বুকে ব্যথার নেপথ্য কারণ কী? ছবি: সংগৃহীত।
বুকে ব্যথা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বুকে ব্যথা শুরু হলেই আতঙ্ক শুরু হয়ে যায় অনেকের। প্রশ্ন জাগে, হার্টের অসুখের কারণে, গ্যাসের কারণে না কি কোনও উৎকণ্ঠার জেরে ব্যথা হচ্ছে? অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গগুলি হুবহু প্রায় একই রকমের মনে হতে পারে। আর সেখান থেকেই ধন্দে পড়েন অনেকে। দুই ধরনের ব্যথার কিছু পার্থক্য থাকলেও অনেক সময়ে লক্ষণ এতই মিলে যায় যে, উপেক্ষা করলে বিপজ্জনক হতে পারে।
বুকে ব্যথার কারণ কী? ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস না কি হার্টের সমস্যা— বুকে ব্যথা হচ্ছে কোন কারণে? পার্থক্য বুঝবেন কী ভাবে?
গ্যাসের সমস্যা: সাধারণত, বুকে চিনচিনে ব্যথা হয় গ্যাসের সমস্যায়। বুকে জ্বালার মতো লক্ষণও দেখা দেয়। কখনও কখনও ব্যথাটা পিঠের দিকেও যেতে পারে। গ্যাসজনিত অস্বস্তি সাধারণত পেটের দিক থেকে শুরু হয়ে বুক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময়ে ঢেকুর উঠলে বা গ্যাস বেরোলে এই ব্যথা কিছুটা কমে যায়। খাওয়ার পর এই ব্যথা বেশি হয়, বিশেষ করে তেলমশলাযুক্ত বা ভারী খাবার খেলে। এর সঙ্গে পেটফাঁপা, অম্বল, গলায় জ্বালাভাবের মতো উপসর্গও থাকতে পারে। শরীর নড়াচড়া করলে এই ব্যথার তীব্রতা কমবেশি হতে দেখা যায়।
হার্টের সমস্যা: হার্ট সংক্রান্ত সমস্যা হলে বুকে চাপ ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথা বাঁ হাতের দিকে নামতে পারে, চোয়াল এবং পিঠ, ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। সহজে এই ব্যথা কমেও না। এরই পাশাপাশি অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে, বমি বমি পেতে পারে, মাথা ঘুরতে পারে বা হঠাৎ দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হাঁটাচলা বা সিঁড়ি ভাঙার সময়ে ব্যথা বাড়ে এবং বিশ্রাম নিলে কিছুটা কমে। এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তবে, সব রোগীর ক্ষেত্রে আবার ব্যথা এক রকমের হয় না।
ব্যথা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে বা বার বার ফিরে এলে তা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময়ে প্রথমে হালকা অস্বস্তি মনে হলেও সেটিই বড় সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। সব সময়ে শুধু লক্ষণ দেখে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপানের অভ্যাস বা পারিবারিক ইতিহাস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই সন্দেহ হলে, দেরি না করে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত।