সজনের বীজেই পরিশ্রুত হবে জল! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পানীয় জলে মাইক্রোপ্লাস্টিক এমন ভাবে মিশছে যে, সাধারণ ফিল্টারেও তা সবসময় আলাদা করা যাচ্ছে না। তার জন্য দরকার পড়ছে বিশেষ ধরনের রাসায়নিকের। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এক সুখবর দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, জলকে মাইক্রোপ্লাস্টিক মুক্ত করার কাজ করতে পারে সজনে ডাঁটার বীজ। যে সজনে ডাঁটা ভারতের মতো গরম আবহাওয়ার দেশে অজস্র পরিমাণে পাওয়া যায়। যে সজনে ডাঁটা শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার বাঙালিরও খাবারের থালার সঙ্গী। কিন্তু সজনে ডাঁটার বীজ জল পরিশ্রুত করবে কী ভাবে?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সজনের বীজের নির্যাসের থাকা কিছু উপাদানের সেই ক্ষমতা আছে। এ ব্যাপারে বাঘা বাঘা রাসায়নিককেও টেক্কা দিতে পারে সজনের বীজ। তা-ই যদি হয়, তবে মানুষ পরিশ্রুত এবং ঝুঁকিমুক্ত, স্বাস্থ্যকর পানীয় জল পাবেন কোনও রকম রাসায়নিকের ব্যবহার ছাড়াই! বিষয়টি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, জলের মাধ্যমে শরীরে জমতে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক ক্রমশই জরাগ্রস্ত করছে পৃথিবীকে। সমস্যার সমাধান যদি পাওয়া যায় উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে, তবে তার থেকে ভাল আর কি হতে পারে। সমাধানটি একটি গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অফ আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটিতে। তাতে গবেষকেরা বলছেন, জল পরিশ্রুত করার ক্ষেত্রে সজনে ডাঁটার বীজের নির্যাসের ক্ষমতা দেখে চমৎকৃত হয়েছেন তাঁরা।
দীর্ঘ দিন ধরেই সজনের বীজের ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করছিলেন বিজ্ঞানীরা, তাতেই তাঁরা দেখেছেন সজনের বীজের রস থেকে পাওয়া কিছু উপাদান জলে মেশানোর পরে যে প্রভাব দেখা যাচ্ছে, সেই একই কাজ করে অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের মতো রাসায়নিক। বিশেষ করে যে সমস্ত জলে ক্ষারের মাত্রা বেশি, তাতে অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের থেকেও ভাল কাজ করছে সজনে বীজের রস।
গবেষণা পত্রটি যিনি লিখেছেন, সেই গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তা সাওপাওলো স্টেট ইউনিভার্সিটির এক অধ্যাপক তথা বিজ্ঞানী। গ্যাব্রিয়েল বলছেন, ‘‘আমরা সজনের বীজের নির্যাস থেকে পাওয়া স্যালাইন ওয়াটার মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা জলে ব্যবহার করে দেখেছি, তা রাসায়নিকের থেকেও ভাল কাজ করছে। শুধু তা-ই নয় জলে অ্যালুমিনিয়াম সালফেট মেশানোর পরে জলে এক ধরনের ‘ডিজ়লভড অরগ্যানিক ম্যাটার’ তৈরি হয়, যা দূর করার কাজ একটু বেশি খরচসাপেক্ষ বলে আর করা হয় না। সজনের বীজের নির্যাস ব্যবহার করলে সেই সমস্যাও থাকে না।’’
অবশ্য সজনের বীজের নির্যাস এক সঙ্গে অনেকটা জল পরিশ্রুত করার কাজ করা যাবে না বলেই মনে করছেন গ্যাব্রিয়েল। অল্প পরিমাণে জল পরিশ্রুত করতে এটি সাহায্য করতে পারে। একটি ছোট গ্রামে বা অঞ্চলের অধিক খরচ ছাড়াই এমনটা করা যেতে পারে। এমনকি, বাড়িতেও সজনে ডাঁটার বীজ ব্যবহার করে এটি করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিজ্ঞানী। তবে সেই পদ্ধতিটি আরও সহজ এবং সাধারণের ব্যবহারযোগ্য করার কাজ এখনও চলছে।