রন। ব্র্যান্ড নাম ফাউন্ডায়ো। এই ওষুধটিকে অনুমোদন দিয়েছে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। এই ওষুধটি খেলে খুব তাড়াতাড়ি ১২ কেজি ওজন কমবে বলে দাবি এলি লিলি-র গবেষকদের।
ফাউন্ডায়ো ট্যাবলেটের আকারেই পাওয়া যাবে বাজারে। ওষুধ নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছে, ওয়েগোভির চেয়ে অনেকটাই আলাদা ফাউন্ডায়ো। ওয়েগোভি বা মাউনজ়েরোর মতো ওষুধ জিএলপি-১ গোত্রের। অর্থাৎ, জিএলপি-১ হরমোনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে খিদে কমায়। আবার রক্তে শর্করাও নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ফাউন্ডায়ো জিএলপি-১ গোত্রের ওষুধ নয়। সেটি ট্যাবলেটের মতো খেলে খিদে কমে যাবে, সব সময়ে পেট ভরতি লাগবে এবং বিপাক ধীর গতিতে হবে। এই ওষুধের সুবিধা হল, দিনের যে কোনও সময়ে খাওয়া যাবে। সময়ের কোনও বাধকতা নেই। এটি খুব সহজেই রক্তে মিশে যেতে পারে। তা ছাড়া এ ওষুধ সাধারণ ট্যাবলেটের মতোই রেখে দেওয়া যায়। সংরক্ষণের কোনও কড়া নিয়ম নেই।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা এই ওষুধের ডোজ় ঠিকমতো নিয়েছেন, তাঁদের গড়ে প্রায় ১২ কেজি অবধি ওজন কমেছে। ওজন কমানোর খাওয়ার ওষুধ এখনও এ দেশে আসেনি। তবে খুব তাড়াতাড়ি ওষুধটি এ দেশেও আসতে পারে বলে জানা গিয়েছে।