রাঁধার ভুলেই স্বাস্থ্যকর খাবারও হয়ে উঠতে পারে অস্বাস্থ্যকর। ছবি: সংগৃহীত।
আদতে স্বাস্থ্যকর, কিন্তু তা খেয়েই হতে পারে বদহজম। হতে পারে পেট ব্যথাও। আপাতদৃষ্টিতে কোনও সমস্যা নেই, তা-ও এমনটা হতেই পারে, মনে করাচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার স্বাস্থ্যকর খাবারই সামান্য ভুলে হয়ে উঠতে পারে অস্বাস্থ্যকর।
রাজমা: কিডনি বিন বা রাজমা পু্ষ্টিতে ভরপুর, ফাইবারও মেলে এতে। উপকারী খাবারের তালিকায় তার ঠাঁই। কিন্তু কোনও কারণে, রাজমা ঠিকমতো ভেজানো না হলে বা শক্ত অবস্থায় খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। আধকাঁচা বা আধসেদ্ধ রাজমায় মেলে ‘হেমাগ্লুটিনিন’ নামক একটি উপাদান, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী নয়। রাজমা ভাল করে ভেজানোর পরে সেদ্ধ করে নিলে, এই উপাদান আর থাকে না। তাই রান্নার সময় বা রাজমা দিয়ে স্যালাড বানালে অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত। তা ছাড়া এই ধরনের বিন বা ডাল জাতীয় খাবারে মেলে অলিগোস্যাকারাইড, যাতে থাকে জটিল শর্করা। ফলে ক্ষুদ্রান্ত্রে তা ঠিকমতো হজম হয় না। বৃহদন্ত্রে গিয়ে গ্যাস উৎপন্ন করে। এই ধরনের খাবার খাওয়ার সঠিক উপায় হল অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা রাজমা ভাল করে জলে ভিজিয়ে রাখা। তার পরে ঠিক মতো সেদ্ধ করে রান্না করা।
আলু: নিরামিষ তরকারি হোক বা মাংসের ঝোল, আলু দেওয়া যায় সব কিছুতেই। ভাতে থেকে চোখা— আলু একাই একশো। তবে এই আলু ক্ষতিকর হতে পারে তাতে সবুজ দাগ থাকলে, আলুতে গাছ গজিয়ে উঠলে। কাঁচা বা সবুজ হয়ে থাকা আলুতে মেলে সোলানাইন নামে এক উপাদান, যা বিষাক্ত। তবে আলু ভাল করে সেদ্ধ করে খেলে অথবা আলু পরিপক্ব হয়ে যাওয়ার পরে খেলে সেই ভয় থাকে না। তা ছাড়া আলু-সহ যে কোনও সব্জি চাষেই রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহার হয়। ফলে আলু খুব ভাল করে ধুয়ে নিয়ে রান্না করা ভাল। না হলে তা থেকে পেটের সমস্যা হতে পারে।
মধু: মধু উপকারী হলেও খুব ছোটদের জন্য তা ভাল নয়। বিশেষত এক বছরের শিশুকে তা খাওয়ানো ঠিক নয়। মধুতে বোটুলিজ়ম স্পোর বা ক্লসট্রিডিয়াম বোটুলিনাম ব্যাক্টেরিয়া থাকতে পারে। এই ধরনের ব্যাক্টেরিয়া শিশুর অন্ত্রে বংশবৃদ্ধি করে। ফলে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এক বছরের উপরের শিশুকে মধু খাওয়ানো হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।