Child Health Dark Patches

শিশুর ঘাড়ে ও বাহুমূলে কালচে দাগ! অপরিচ্ছন্নতা নয়, বিশেষ রোগের ইঙ্গিত বহন করছে ত্বকের এই বদল

ঘাড় বা বাহুমূলে কালচে দাগকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ এটি প্রায়ই একটি নির্দিষ্ট রোগের লক্ষণ, যাকে বলা হয় অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকান্‌স। কী কী হতে পারে এই রোগ থেকে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩২
Share:

শিশুদের ঘাড়ে বা বাহুমূলে কালচে দাগ কেন? ছবি: সংগৃহীত।

ঘাড় বা বাহুমূলের কাছে ত্বক কালচে হওয়ার কারণ অপরিচ্ছন্নতা নয়। ঠিক মতো পরিষ্কার করলেও এই দাগ সহজে দূর হয় না। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, বিষয়টা এতটা সহজ নয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন অনেক সময়ে শরীরের ভিতরের বড় কোনও ইঙ্গিত বহন করে। তাই অতিরিক্ত স্ক্রাব করে শিশুদের ত্বককে কষ্ট দেবেন না। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জানতে হবে, শরীরে কোনও রোগ বাসা বেঁধেছে কি না।

Advertisement

শিশুরোগ চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের কালচে দাগকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ এটি প্রায়ই একটি নির্দিষ্ট রোগের লক্ষণ, যাকে বলা হয় অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকান্‌স। এতে ত্বকে কালচে দাগ পড়ে, এবং স্পর্শ করলে বোঝা যাবে, দাগটি মোটা ও মখমলের মতো হয়। এটি সাধারণত ঘাড়ে, কুঁচকিতে এবং বাহুমূলের মতো শরীরের ভাঁজে ভাঁজে দেখা যায়। অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস প্রায়শই স্থূলত্ব বা ডায়াবিটিস-সম্পর্কিত ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সের কারণে ঘটে থাকে। তবে হরমোনজনিত সমস্যা বা ওষুধের কারণেও এটি হতে পারে। সাধারণত ক্ষতিকর না হলেও, শরীরের ভিতরে বিপাকীয় সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে কখনও সখনও। আবার বিরল ক্ষেত্রে এটি ক্যানসারেরও সতর্কবার্তা হতে পারে।

শিশুদের ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি হওয়া দরকার অভিভাবকদের। কারণ, এর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সেরই। অর্থাৎ, শরীর ঠিক ভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারছে না। এই অবস্থায় রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ঘাড়, বাহুমূল বা শরীরের ভাঁজে কালচে দাগ তৈরি হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, অনেক সময়ে এটি ভবিষ্যতে ডায়াবিটিস বা হরমোনজনিত সমস্যার ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে যে সব শিশুর ওজন বেশি বা শারীরিক ভাবে সক্রিয় নয়, তাদের ত্বকে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়। শরীরে ইনসুলিন হরমোনের তারতম্য হলে ত্বকের মেলানিন রঞ্জকের তারতম্য দেখা দেয়।

Advertisement

এটি শুধু ত্বকের সমস্যা নয়। তাই শুধু ক্রিম বা ঘরোয়া টোটকা দিয়ে এর সমাধান খুঁজবেন না। অপরিচ্ছন্নতা ভেবে শিশুকে কষ্ট দেবেন না। মূল কারণ খুঁজে বার করে সেটার চিকিৎসা করানো জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement