স্পাইডার অ্যাঞ্জিয়োমা কী, ত্বকে কী বদল দেখা দিতে থাকে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
লিভারের রোগ আগে থেকে বোঝা যায় না। অনেকেই ভাবেন, লিভারের অসুখ মানেই জন্ডিস হবে অথবা পেট ভার বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেবে। ঘন ঘন অম্বলও ভোগাবে। সব ক্ষেত্রে তা না-ও হতে পারে। লিভারের রোগের এমন কিছু উপসর্গ আছে, যা ফুটে ওঠে ত্বকে। সেই সব লক্ষণ দেখে বোঝা যাবে যে লিভার মোটেই ভাল নেই। ফ্যাটি লিভার হোক বা তার চেয়েও ভয়াবহ সিরোসিস, বোঝা যেতে পারে ত্বকের কিছু বদল দেখেই।
লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকলে শরীরে টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে রক্তে পিত্তরঞ্জক ও অন্যান্য রাসায়নিকের মাত্রাও বেড়ে যায়। এর জেরে ত্বকে বেশ কিছু বদল লক্ষ্য করা যায়।
হাতের তালুতে লালচে ভাব
দুই হাতের তালুতে লালচে ছোপ ফুটে উঠবে। তাতে কোনও জ্বালা বা চুলকানি হবে না। তবে হাতের তালু ফুলে উঠবে এবং লালচে ছোপ আরও বেশি ছড়াতে থাকবে। লিভারের রোগ হলে হরমোনগুলির ক্ষরণ অনিয়মিত হয়ে যায়। ফলে হাতের তালুর রক্তনালিগুলি প্রসারিত হয়, সেখানে প্রদাহ শুরু হয়।
স্পাইডার অ্যাঞ্জিয়োমা
এটি লিভারের অসুখের, বিশেষ করে লিভার সিরোসিসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত। এতে মূলত ত্বকের ঠিক নীচে থাকা রক্তনালির সমন্বয় নষ্ট হয়ে যায়। দেখতে হয় অনেকটা মাকড়সার জালের মতো। ছোট ছোট রক্তনালিগুলি এমন ভাবে প্রসারিত হতে থাকে যে মনে হয় ত্বকের নীচে মাকড়সার জাল তৈরি হয়েছে। এই লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে লিভারে ক্ষত তৈরি হচ্ছে।
স্পাইডার ভেন
অনেক সময়েই দেখা যায় পায়ের পাতায় জালের মতো নীল বা সবুজ শিরা দৃশ্যমান। ওই ধরনের উপসর্গকে বলা হয় স্পাইডার ভেন। শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন বাড়লে এমনটা হতে পারে। লিভারের অসুখ হলে হরমোনের তারতম্য ঘটতে থাকে। তাই ওই সময়ে এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
স্ট্যাটিস ডার্মাটাইটিস
চুলকানি, গোড়ালি ফুলে ওঠা এবং পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে কালচে ছোপ পড়লে বুঝতে হবে লিভারের রোগ বাসা বাঁধছে। লিভারের অসুখ হলে অনেক সময়েই শরীরের ধমনীগুলির উপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয়। বিশেষ করে লিভারে গভীর ক্ষত বা সিরোসিস হলে তখন হাতে, পায়ে জল জমা হতে থাকে। ফলে গোড়ালি ফুলে ওঠে, পায়ের ত্বকে কালচে ছোপ পড়তে থাকে। এই সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘স্ট্যাটিস ডার্মাটাইটিস’। এমন লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।