প্রাতরাশে ভুল হচ্ছে, কী ভাবে জানান দেয় শরীর? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
সারা দিন শরীর কেমন থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে দিনভর খাওয়াদাওয়ার উপর। চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সকালের খাওয়াটি। প্রাতরাশ ঠিকমতো হলে শরীর প্রয়োজনীয় কাজের জন্য শক্তি পাবে। আবার ঘটতে পারে উল্টোটাও। সকালের খাবারের ভুলভ্রান্তি দিনভরের ক্লান্তি এবং অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
ডায়াবিটিস থাকলে রক্তে শর্করার ওঠা-পড়া চলতেই থাকে। সুগার বাড়লে এক বিপদ, আবার আচমকা রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়াও কম ঝুঁকির নয়। যে খাবার খেয়ে দিন শুরু করেছেন, তা উপযুক্ত হচ্ছে না বা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে কি না, বুঝবেন কী ভাবে?
বার বার খিদে: খাওয়ার ২ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ফের খিদে পাচ্ছে? কখনও হাত-পা ঝিমঝিম করে উঠছে? দ্রুত খিদে পাওয়া শুধু উচ্চ হজম ক্ষমতার লক্ষণ না-ও হতে পারে। সিম্পল কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার, যেমন ময়দা দিয়ে তৈরি নুড্লস, সাদা পাউরুটি, ময়দার রুটি, পরোটার মতো খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। মুড়ি, চিঁড়ে, কোনওটাই সেই ভাবে ডায়াবেটিক-বান্ধব খাবার নয়। রক্তে অত্যন্ত দ্রুত শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে, আচমকা শর্করা নেমে যাওয়াও ভয় থাকে। সরল শর্করা জাতীয় খাবার দ্রুত পরিপাক হয় বলে সুগারের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। সেই শর্করাকে কোষের শক্তিতে পরিণত করতে ইনসুলিন হরমোন অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠলে আচমকা শর্করার মাত্রাও কমতে পারে। তখনই গা-হাত পা ঝিমঝিম করবে। শরীর আনচান করবে।
কফি খাওয়ার ইচ্ছা: প্রাতরাশের খানিক পর থেকে মন কফির জন্য আনচান করে। অনেকের ক্যাফিনের প্রতি নির্ভরতা তৈরি হয়, সেটা আলাদা বিষয়। তবে খাওয়ার খানিক পরে ক্লান্ত লাগা, কফি খেলে ঠিক হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে রক্তে শর্করার ওঠা-পড়াও থাকতে পারে।
কাজে মন দিতে অসুবিধা: মনঃসংযোগ করতে না পারার নেপ্থ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে মস্তিষ্কের কাজ করার জন্য যেহেতু গ্লুকোজ় বা শর্করার প্রয়োজন হয়, সেই কারণে আচমকা শর্করা বেড়ে বা কমে গেলে তারও প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্কে। কাজে মন দেওয়ার ক্ষেত্রেও অসুবিধা হতে পারে।
প্রাতরাশে থাকবে কী?
শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাতরাশ সাজাতে হবে। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, পুষ্টির ভারসাম্যই প্রাতরাশের মূল কথা। থাকতেই হবে প্রোটিন এবং ফাইবার। বিশেষত ডায়াবিটিস থাকলে ফাইবার অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সঙ্গে থাকা দরকার স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন এবং খনিজ। খেতে হবে মাপমতো। প্রাতরাশে রসালো ফল, মুজ়লি, সিরিয়াল বেশি রাখলে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ওট্স, কিনোয়ার মতো খাবার ডায়াবেটিক-বান্ধব। রাখতে হবে স্যালাড, কারণ এতে ফাইবার থাকে। ফল খেলেও, শর্করা কম এমন ফল বেছে নেওয়া ভাল। তালিকায় থাকতে পারে পেয়ারা। ফলের রস অবশ্য এড়িয়ে যাওয়া উচিত, বিশেষত বাজারচলতি রস। তালিকায় রাখা যেতে পারে মাল্টিগ্রেন পাউরুটি, ডিম সেদ্ধ বা পোচ, অ্যাভোকাডো টোস্টের মতো খাবার। রুটি খেলে সঙ্গে রাখা যায় পাঁচমিশেলি সব্জি, প্রোটিন জাতীয় খাবার।