ছবি : সংগৃহীত।
বলিউডের ‘হ্যান্ডসাম হাঙ্ক’দের যদি তালিকা তৈরি করা হয়, তবে সেই তালিকায় অনেক ব্লকবাস্টার অভিনেতাকেও টক্কর দিতে পারেন জন অ্যাব্রাহাম। তাঁর বৃষস্কন্ধের আবেদন এখনও চুম্বকের মতো। নারীভক্তের পাশাপাশি ওই চেহারার পুরুষভক্তও কম নয়। তবে এমন চেহারা বজায় রাখতে জন কেবল পরিশ্রম করেন বললে কম বলা হয়। তাঁর ফিটনেস প্রশিক্ষক বিনোদ চান্না বলছেন, ‘‘জন নিজের উপর নিজে এতটাই কড়া শাসন চালান যে আমিও মাঝে মধ্যে চমকে যাই। ওঁকে যদি আজ বলি আপনি সারা দিনে শুধু চারটি সব্জি খেতে পারবেন। তবে উনি তা-ই করবেন।’’
সেই কড়া অনুশাসনের ফলেই দুই সব্জি থেকে মুখ ফিরিয়েছেন জন। বিনোদ জানিয়েছেন, জন ব্লোটিং অর্থাৎ পেটফাঁপার সমস্যায় ভুগছিলেন। সেই সময় জানতে পারেন বেগুন আর ঢেঁড়স থেকেও গ্যাস এবং ব্লোটিং হতে পারে। তার পরেই বেগুন এবং ঢেঁড়স না খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অভিনেতা। বিনোদ বলছেন, ‘‘দু’টি সব্জিই খেতে পছন্দ করতেন জন। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে ছুঁয়েও দেখেননি। এখন যদি ওকে ওই খাবার খেতে দেওয়া হয় তবে শরীর এমনিও হজম করতে পারবে না। কারণ শরীর ওই দু’টি খাবার হজম করার কথা ভুলে গিয়েছে।’’
বেগুন আর ঢেঁড়স থেকে কি সত্যিই সমস্যা হতে পারে?
সবার ক্ষেত্রে নয়। তবে যাঁদের হজম ক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে কখনও সখনও সমস্যা তৈরি করতে পারে বেগুন এবং ঢেঁড়স। এমনিতে পুষ্টিকর সব্জি হলেও, অনেকের ক্ষেত্রে এ থেকে পেটে গ্যাস বা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তি তৈরি হতে পারে বলে জানাচ্ছেন দিল্লির এক পুষ্টিবিদ গরিমা গয়াল। তিনি জানিয়েওছেন, কাদের ক্ষেত্রে ওই দুই সব্জি হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
১. বেগুন কেন গ্যাসের সমস্যা করতে পারে?
ফাইবার ও শর্করা: বেগুনে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। গরিমা বলছেন, ‘‘যদি কারও হজম ক্ষমতা দুর্বল হয়, তবে এই অতিরিক্ত ফাইবার হজম হতে দেরি হবে। সেক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ অন্ত্রে জমে থাকা ফাইবার এবং শর্করা শরীরের ভিতরে গেঁজিয়ে গিয়ে গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে।’’
নাইটশেড সবজি: পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, বেগুন হল ‘নাইটশেড’ প্রজাতির সবজি। এই বিশেষ ধরনের আনাজে সোলানিন থাকে বেশি পরিমাণে। অনেকের পেটেই সোলানিন সহ্য হয় না। তা থেকে প্রদাহ বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
রান্নার ধরন: বেগুন ভাজলে তা প্রচুর তেলও টেনে নেয়। অতিরিক্ত তেল থাকা খাবার হজম করতেও অসুবিধা হয় অনেকের। সে ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা হতে পারে।
২. ঢেঁড়স কেন পেটে অস্বস্তি তৈরি করে?
ফ্রুক্টানস : পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, ঢেঁড়সে এক বিশেষ ধরনের কার্বোহাইড্রেট থাকে, যার নাম ফ্রুক্টানস। যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস রয়েছে এবং হজমের সমস্যাও হয়। তাঁদের শরীর ফ্রুক্টানস হজম করতে পারে না। ফলে পেট ফাঁপা এবং গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।
পিচ্ছিল পদার্থ: ঢেঁড়সে থাকা পিচ্ছিল পদার্থ বা মিউসিলেজ আদতে উচ্চমাত্রার ফাইবার। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করলেও, হঠাৎ বেশি পরিমাণে খেলে পেটে গ্যাস জমতে পারে।
সমস্যা এড়াতে যা করতে পারেন
১। খুব ভালভাবে রান্না করে খেলে হজম করা সহজ হয়।
২। রান্নায় আদা, জিরে বা হিং ব্যবহার করলে তা গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।
৩। বেগুন ভাজার বদলে পুড়িয়ে বা সেঁকে ভর্তা বানিয়ে খেলে সমস্যা কম হতে পারে।
৪। যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা বেশি পরিমাণে বেগুন বা ঢেঁড়স না খেয়ে অল্প পরিমাণে খেলে সমস্যা না-ও হতে পারে।
৫। যদি দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক বা আইবিএসের সমস্যা থেকে থাকে, তবে বেগুন বা ঢেঁড়স রাতে না খেয়ে দুপুরে খেতে পারেন।