মজার ছলেই কথাটা বলেছিলেন সহকর্মী। কিন্তু মেজাজ হারিয়ে এমন বিশ্রী কাণ্ড করে ফেলবেন, বুঝতে পারেননি ঋতম। পরে তা নিয়ে অনুতাপও হয়েছে।
সামান্য কথায় আচমকা রেগে যান অনেকেই। তার প্রভাব পেশা এবং ব্যক্তি জীবনে পড়ে তো বটেই, নিজের শরীপও কিন্তু খারাপ হয়। আচমকা চেঁচিয়ে ওঠা বা উঁচু গলায় কথা বলার সময় কখনও হাত-পা থরথর করে কাঁপে, কারও আবার বুক ধড়ফড়ানিও শুরু হয়।
মনোবিদেরা বলেন, আচমকা রাগের নানা কারণের মধ্যে একটি হতে পারে মানসিক চাপ। ছোট থেকে বড়— পড়াশোনা থেকে কাজ, শারীরিক অসুস্থতা, একাধিক কারণে বিভিন্ন বয়সিদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে। ক্রমাগত দুর্ভাবনা, উদ্বেগ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। তার ফলে কখনও কখনও আচমকাই মাথাগরম হয়ে যায়, লোকে অতিরিক্ত প্রতিক্রয়া দেখিয়ে ফেলেন।
আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য ভাল উপায় প্রাণায়াম। বেঙ্গালুরুর ফিজ়িয়োথেরাপিস্ট পালং ডেংরা জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ থাকলে সব সময় মেজাজ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তা ছাড়া, নিজেকে সংযত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কাজটি সহজ হতে পারে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মাধ্যমে। তিনি জানাচ্ছেন, ক্রমাগত দুশ্চিন্তার জন্য শরীরে কর্টিসলের ক্ষরণ বেড়ে যায়। হরমোনের মাত্রা বাড়লে শরীরে মৃদু প্রদাহও তৈরি হয়। তার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, হাত-পা কাঁপা, ঘাড়ে গরম স্রোতের অনুভূতি, মেজাজ হারিয়ে ফেলা, হজমের গোলমাল-সহ একাধিক উপসর্গ দেখা যায়। ধীরে ধীরে শ্বাস নিলে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ু শান্ত হতে শুরু করে। কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে।
শ্বাসের কোন ব্যায়াম মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে
ডায়াফ্রামের ব্যায়াম: বুকের খাঁচার নীচে অবস্থিত একটি বিশেষ পর্দা হল ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা, যা শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখে। হাঁটু মুড়ে শিরদাঁড়া সোজা রেখে বসে নাক দিয়ে এমন ভাবে শ্বাস নিতে হবে যাতে পেট ফুলে যায়। এই শ্বাস নিলে এবং ছাড়লে রক্তচাপ কমে, হৃৎস্পন্দনের গতি স্বাভাবিক হয়। এটি 'পেটের ব্যায়াম' বলেও পরিচিত।
বক্স ব্রিদিং: ধীরে শ্বাস নিয়ে তা ধরে রাখতে হবে এবং তার পরে ধীরে ধীরে তা ছাড়তে হবে। একে বলা হয় ‘বক্স ব্রিদিং’। শ্বাস নেওয়া এবং ছাড়ার এই ব্যায়ামটি আচমকা রাগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত সহায়ক। এটি স্নায়বিক উত্তেজনা কমায় দ্রুত।
নাক দিয়ে শ্বাসের ব্যায়াম: নাকের এক দিক আঙুলের সাহায্য বন্ধ রেখে অন্য দিকের ছিদ্র দিয়ে শ্বাস নিতে হবে। তার পর শ্বাস নেওয়া হয়েছে যে ছিদ্র দিয়ে, সেটি আঙুল দিয়ে চেপে অন্য ছিদ্র দিয়ে সেই শ্বাস বার করতে হবে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমাতে এই প্রাণায়াম বা ব্যায়ামটি খুব কাজের। নিয়ম করে অভ্যাস করলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও বাড়বে।