Hearing Loss

শ্রবণশক্তি হ্রাসের কারণ কি হতে পারে কিডনির রোগ? উচ্চ রক্তচাপেও ক্ষতি হয় একই রকম, কী ভাবে?

উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির রোগে যে কানেরও ক্ষতি হয়, তা জানতেন কি? রক্তচাপ বাড়লে কানের ভিতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। অনেক সময়েই তা বোঝা যায় না। আর কিডনির সমস্যায় এমন টক্সিন জমা হয়, যা বিপজ্জনক। এর থেকে বধিরতাও আসতে পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫২
Share:

কিডনির রোগ বা উচ্চ রক্তচাপ কী ভাবে শ্রবণশক্তি কমিয়ে দিতে পারে ? ছবি: ফ্রিপিক।

রক্তচাপের হেরফের খুব বেশি হলে কানের সমস্যাও হতে পারে। আবার একই সমস্যা হয় কিডনির রোগেও। হঠাৎ করে কানে কম শোনা, একটানা ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া অথবা হাঁটাচলার সময়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়াও কিন্তু এর লক্ষণ। উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির রোগে শ্রবণশক্তির ক্ষতি কী ভাবে হয়, সে বিষয়ে ধারণা নেই অনেকেরই। তাই লক্ষণ দেখা দিলে তা এড়িয়ে যাওয়া হয় অনেক সময়েই।

Advertisement

উচ্চ রক্তচাপে কানের ক্ষতি

সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, শোনার প্রক্রিয়াটি কানের ভিতরের সূক্ষ্ম রক্তনালি ও স্নায়ুর উপর নির্ভরশীল। রক্তচাপ খুব বেড়ে গেলে কানের ভিতরের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলির ক্ষতি হয়। অনেক সময়ে সেগুলি ছিঁড়ে যায়। রক্তক্ষরণ হতে থাকে, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। এর ফলে কানের ‘কক্‌লিয়া’ অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ‘কক্‌লিয়া’ থাকে অন্তঃকর্ণে। এর কাজ হল শব্দতরঙ্গকে স্নায়ুসঙ্কেতে রূপান্তরিত করে মস্তিষ্কে পাঠানো। কক্‌লিয়ার সমস্যা হলে শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।

Advertisement

আরও একটি সমস্যা দেখা দেয়। উচ্চ রক্তচাপে কানের ভিতরের সংবেদনশীল স্নায়ুকোষ ও রক্তজালিকাগুলির ক্ষতি হয়। স্নায়ুকোষগুলি এক বার নষ্ট হয়ে গেলে আর তৈরি হয় না। ফলে রক্তচাপ যদি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়, তা হলে সে থেকে শ্রবণ ক্ষমতা পুরোপুরি চলে যেতে পারে।

কক্‌লিয়ার ক্ষতি হলে ‘টিন্নিটাস’ রোগ হতেও দেখা যায়। সর্ব ক্ষণ কোনও কিছু আওয়াজ শুনতে পাওয়া, কানের ভিতর একটানা ঝিঁঝিঁ-র ডাক, কখনও জোরে গর্জন শুনতে পাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয় এই রোগে। সারা ক্ষণ কান ভোঁ-ভোঁ করতে থাকে।

কিডনির রোগে কী ভাবে ক্ষতি হয় শ্রবণ ক্ষমতার?

কিডনির অসুখ বিপজ্জনক। সিডিসি জানাচ্ছে, কিডনির রোগের চিকিৎসা চলছে বা ডায়ালিসিস চলছে, এমন মানুষজনের শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। কিডনির রোগে আক্রান্ত ৪০ থেকে ৭০ শতাংশেরই এই সমস্যা হয়। আসলে, ভ্রূণ অবস্থায় যখন মানুষের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি হয়, তখন কান এবং কিডনির কোষীয় গঠন একই রকম থাকে। তাই কিডনির ক্ষতি হলে, তার প্রভাব পড়ে কানেও।

কিডনি অকেজো হতে থাকলে রক্তে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিনের মতো বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। এগুলি কানের সূক্ষ্ম কোষগুলিকে নষ্ট করতে থাকে। পাশাপাশি, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। ফলে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হয়। কিডনির রোগীদের এমন ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়, যেগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকে। সে কারণেও কানে শোনার ক্ষমতা কমতে থাকে।

কী কী লক্ষণ দেখা দেবে?

রক্তচাপ কখনওই নিয়ন্ত্রণে থাকে না এমন রোগীর এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের রোগী যাঁরা ধূমপান বেশি করেন, তাঁদেরও শ্রবণশক্তির সমস্যা হতে পারে।

অনেক সময় রোগী বুঝতে পারেন না যে, তিনি কানে কম শুনছেন। খেয়াল করবেন, কেউ কোনও কথা বলে তা অস্পষ্ট ভাবে শুনতে পাবেন, মনে হবে সামনের মানুষটি বিড়বিড় করছেন।

এক বারে কথা শুনতে না পাওয়াও এর লক্ষণ হতে পারে। এমনকি, ফোনের কথাও স্পষ্ট শুনতে সমস্যা হবে।

শ্রবণশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। তাই শুরু থেকেই লক্ষণ চিনে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির রোগ ধরা পড়লে বছরে অন্তত এক বার কানেরও পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। উচ্চ শব্দে গান শোনার অভ্যাস থাকলে, তা বন্ধ করতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement