শিশুর ক্ষতি না করেই কী ভাবে ঘরে এসি চালিয়ে রাখবেন? ছবি: সংগৃহীত।
গরমে দিনভর বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রটি চালু রাখছেন অনেকে। এসি বন্ধ করলেই যেন দম বন্ধ লাগছে ঘরে। কেবল বড়রাই নয়, শিশুরাও বাবা-মায়ের সঙ্গে সারা দিন ধরে এসি ঘরে থাকছে। রাতে ঘর একেবারে ঠান্ডা না করলে ঘুম আসতে চায় না অনেক খুদের। ঠান্ডায় যতই প্রাণ জুড়োক, এসি চালাতে হলে নিয়ম মানতেই হবে। বিশেষ করে বাড়িতে খুদে সদস্য থাকলে এসি চালানোর ক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের সচেতন থাকতে হবে। বাতানুকূল যন্ত্র যদি বেশি ক্ষণ চালাতে হয়, তা হলে তাপমাত্রা ঠিক কত থাকা উচিত, কত ক্ষণ একটানা চালানো উচিত, সবটা জেনেশুনে তবেই এসির ব্যবহার করুন।
বাইরে থেকে খেলাধুলো করে শিশু এল। শিশুর শরীর ঘামে ভর্তি। এমন সময়ে তাকে ঠান্ডা এসির ঘরে ভুলেও ঢোকাবেন না। অনেক সময়ে বাড়ির একটি ঘরে এসি চলে। শিশু এক বার সেই এসি ঘরে ঢোকে, আবার ঘর থেকে বেরিয়ে গরমে খেলাধুলো করে। বার বার মজার ছলে এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এমন হলেও মুশকিল। তাপমাত্রার ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই এসি নিয়ে বাবা-মায়েদের একটু বেশি সচেতন হতেই হবে।
খুদের ঘরে এসি চালালে কী কী মাথায় রাখতে হবে বাবা-মায়েদের?
১) বাড়িতে শিশু থাকলে এসির ফিল্টার প্রতি সপ্তাহে পরিষ্কার করুন। সময় মতো সার্ভিসিং করান। এসি বাতাস ঠান্ডা করার পাশাপাশি পরিশোধিতও করে। তাই ফিল্টার অপরিষ্কার থাকলে ঘর দূষিত হবে। শিশুর শ্বাস নিতেও সমস্যা হবে।
২) এসির তাপমাত্রা ২৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেখে চালালে তেমন ক্ষতি নেই।
৩) শিশু ঘুমোনোর সময়ে এসির ফ্যান যেন সরাসরি তার দিকে না থাকে, সেই বিষয়টি বাবা-মায়েদের নিশ্চিত করতে হবে।
৪) বয়স ছ’মাসের নীচে হলে শিশু ঘুমোনোর সময়ে তাকে ছোট মশারির মধ্যে রাখুন, তার উপর দিকটায় একটা সুতির কাপড় চাপা দিয়ে দিতে হবে।
৫) সারা ক্ষণ এসিতে থাকলে শিশুদের দু’রকম সমস্যা হতে পারে। এক, শিশুর নাক বন্ধ হয়ে যায় অনেক সময়ে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ন্যাসাল ড্রপ ব্যবহার করতে হবে। দুই, এসিতে থাকলে শিশুর ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে যায়। তাই গরমের দিনেও ভাল করে ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করতে হবে।