ফ্রিজের খাবার খেলে কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
এক দিন বাড়ির ফ্রিজ খারাপ হয়ে গেলেই মাথায় চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়। ফ্রিজ ছাড়া এক দিনও চলা মুশকিল হয়ে যায় অনেকের। সময়ের অভাবে অনেকেই সারা সপ্তাহের বাজার করে কাঁচা মাছ-মাংস থেকে সবুজ শাকসব্জি, সবই ফ্রিজে রেখে দেন। অনেকে আবার রান্না করা খাবারও ফ্রিজে রেখে খান ৩-৪ দিন ধরে। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, ফ্রিজে রেখে খাবার খাওয়া আদৌ ঠিক নয়, এর থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এই ধারণা কি ঠিক?
শাকসব্জি, ডাল-চাল— কাঁচা হোক বা রান্না করা, তাতে প্রাণ থাকে না। মাছ-মাংসও ফ্রিজে রাখার সময় প্রাণ থাকে না। খাবারে মধ্যে একটাই জীবিত বস্তু থাকে, যার নাম ব্যাক্টেরিয়া। আর এই ব্যাক্টরিয়ার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই জরুরি ফ্রিজ। ক্যানসার চিকিৎসক জয়েশ শর্মা বলেন, ‘‘ব্যাক্টেরিয়ার সবচেয়ে বেশি বংশবিস্তার হয় ৫-৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে। ফ্রিজের তাপমাত্রা থাকে ১-৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। এই তাপমাত্রায় ব্যাক্টেরিয়ারা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না, তবে তারা মরেও না। আটা মেখে ফ্রিজে রেখে দিলে তার উপর কালচে আস্তরণ পড়ে যায়। অনেকে বলেন এটা নাকি বিষে পরিণত হয়, খেলে ক্যানসার হতে পারে। এই ধারণা ভুল। এমনটা জারণের জন্য হয়। ক্যানসারের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। ফ্রিজে খাবার রাখলে মজে যাওয়া বা গেঁজে যাওয়ার প্রক্রিয়াও বন্ধ হয় যায়। তাই তো টকদই পেতে ফ্রিজে রাখা হয়, যাতে খুব বেশি টক না হয়ে যায়।’’
ভারতীয় সংস্কৃতিতে বাসি খাবার খাওয়ার চল ছিল না। অনেকটা খাবার বানিয়ে তা যদি বাইরে রেখে দেওয়া হয় তা হলে তাতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। পুরনো দিনে যখন ফ্রিজ ছিল না, তখন খাবার সংরক্ষণের অন্য কোনও উপায়ও ছিল না। তাই বাসি খাবার খেতে বারণ করা হত। তবে ফ্রিজে খাবার রাখলে সেই ঝুঁকি নেই। চিকিৎসক বলেন, ‘‘ফ্রিজে বানানো খাবার রেখে দুই থেকে তিন দিন খাওয়াই যায়। যদি শাক-সব্জি, মাছ মাংস সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয় তা হলে বেশ কিছু দিন পর্যন্ত ব্যবহার করাই যায়। ফ্রিজ কিংবা ফ্রিজ়ারে খাবার রাখলে ক্যানসার হয় না।’’
বিশেষ করে বাসি ভাত খাওয়া তো আরও ভাল। জয়েশ বলেন, ‘‘ফ্রিজে ভাত রেখে খাওয়া কিন্তু ভাল। রান্নার পর ভাত ঠান্ডা করে সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজে রেখে দেওয়া যেতেই পারে সারা রাতের জন্য। পরের দিন সেই ভাত খেলে ভাতের মধ্যে থাকা কিছু শর্করা পেটের জন্য উপকারী রেজি়স্ট্যান্ট স্টার্চে পরিণত হয়, যা রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং পেটের গোলমালও ঠেকানো যায়।’’ তাই ফ্রিজে খাবার রেখে নিশ্চিন্তে খেতেই পারেন। তবে সংরক্ষণের সঠিক উপায় জেনে নিতে হবে।