Food Safety

প্যাকেটের খাবার কেনার আগে লেবেলটি পড়েন কখনও? স্বাস্থ্যকর না ক্ষতিকর, চেনার ৫ উপায় শেখাল এফএসএসএআই

বিপণিতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খুঁজছেন। প্যাকেটজাত পণ্য কেনার সময় লেবেল মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন কি? খাবারের মান বুঝতে কোন কোন বিষয় দেখবেন? কী ভাবে বুঝবেন সেটি স্বাস্থ্যকর, তা চেনার উপায় শিখিয়ে দিল খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১২:২৩
Share:

প্যাকেটের লেবেল পড়ে কী ভাবে বুঝবেন খাবারটি স্বাস্থ্যকর বা ক্ষতিকর? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে চোখ চকচকে মোড়কের দিকেই বেশি যায়। প্যাকেটের উপর সাঁটা লেবেলে কী লেখা আছে, তা পড়েন আর কত জনে? ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও নিয়ামক সংস্থা (এফএসএসএআই) জানিয়েছে, প্যাকেটজাত সব খাবার স্বাস্থ্যকর নয়। কোনওটিতে ভেজাল মেশানো থাকে, কোনওটিতে আবার স্বাস্থ্যকর লেখা থাকলেও, এমন কিছু রাসায়নিক মেশানো থাকে যা ছোটদের জন্য বিপজ্জনক। কাজেই প্যাকেটের যে কোনও খাবার কেনার আগে তার লেবেলটি পড়ে নেওয়া জরুরি। তবে এ কথাও ঠিক, লেবেল পড়ে খাবারের গুণমান বোঝা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সহজ কিছু নিয়ম শিখিয়ে দিয়েছে এফএসএসএআই।

Advertisement

লেবেল দেখে কী ভাবে বুঝবেন খাবারটি নিরাপদ?

এফএসএসএআই লাইসেন্স নম্বর ও লোগো

Advertisement

প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে প্রথমেই এফএসএসএআইয়ের লোগো ও ১৪ সংখ্যার লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি দেখে নিন। এটি থাকলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, খাবারটির গুণমান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের যাচাই করা এবং সেটি সুরক্ষা বিধি মেনেই তৈরি করা হয়েছে।

লেবেলের প্রথম তিন নাম

লেবেলের উপাদানের তালিকাটি সাজানো থাকে পরিমাণের ক্রমানুসারে। সবচেয়ে বেশি যে উপাদানটি থাকে, তার নাম লেখা থাকে প্রথমেই। তাই লেবেলের প্রথম তিন থেকে চারটি নাম দেখে নিন আগে। তালিকায় যদি প্রথম তিনটির মধ্যে দানাশস্য থাকে বা ডেল অথবা ফলের নাম থাকে, তা হলে বুঝতে হবে সেটি খাওয়া নিরাপদ। আর প্রথম থেকেই যদি সুগার, সিরাপ বা কোনও প্রিজ়ারভেটিভের নাম দেখতে পান, তা হলে সেটি না কেনাই ভাল।

মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার সময়

খাবারটি কতদিন পর্যন্ত খাওয়ার যোগ্য, তা যাচাই করতে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার সময় দেখে নিন। এটি ফ্রিজে রাখতে হবে না কি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে, সেটিও দেখে নেওয়া ভাল। খাবারটি কী ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে তার উল্লেখ থাকে পণ্যের প্যাকেজিংয়েই। যদি দেখেন, খাদ্য সুরক্ষা দফতরের নির্দেশিকা মেনে সেটি সংরক্ষিত, তা হলে বুঝবে হবে সেটি খাওয়া নিরাপদ। আর যদি সংরক্ষণ নিয়ে কোনও তথ্যই দেওয়া না থাকে, তা হলে বুঝতে হবে সেটি খাওয়া নিরাপদ না-ও হতে পারে।

অ্যালার্জেনের নাম রয়েছে কি?

বিশেষ কিছু খাবারে অ্যালার্জি হয় অনেকেরই। তাই কেনার আগে লেবেলে দেখে নিন, তাতে বাদাম, সয়া, ডেয়ারি বা গ্লুটেনের নাম লেখা আছে কি না। অ্যালার্জেনের নাম যদি স্পষ্ট ভাবে লেখা থাকে, তা হলেই বুঝতে হবে সেটি নিরাপদ।

‘আইএনএস’ নম্বর চিনুন

যে কোনও প্যাকেটজাত খাবারের লেবেলে আইএনএস (ইন্টারন্যাশনাল নাম্বারিং সিস্টেম ফর ফুড অ্যাডিটিভস) কোড দেওয়া থাকে। সেই কোড দেখে বুঝতে হবে কোন কোন রাসায়নিক দেওয়া আছে। এর মধ্যে ফুড কালারও পড়ছে। প্যাকেটে অনেক সময়ে আইএনএস-এর বদলে ‘ই’ দিয়ে নম্বর লেখা থাকে। সেটা হল ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড। আইএনএস বা ই যা-ই থাকুক না কেন, রাসায়নিকের কোড নম্বর একই হবে।

আইএনএস ২১১, যার নাম সোডিয়াম বেনজ়োয়েট— এটি বেশ ক্ষতিকর। শিশুদের মধ্যে এডিএইচডি (অ্যাটেনশন-ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিজ়অর্ডার) বৃদ্ধি করতে পারে।আইএনএস ২৫০, সোডিয়াম নাইট্রাইট— ক্যানসার, মস্তিষ্কের সচলতা কমিয়ে দেওয়া, স্নায়ুর রোগের কারণ হতে পারে।

আইএনএস ৩২০, ৪৭৭ মানে তাতে ক্ষতিকর পাম অয়েল আছে। বিস্কুট, কেক, কুকিজ়, চিপসের প্যাকেটে এমন নম্বর দেখলে সাবধান।

বাজারচলতি জুসের প্যাকেটে যদি আইএনএস ১০৭, ১১০, ১২৮ লেখা থাকে, তা হলে জানবেন সেটি ক্ষতিকর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement