তামার গ্লাসে জল খেলেই কি শরীর ভাল থাকে? ছবি:সংগৃহীত।
তামা শরীরের জন্য উপকারী, এটা জানার পরেই তামার বোতল কিনে এনেছেন? জল খাচ্ছন তাতেই। এতে যে লাভ হচ্ছে সেই বিষয়ে নিশ্চিত কি?
পুষ্টিবিদেরা বলছেন, শরীর সুস্থ রাখতে কিছু ‘মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস’-এর দরকার হয়। লাগে যৎসামান্য, কিন্তু জরুরি। তেমনই একটি উপাদান হল কপার বা তামা। ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’-এর তথ্য বলছে, ঊনিশোর্ধ্ব মানুষের দৈনিক ৯০০ মাইক্রোগ্রাম কপারের দরকার হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ আরও কিছুটা বেড়ে যায়।
কপারের কার্যকারিতা নিছক কম নয়। আয়রন শোষণে সহায়তা করে খনিজটি। কপারের অভাব হলে সেই কারণে রক্তাল্পতা হতে পারে। শরীরে ক্লান্তি আসতে পারে। তা থেকেই শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া সহ একাধিক সমস্যা হতে পারে।
কিন্তু তামার পাত্রে জল খেলে কি আদৌ সেই সমস্যার সমাধান হয়?
তামার পাত্রে জল খাওয়ার চল বহু দিনের। কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে তামা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল। ফলে তামা যদি জলে মেশে সেই জল খেলে শরীরের খনিজের ঘাটতি মিটবে। জল হজমে সহায়ক হবে। তবে, তামার পাত্রে জল খেলেই যে সর্বরোগ নাশ হবে এমনটা নয়।
অন্তত প্লাস্টিকের বোতলে জল খাওয়ার চেয়ে তামার পাত্র বা গ্লাস বেছে নেওয়া ভাল। বলা হয়, ১৬ ঘণ্টা তামার পাত্রে জল রাখলে, অতি স্বল্প যে খনিজের নির্যাস জলে মিশবে, সেটি যথেষ্ট। ঘুম থেকে উঠে বড় জোর এক গ্লাস বা সারা দিনে ৫০০ মিলিলিটার পর্যন্ত সেই জল খাওয়া যায়। তার বেশি নয়।
বেশি কপার বিষ
দেখা যায়, উপকারিতা পেতে কেউ দিনভর তামার বোতল বা জগ থেকে জল খাচ্ছেন। সমস্যা হতে পারে সেখানেই। মাত্রায় বেশি হয়ে গেলে যে কোনও খনিজ শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। কপারের মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। বমি ভাব দেখা দিতে পারে। হজমের গোলমালও দেখা দিতে পারে। ক্যানসার বা টিউমার থাকলে বাড়তি কপার প্রচণ্ড ক্ষতিকর হতে পারে। তাই তামার পাত্রে রাখা জল খাওয়ারও মাত্রা আছে।
কপার যাতে বেশি না হয় কী করবেন?
· দিনে তামার পাত্রে জল খাওয়ার মাত্রা বেঁধে ফেলতে হবে।
· ব্রকোলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি যেগুলিতে সালফার রয়েছে, সেগুলি কপারের সঙ্গে জোট বেঁধে শরীর থেকে কপার বার করার কাজ সহজ করে।
· জ়িঙ্ক রয়েছে এমন খাবারও (ডিম, মাছ, দুধ, বাদাম) মাত্রাতিরিক্ত কপারের প্রভাবে লিভারের ক্ষতি আটকাতে পারে।