হার্টের জন্য লভ হরমোন! ছবি : সংগৃহীত।
ভালবাসার হরমোন। হৃদয় বিনিময়ের সময় তার নেপথ্য কারিগরি থাকে পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে। আবার সেই হরমোনই হৃদয় তথা হৃৎপিন্ডকেও বাঁচিয়ে রাখে। নানা সমস্যা এবং চাপ থেকে আগলে রাখে।
হরমোনের নাম অক্সিটোসিন। তবে একে ‘লভ হরমোন’ বা ‘বন্ডিং হরমোন’ও বলা হয়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এটি কেবল আবেগ বা সম্পর্কের অনুঘটকের কাজই করে না, হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে এবং হার্টের সুরক্ষাতে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
অক্সিটোসিন আসলে কী?
এটি একটি হরমোন যা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে তৈরি হয় এবং পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে রক্তে মেশে। যখন কেউ প্রিয় মানুষটিকে আলিঙ্গন করেন বা কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কথা বলেন, তখন শরীরে ওই হরমোনের মাত্রা বাড়ে।
হার্টের স্বাস্থ্যে অক্সিটোসিনের প্রভাব
অক্সিটোসিন নানা ভাবে হার্টের রক্ষাকবচের কাজ করে।
১। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: অক্সিটোসিন রক্তনালী শিথিল করতে সাহায্য করে, যার ফলে রক্তচাপ কমে এবং হৃৎপিন্ডের উপর চাপ কম পড়ে।
২। প্রদাহ হ্রাস: হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ ধমনীতে হওয়া প্রদাহ। অক্সিটোসিন অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বা প্রদাহ নাশক হিসেবে কাজ করে এবং ধমনীর ভিতরের আস্তরণকে প্রদাহের হাত থেকে বাঁচায়।
৩। হৃৎপিন্ডের পেশির সুরক্ষা: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হার্ট অ্যাটাকের পর ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করতে এবং নতুন কোষ তৈরিতে অক্সিটোসিন সাহায্য করতে পারে।
৪। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট: শরীরে যে সমস্ত দূষিত পদার্থ বা ‘ফ্রি র্যাডিক্যালস’ হার্টের রোগের অন্যতম কারণ, অক্সিটোসিনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট তাকে প্রতিরোধ করে এবং হার্টের কোষের ক্ষয় রোধ করে।
৫। মানসিক চাপ কমায়: স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে অক্সিটোসিন। যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ থেকে হার্টের রোগ হতে পারে, তাই পরোক্ষে হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অক্সিটোসিন।
শরীরে অক্সিটোসিন বাড়বে কী ভাবে?
ওষুধ ছাড়াই শরীরে ওই হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে নিতে চাইলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন—
১। প্রিয়জন বা বন্ধুদের সাথে বেশি সময় কাটানো।
২। শারীরিক স্পর্শে এই হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। তাই প্রিয়জনকে কাছে টানুন, হাতে হাত রাখুন, আলিঙ্গনে থাকুন।
৩। পরোপকারেও অক্সিটোসিনের ক্ষরণ বাড়ে, অন্যকে সাহায্য করুন।
৪। গবেষণা বলছে, পোষ্যের সঙ্গে সময় কাটলেও অক্সিটোসিনের ক্ষরণ বাড়ে।
৫। শরীরচর্চা, যোগাসন, ধ্যান করলে শরীরে অক্সিটোসিন বৃদ্ধি পায়।