Diabetes Risk in Summer

গরমে ডায়াবিটিস কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে থাকছে না! ডিহাইড্রেশনের কারণে সুগার বাড়ছে না তো?

গরমকালে জল কম খেলে, বিপদ বাড়তে পারে আরও বেশি, কারণ জলশূন্যতা বা জলের ঘাটতি তেমন পর্যায়ে পৌঁছোলে এর থেকে রক্তের শর্করার মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। জেনে নিন শরীরে জলের সঙ্গে ডায়াবিটিসের সম্পর্ক কি?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ১৭:৩৬
Share:

ডিহাইড্রেশন থেকে সুগার বেড়ে যেতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।

ক্রমশই বাড়ছে গরমের দাপট। তার উপর আর্দ্রতার বাড়াবাড়িতে ঘামও হচ্ছে যথেষ্ট। এক দিকে গরম, অন্য দিকে ঘাম— তাতেই জল বেরিয়ে যায় শরীর থাকে। গরমের দিনে ঘাম হয় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। কিন্তু ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে শুধু জল নয়, দ্রুত বেরিয়ে যায় লবণ এবং খনিজও। তা থেকেই ঘটতে পারে জলশূন্যতা। গরমকালে জল কম খেলে, বিপদ বাড়তে পারে আরও বেশি, কারণ জলশূন্যতা বা জলের ঘাটতি তেমন পর্যায়ে পৌঁছোলে এর থেকে রক্তের শর্করার মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।

Advertisement

ডায়াবেটিকদের গরমের সময়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। ডিহাইড্রেশন হলে ডায়াবিটিসজনিত সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। রক্তে সুগারের মাত্রা বেশি হলে অতিরিক্ত শর্করা মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। শরীরে জলশূন্যতা হলে মস্তিষ্কের পিছনের দিক থেকে অ্যান্টি-ডাইইউরেটিক হরমোন বা এডিএইচ বেরোতে শুরু করে। এই হরমোন শরীরকে জল ধরে রাখার জন্য সংকেত পাঠাতে থাকে, ফলে মূত্রের পরিমাম কমে যায়। মূত্র কম হলে শরীরের অতিরিক্ত গ্লুকোজ় আর বেরোতে পারবে না।

তাই, চিকিৎসকদের মতে গরমের সময়ে দিনে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লিটার জল খেতেই হবে। এর পাশাপাশি কিছু লক্ষণের বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। ডিহাইড্রেশনে কিছু অজানা উপসর্গও জেনে রাখুন।

Advertisement

১) ডিহাইড্রেশন হলে শরীরের মাংসপেশিগুলিতেও জল পৌঁছোয় না। তাই চট করে হাত-পায়ে টান লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাঁটতে গেলে বা দৌড়োতে গেলে কিংবা ওঠাবসার সময়ে কি প্রায়ই টান লাগছে? তা হলে কিন্তু জল খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে।

২) দীর্ঘ দিন শরীরে জলের ঘাটতি হলে, লিভার ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। লিভার জলের সাহায্যে গ্লাইকোজেন তৈরি করে, যা শক্তি জোগায়। কিন্তু সেটা ঠিক মতো না হলে শরীরের আরও বেশি খাবারের প্রয়োজন হবে। তাই নোনতা খাবার, চকোলেট, মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

৩) মাথা যন্ত্রণার সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তার মধ্যে একটি কারণ হল ডিহাইড্রেশন। শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়। তাই সারা ক্ষণ মাথা যন্ত্রণা হতে থাকলে বেশি করে জল খান।

৪) গরমে এমনিতেই ত্বক রুক্ষ থাকে। তার উপর যদি শরীরে জলের ঘাটতি হয়, তা হলে এই সমস্যা অনেক বেড়ে যায়। ত্বক অত্যধিক শুকিয়ে যায়। ঠোঁট ফাটতে শুরু করে। এমনিতে ত্বক কি অনেক ক্ষণ কুঁচকেই থাকছে? তা হলে আরও জল খাওয়া প্রয়োজন।

৫) যদি হঠাৎ প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রেও বুঝতে হবে শরীরে জলের অভাব রয়েছে। এ ছাড়াও শরীরে জলের ঘাটতির কারণে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং প্রস্রাব করার সময়ে জ্বালা বোধ হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement