আমে কামড় দেওয়ার আগে কী করা উচিত? ছবি: সংগৃহীত।
প্রবল গরমের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের ছোঁয়া আসছে আমের স্বাদের হাত ধরে। কিন্তু আম খাওয়ার ভুলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা শুরু হচ্ছে। নিয়ম মেনে না খেলে অন্ত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। আম খেলে অনেকের বদহজমের সমস্যাও শুরু হয়। এ সব কারণে আম খাওয়ার আনন্দই মাটি হয়ে যায় কখনও কখনও। কিন্তু এগুলি থেকে রেহাই পেতে পুরনো এক পন্থা মেনে চলা যেতে পারে।
বাজার থেকে কিনেই আম কেটে খেয়ে নেওয়ার লোভ সামলানো কঠিন। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এই তাড়াহুড়োতেই ভুল হয়ে যায়। খাওয়ার আগে অন্তত ৩০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখতে হয় আম। এই নিয়মের নেপথ্যে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ।
আম খাওয়ার নিয়ম জেনে নিন। ছবি: সংগৃহীত
কী কী কারণে আম জলে ভিজিয়ে রাখা উচিত?
১. এই পন্থার উদ্দেশ্য, আমে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড কমানো। এই উপাদানটিকে বলা হয় ‘অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট’। অর্থাৎ শরীরে আয়রন, জ়িঙ্ক, ক্যালশিয়ামের মতো জরুরি খনিজের শোষণ কমিয়ে দেয় এই অ্যাসিড। ফলে আম খাওয়ার ভুলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। তাই আম জলে ভিজিয়ে রাখলে এই উপাদান অনেকটাই কমে যায়, ফলে শরীর পুষ্টি ভাল ভাবে গ্রহণ করতে পারে। শরীরে ফাইটিক অ্যাসিড কমে গেলে শরীর আম থেকে আরও ভাল ভাবে ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রন শোষণ করতে পারে।
২. হজম প্রক্রিয়ার সময়ে শরীরে তাপ উৎপন্ন করে আম। একসঙ্গে খুব বেশি পরিমাণে আম খেয়ে ফেললে এই সমস্যাটি বেশি লক্ষ করা যায়। আমে ক্যালোরি বেশি এবং শর্করা ঘনীভূত থাকে, তাই শরীরে ‘মেটাবলিক হিট’ তৈরি করে এই ফল। এর ফলে ত্বকে নানা প্রকার সমস্যা দেখা যায়, ব্রণ, লালচে ভাব, উত্তাপবৃদ্ধি ইত্যাদি। এর ফলে অনেকেরই আম খেলে বদহজম হয়, বুক জ্বালা করে এবং পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়ে। কিন্তু যদি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলে বা ঠান্ডা জলে চুবিয়ে রাখলে এই সমস্যা কমে।
৩. আমের গায়ে লেগে থাকা কীটনাশকের পরিমাণ কমানো যেতে পারে এই প্রক্রিয়ায়। অনেক সময়ে আম দ্রুত পাকানোর জন্য ক্যালশিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয়। এর ফলে আমের গায়ে আর্সেনিক এবং ফসফরাসের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। জলে চুবিয়ে রাখলে রাসায়নিক থেকে ময়লা, সমস্ত ধুয়ে যেতে পারে। তাতে শরীরে খারাপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকি কমে।
৪. আমের বোঁটার কাছে থাকা আঠালো সাদা রস অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে অনেকের শরীরে। এতে এমন উপাদান থাকে, যা কারও কারও জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। কখনও চুলকানি, কখনও বা মুখের চারপাশে জ্বালা হতে পারে। ভিজিয়ে রাখলে এই রসও অনেকটাই ধুয়ে যায়।
৫. জলে ভিজিয়ে রাখলে আম আরও রসালো ও সতেজ লাগে। শরীরে জলের পরিমাণও বাড়তে পারে এর ফলে।
সুতরাং আম খাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হবে না। শুধু খাওয়ার আগে এই ছোট্ট অভ্যাসটি মেনে চলুন। ৩০ মিনিটের অপেক্ষার পরই আপনার প্রিয় ফলটি আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।