Stem Cell Therapy

সারবে পার্কিনসন্স, উধাও হবে হৃদ্‌রোগ, বিশ্বে প্রথম স্টেম কোষ থেরাপি প্রয়োগের ছাড়পত্র জাপানে

বিশ্বে প্রথম স্টেম কোষ থেরাপিতে ছাড়পত্র দিয়েছে জাপান। জটিল থেকে জটিলতর রোগ এই উপায়ে নির্মূল করা যাবে বলে দাবি করেছেন জাপানি বিজ্ঞানীরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

স্টেম কোষ থেরাপি কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পারকিনসন্স নামটি পরিচিত। তবে রোগটি কী, তা বোধগম্য না-ও হতে পারে। সহজ করে বললে, এটি স্নায়ুর এমন অসুখ যা এক বার ধরলেই হাত-পা কাঁপা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হাঁটাচলা করার সমস্যা শুরু হবে। এই রোগের উপযুক্ত চিকিৎসা নেই, ওষুধে সারে না। একটা পর্যায়ে গিয়ে হুইলচেয়ারে বন্দি হয়েই দিন কাটাতে হয়। এমন জটিল ও দুরারোগ্য রোগও যে নির্মূল করা যেতে পারে, তা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে চিকিৎসার উপায় খুঁজে পেয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। শুধু পার্কিনসন্সের মতো স্নায়বিক রোগ নয়, হৃদ্‌রোগ বা হঠাৎ করে হওয়া হার্ট অ্যাটাকে মৃতপ্রায় রোগীকেও বাঁচিয়ে তোলার উপায় আয়ত্ত হয়েছে একই পন্থায়। শুধু পদ্ধতি আবিষ্কার নয়, তা প্রয়োগ করার ছাড়পত্রও হাতে এসেছে। বিশ্বে প্রথম বার জাপানই এমন চিকিৎসা করে দুরোরাগ্য ব্যাধি নির্মূল করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে।

Advertisement

চিকিৎসাটি হল ‘স্টেম সেল থেরাপি’। স্টেম সেল এমন এক কোষ, যা শরীরেই তৈরি হয় এবং এই কোষটিই বাকি সব কোষ-কলার উৎপত্তি ঘটায়। একে বলা যেতে পারে 'মাতৃকোষ'। সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন এই কোষ থেকেই হয়। সন্তান জন্মানোর পর মায়ের শরীর থেকে যে প্ল্যাসেন্টা বা অমরা বেরিয়ে আসে, তার মধ্যে থাকে স্টেম কোষ, যাকে ‘এমব্রায়োনিক স্টেম সেল’ বলে। আবার মজ্জা থেকেও স্টেম কোষ তৈরি হয়। মজার ব্যাপার হল, এই কোষগুলিকে অন্য যে কোনও কোষে বদলে দেওয়া যেতে পারে। যেমন অস্থিমজ্জা থেকে নেওয়া স্টেম কোষের আকার-চরিত্র বদলে তাকে স্নায়ুর কোষের চেহারা দেওয়া যেতে পারে। চাইলে সেই একই কোষ থেকে হার্টের কোষ তৈরি করা যেতে পারে। আবার রূপ বদলে ফুসফুসের কোষে রূপান্তরিত করা যেতে পারে। রূপান্তরই এর বৈশিষ্ট্য। বদলে যাওয়াই এর প্রকৃতি। আর তাকেই কাজে লাগাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। শরীরের যে কোনও জায়গা থেকে স্টেম কোষ তুলে নিয়ে রোগাক্রান্ত জায়গায় প্রতিস্থাপন করতে পারাটাই চ্যালেঞ্জ। তাতেই ঘটবে রোগমুক্তি। তবে প্রতিস্থাপনের পদ্ধতি ও সঠিক স্টেম কোষ নির্বাচনের প্রক্রিয়া জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই থেরাপি যে হচ্ছে না, তা নয়। তবে জটিল চিকিৎসাটি ঠেকায় পড়লে তবেই প্রয়োগ করা হয়। জাপান সেখানে সাধারণ হৃদ্‌রোগের চিকিৎসাতেও স্টেম কোষকেই অস্ত্র হিসেবে দেখছে এবং তার প্রয়োগও করছে। সম্প্রতি জাপানেরই এক সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে, কিয়োটো ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৫০ থেকে ৬৯ বছর বয়সি সাত জন পার্কিনসন্স রোগীর মস্তিষ্কে কম করেও ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি স্টেম কোষ প্রতিস্থাপন করেছেন। সেই কোষগুলি সংখ্যায় বেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুর কোষগুলি হঠিয়ে পুরোপুরি জায়গা দখল করে নিয়েছে। ফলে মস্তিষ্কে যে ব্যাধি হয়েছিল, তা আর নেই। সুস্থ কোষ নতুন করে ডোপামিন হরমোন ক্ষরণ করছে, যা পার্কিনসন্সে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এই হরমোনই হাঁটাচলা করা, কথা বলা, শরীরের ভারসাম্য রাখা ও আনন্দে থাকার অনুভূতি দেয়। যে সাত জনের উপর স্টেম কোষ থেরাপি করা হয়েছে, তাঁরা আগের থেকে ভাল আছেন এবং কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হয়নি বলে দাবি করেছে জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়।

Advertisement

মস্তিষ্কের রোগ তো হল, হার্টের রোগ সারাতেও স্টেম কোষকে কাজে লাগাচ্ছেন জাপানিরা। সুমিতোমো ফার্মা নামক এক সংস্থাকে এই কাজে লাগানো হয়েছে। হার্টের কোষ ও হৃদ্‌পেশি তৈরি করতে পারে, এমন স্টেম কোষ তৈরি করে শরীরে প্রতিস্থাপন করা হবে। সেই কোষগুলিই বিকল হতে বসা হার্টকে আবার আগের রূপে ফিরিয়ে আনবে। জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, স্টেম কোষ তৈরি করে কী ভাবে রোগ সারানো যায় সে পন্থা আবিষ্কার করেছিলেন বিজ্ঞানী শিনিয়া ইয়ামানাকা। ২০১২ সালে এই আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কারও পান তিনি। তাঁরই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে স্টেম কোষ থেরাপিকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে জাপানে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement