কোন বোতলে শিশুকে জল খাওয়ানো নিরাপদ? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না গেলে ডিহাইড্রেশনের আশঙ্কা থাকে। গরমে অত্যধিক ঘাম, বমি বা ডায়েরিয়ার মতো রোগ হলে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে জল বেরিয়ে যায়। তখন নানা ভাবে শরীর জানান দেয় যে, ডিহাইড্রেশনে ভুগছেন আপনি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেগুলি বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি। অনেক খুদেকেই জল খাওয়ানো দুরূহ ব্যাপার। অথচ জল কম খাওয়ার কারণে শরীরে দেখা দিচ্ছে নানা রকম সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময় জল কম খাওয়ার জন্যই কিন্তু বেশির ভাগ শিশু সর্দিকাশি, ফ্লু, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগে। তাই শিশুর স্কুলের ব্যাগে জলের বোতলটা দিতে ভুললে চলবে না। এখন অনেক বাবা-মায়েরই মনে প্রশ্ন থাকে, শিশুকে কোন বোতলে জল খাওয়ানোটা বেশি স্বাস্থ্যকর? কেউ শিশুর জন্য তামার বোতল কিনে আনছেন, কেউ আবার কিনে দিচ্ছেন স্টিলের টাম্বলার। শিশুকে জল খাওয়ানো যতটা জরুরি, ততটাই জরুরি জল খাওয়ানোর জন্য সঠিক পাত্রটি বেছে নেওয়া। কোন পাত্রটি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর?
তামার বোতল: স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেকেই এখন শিশুকে জল খাওয়ার জন্য তামার বোতল কিনে দিচ্ছেন। তামার পাত্রে জল খাওয়া বেশ স্বাস্থ্যকর। কপারের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ শরীরের জন্য বেশ উপকারী। তবে তামার বোতলে দীর্ঘ সময় ধরে জল রেখে খাওয়া কিন্তু ততটাও স্বাস্থ্যকর নয়। তামার বোতলে জল রাখলে সেই জলের মাধ্যমে কিছুটা হলেও তামা শরীরে যায়। দীর্ঘ দিন ধরে তামার কষ শরীরে জমা হতে থাকলে তা থেকে পেটের সমস্যা হতে পারে। তামার পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার না করলেই তাতে জারণ ক্রিয়া হতে পারে, সেই জল খেলে পেটের গন্ডগোল অবধারিত। তাই শিশুকে স্কুলে তামার বোতলে জল ভরে না পাঠানোই ভাল। অল্প সময়ের জন্য তামার বোতলে জল ভরে খাওয়া যেতে পারে, তবে বেশি সময়ের জন্য তামার বোতলে জল ভরে রাখা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। এ ছাড়া শিশুকে তামার বোতলে কোনও রকম ফলের রস, শরবত ভুলেও কখনও দেবেন না।
প্লাস্টিকের বোতল: বাজারে যে জলের বোতলে পানীয় জল বিক্রি করা হয়, তার অধিকাংশই এক বার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকে তৈরি। অনেক শিশুকেই দেখা যায় নরম পানীয়ের বোতলেই স্কুলে জল নিয়ে যেতে। এই ধরনের বোতলে দিনের-পর-দিন জল পান করলে ক্যানসারের আশঙ্কাও বাড়ে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, প্লাস্টিকের বোতল তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ‘বিসফেনল এ’ বা ‘বিপিএ’-সহ একাধিক উপাদান, যা বেশি মাত্রায় শরীরে ঢুকলে রক্তচাপের হেরফের তো হবেই, হরমোনের ভারসাম্যও বিগড়ে যাবে, শরীরে ইনসুলিনের ক্ষরণে প্রভাব ফেলবে, যা পরবর্তী সময়ে ডায়াবিটিসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কিডনির দুরারোগ্য রোগও হানা দিতে পারে। যদি একান্তই প্লাস্টিকের বোতলে জল দিতে হয়, তা হলে সেই বোতলটি বিপিএ-ফ্রি কি না, তা যাচাই করে নিতে ভুলবেন না। ভাল মানের প্লাস্টিকের বোতলও মাস দুয়েকের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কোনও রকম গরম পানীয় কখনওই প্লাস্টিকের বোতলে নেওয়া চলবে না।
স্টিলের বোতল: শিশুকে স্কুলে জল দেওয়ার জন্য স্টেনলেস স্টিলের বোতল কিন্তু বেশ ভাল বিকল্প। হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়ার ভয়ও নেই। এই ধাতু জলের সঙ্গে কোনও বিক্রিয়া করে না। এ ক্ষেত্রে জলের মধ্যে ধাতব কোনও গন্ধ বা স্বাদও থাকে না। জলের বদলে ফলের রস, শরবত, লস্যির মতো পানীয়ও রাখা যেতে পারে স্টিলের বোতলে।
ইনসুলেটেড জলের বোতল : এই ধরনের বোতলের ভিতরটি সাধারণত কাচ দিয়ে তৈরি হলেও বাইরের দিকে প্লাস্টিক বা ধাতব পরত থাকে, ফলে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কম। এই ধরনের বোতলে জল ভরে নিয়ে যাওয়া শিশুদের জন্য বেশ নিরাপদ। এই বোতলের জল রাখলে কোনও রকম রাসায়নিক বিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি নেই, জলের স্বাদেও কোনও রকম হেরফের হয় না। জলের তাপমাত্রাও একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্থির থাকে এই ধরনের বোতলে। ফলে গরমের দিনে ঠান্ডা জল আর শীতের দিনে হালকা গরম জলও নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। ফলের রস, দইয়ের ঘোল, শরবতের মতো পানীয়ও নিরাপদে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে এতে।