Heart Attack Risks

হার্ট অ্যাটাক কী ভাবে হয় জানেন? ধমনীর ভিতরে ঠিক কী ঘটে, যার ফলে অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে

হার্ট অ্যাটাক আসলে বছরের পর বছর ধরে হয়ে চলা এক নীরব প্রক্রিয়ার শেষ পরিণতি। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য একাধিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার অনেক আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই আগে থেকেই জেনে নেওয়া দরকার।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০১
Share:

হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত কোনটি? ছবি: সংগৃহীত।

হার্ট অ্যাটাক কেন হয়? হলে কী হয়? উপসর্গ কী? তা নিয়ে অল্পবিস্তর জ্ঞান অধিকাংশেরই রয়েছে। কিন্তু কী ভাবে এই হৃদ্‌রোগ ঘটে, চিকিৎসক ছাড়া সেই বিষয়ে তথ্য কম লোকের কাছেই থাকে। হার্ট অ্যাটাককে অনেক সময়ে হঠাৎ ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা বলে ভাবেন কেউ কেউ। যেন এক মুহূর্তেই সব কিছু ঘটে গেল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। হার্ট অ্যাটাক আসলে বছরের পর বছর ধরে হয়ে চলা এক নীরব প্রক্রিয়ার পরিণতি। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য একাধিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার অনেক আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই আগে থেকেই জেনে নেওয়া দরকার, আপনার ধমনীর ভিতরে আদপে কী ঘটে চলেছে, যাতে সময় মতো পদক্ষেপ করতে পারেন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতার মধ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

প্রথম ধাপ শুরু হয় ধীরে ধীরে। ধমনীর ভিতরের আস্তরণ একেবারে মসৃণ থাকে না চিরকাল। উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ধূমপান, রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকা— এ সব কারণে সেই আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এই আস্তরণ ক্ষতি হওয়া থেকেই বিপদের শুরু। আস্তরণটি আসলে জীবন্ত টিস্যু। এ বার প্রশ্ন উঠবে, ধমনীর ভিতরের আস্তরণ নষ্ট হওয়ার পর কী ঘটে?

হার্ট অ্যাটাক হয় কী ভাবে? ছবি: সংগৃহীত

এর পর শরীর নিজে থেকেই সেই ক্ষতি মেরামত করার চেষ্টা করে। কিন্তু এই মেরামতের ধাপে ধমনীর দেওয়ালে চর্বি, কোলেস্টেরল জমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সেটিই শক্ত হয়ে প্লাক তৈরি করে। যাকে বলা হয় অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস। এই জমাট স্তর রক্তনালিকে সরু করে দেয়। ফলে রক্ত চলাচল কঠিন হয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন অনেক সময়ে কোনও লক্ষণই দেয় না। তাই কেউ বুঝতেই পারেন না, ভিতরে ভিতরে কী ভাবে সমস্যা বাড়ছে। এর ফলেই হার্ট অ্যাটাক হয়?

Advertisement

কেবল ধমনী সরু হয়ে যাওয়া বা ধমনীতে প্লাক জমার কারণেই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয় না। এর পরেও আর একটি বড় ঝুঁকি থাকে। যাকে সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত বলা যেতে পারে। আসল ঝুঁকি তৈরি হয় যখন, এই প্লাক হঠাৎ ফেটে যায়। ফেটে গেলে সেখানে দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধে। আর সেই জমাট যদি রক্ত চলাচল পুরো বন্ধ করে দেয়, তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। এ ক্ষেত্রে শক্ত প্লাকের চেয়েও নরম প্লাক সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক, কারণ নরম প্লাক দ্রুত ফেটে যায়। আর যদি ধমনী এমনিতেই সরু থাকে আগে থেকে, তা হলে রক্ত চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ, হার্ট অ্যাটাক সব সময়ে পুরোপুরি ব্লক হয়ে যাওয়া নালির জন্য হয় না, বরং ভঙ্গুর প্লাক ফেটে যাওয়াই অনেক সময়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে রোজের কিছু অভ্যাস যেমন, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, স্থূলত্ব, মানসিক চাপ আর শরীরচর্চার অভাব। এগুলি নীরবে রক্তনালির ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়। তবে শরীর আগে থেকেই কিছু সঙ্কেত দেয় যেমন, অকারণ ক্লান্তি, হাঁটলে বা কাজ করলে বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বা হাত, পিঠ, চোয়ালে অস্বস্তি। এগুলিকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তাই প্রতিরোধ শুরু করতে হয় অনেক আগেই।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement