ছবি : সংগৃহীত।
কুসুম ছাড়া আবার ডিম কিসের! এমন বলার মানুষ যেমন আছেন, তেমনই এমনও এক দল স্বাস্থ্যসচেতন রয়েছেন, যাঁরা দিনে তিনটি করে ডিম খান কিন্তু কুসুমটি বাদ দিয়ে।
কারও লক্ষ্য রোগা হওয়া। কেউ মনে করেন কুসুম খেলে কোলেস্টেরল বাড়বে। কাউকে চিকিৎসকই নিষেধ করে দিয়েছেন কুসুম খেতে। বলেছেন, বড়জোর আধখানা কুসুম চলতে পারে। কিংবা একটি। তাই ডিম তিনটে খেলে খেতে হবে শুধু সাদা অংশটুকু। দিল্লির এক চিকিৎসক অবশ্য দাবি করেছেন, অমন ডিম খাওয়া অর্থহীন। বরং বিপদ বাড়তে পারে! কুসুম ছাড়া ডিম বা শুধু ডিমের সাদা অংশটুকু খেলে শরীরে বাড়তে পারে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ! যে প্রদাহ কিনা তেমন তেমন সময়ে ক্যানসারেরও কারণ।
দিল্লির ওই চিকিৎসকের নাম অলোক চোপড়া। তিনি হৃদরোগের চিকিৎসক। ৪০ বছর ধরে রয়েছেন পেশায়। তাঁর ওই দাবি নিয়ে তাই হইচই পড়েছে স্বাস্থ্যসচেতনদের দুনিয়ায়। কারণ, সে জগতে অনেকেই স্বাস্থ্যের স্বার্থে কুসুম খাওয়া ছেড়েছেন। শুধু সেদ্ধ ডিমের কুসুম বাদ দেওয়া নয়। ডিমের ওমলেটও অনেকে তৈরি করেন শুধু সাদা অংশটুকু দিয়ে, খেতে যেমনই লাগুক।
ডিমের সাদা অংশ কি শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়?
চিকিৎসকের দাবি সত্যি কিনা জানতে আনন্দবাজার ডট কম দ্বারস্থ হয়েছিল পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তীর। তাঁর কথায় জানা গেল, দিল্লির ওই চিকিৎসকের দাবি অসত্য নয়। তবে শুধু সেটুকু বললে পুরোপুরি সত্যি বলাও হবে না।
দিল্লির চিকিৎসকের বক্তব্য ছিল, স্বাস্থ্যসচেতনেরা ডিমের কুসুমের উপর দোষারোপ করেন। অথচ ডিমের সাদা অংশটুকুকেও নিরাপদ বলা চলে না। চিকিৎসক অলোকের কথায়, ‘‘কুসুম খেলে মোটা হবেন, কোলেস্টেরল বাড়বে, এমন অনেক কথা ছড়ানো হয়। কিন্তু শুধু ডিমের সাদা অংশ খেলে কী হতে পারে জানেন? কুসুম ছাড়া ডিম এক ধরনের ইনফ্ল্যামেটরি প্রোটিন। কিন্তু কুসুমের সঙ্গে সাদা অংশ খেলে তা অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবারে পরিণত হয়।’’
ডিমের সাদা অংশে কাদের সমস্যা হতে পারে?
গোটা দুনিয়া যেখানে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ কমাতে ব্যস্ত, সেখানে ডিমের সাদা অংশে প্রদাহ বাড়ে জানলে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। পুষ্টিবিদ শ্রেয়া অবশ্য বলছেন, ‘‘আসলে ব্যাপারটা তা নয়। ডিমের সাদা অংশে কিছু প্রোটিন থাকে যেমন, ওভাল অ্যালবুমিন, ওভো মিউকয়েড ইত্যাদি। এগুলো শরীরে অ্যালার্জি বাড়িয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে শরীরে কিছু প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। কারও র্যাশ বেরোতে পারে বা অসুস্থ বোধ হতে পারে।’’ পুষ্টিবিদ বলছেন, তার মানে এই নয় যে সবার জন্যই সেটা খারাপ।