Screen time and Attention

দিনে কত বার মোবাইলে চোখ রাখেন? ৮০ থেকে ৯০ বার পেরোলেই বিপদ, কী বদল ঘটতে থাকে মস্তিষ্কে?

একটানা ‘স্ক্রিন টাইম’ আর বারে বারে ফোনের দিকে তাকানো— এই দুই অভ্যাসই ক্ষতিকর। তবে দ্বিতীয়টির পাল্লা কিছু বেশি। কিছু সময় অন্তরই যদি ফোনে চোখ রাখেন, তা হলে সেটি যে কেবল চোখের ক্ষতি করছে, তা নয়। এক আশ্চর্য বদলও ঘটতে থাকে মস্তিষ্কে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪৭
Share:

বারে বারে ফোন দেখলে কী বদল ঘটে যায় মস্তিষ্কে? ফাইল চিত্র।

সকালে চোখ খুলেই বালিশের পাশে রাখা মোবাইলটা খোঁজেন। তার পর প্রাতরাশ করতে করতে বা অফিস যাওয়ার সময়ে বাসে বা মেট্রোতে আরও একবার স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে নেন। অফিসে কাজের ফাঁকে বারে বারেই হাত চলে যায় মোবাইলে। একটানা কাজের মাঝে বিরতি বলতে ওইটুকুই। এখন অনেকেই বলবেন, একটানা ‘স্ক্রিন টাইম’ ক্ষতিকর। তাই বিরতি নিয়ে ফোনের দিকে তাকালে ক্ষতি কী? একটানা ফোন দেখে যাওয়া আর বারে বারে ফোনে চোখ রাখা— দুই অভ্যাসই ক্ষতিকর। দ্বিতীয়টির পাল্লা বেশি ভারী। কারণ গবেষণা বলছে, যত বার আপনি কাজের মাঝে ফোনের দিকে তাকাবেন, তত বারই এক আশ্চর্য বদল ঘটে যাবে মস্তিষ্কে। যা মোটেই সুখকর নয়।

Advertisement

দিনে ৮০ থেকে ৯০ বার কি ফোনের দিকে তাকান?

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা রয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, বারে বারে ফোন দেখলে মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে। ওই সময়ে মস্তিষ্ক যে কাজে নিয়োজিত ছিল, তার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে আগের কাজটির সঙ্গে পরের কাজটির সমন্বয়ই তৈরি হয় না। এতে মনোযোগ তো নষ্ট হয়ই, স্মৃতিশক্তিও নষ্ট হতে থাকে।

Advertisement

বিষয়টি বুঝিয়ে বলা যাক। ধরুন, অফিসের কোনও কাজ করছেন মন দিয়ে। হঠাৎ মনে হল ফোন দেখা দরকার। প্রয়োজন ছাড়াই ফোন হাতে নিয়ে রিল দেখতে শুরু করলেন। এতে যে কাজটি করছিলেন সেটির সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন তো হলই, মস্তিষ্কও বিভ্রান্ত হল যে আপনি ঠিক কোন কাজে মনোযোগ দিতে চাইছেন। এতে সাময়িক ভাবে স্নায়ুর কার্যকারিতাতেও বিঘ্ন ঘটে। মস্তিষ্ক থেকে সঙ্কেত বহনকারী নিউরোট্রান্সমিটার ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। একটা সাময়িক শূন্যস্থান তৈরি হয়। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ওই সময়টাতে মস্তিষ্কের কোষে কোষে এমন কিছু রাসায়নিক বদল ঘটে যায়, যা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে তোলে। তাই যদি বারে বারেই এমন হতে থাকে, তা হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

হার্ভার্ডের গবেষণা বলছে, দিনে ৮০ থেকে ৯০ বা কিছু ক্ষেত্রে ১০০ বারেরও বেশি ফোন দেখার অভ্যাস আছে অনেকেরই। এতে বারে বারে মনোযোগের বিঘ্ন ঘটে। পরবর্তী সময়ে গিয়ে আর কোনও কাজেই মন বসে না। উৎসাহ হারিয়ে যায়, হতাশা গ্রাস করে মনকে। আরও কিছু সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, প্রতি বার ফোনের নোটিফিকেশন বা রিল দেখলে মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক ভাল লাগার হরমোন ক্ষরিত হয়। এই হরমোনের কাজ হল আনন্দ দেওয়া, ভাল লাগার অনুভূতি তৈরি করা। এখন ৮০-৯০ বার ফোন দেখা মানে, বার বারই ডোপামিন নির্গত হবে। এতে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তখন রোজের স্বাভাবিক কাজগুলিকে আর ভাল লাগবে না। বারে বারেই ফোন দেখতে ইচ্ছা হবে। আর এই নেশাই মনোজগতে জটিল রোগের জন্ম দেবে।

একটানা ফোন দেখা যেমন ক্ষতিকর, তেমনই বারে বারে ফোন দেখাও বিপজ্জনক। এই নেশা কাটিয়ে ওঠা জরুরি বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement