টক-ঝাল আমলকির রসম রাইসের রেসিপি রইল। ছবি: ফ্রিপিক।
গরম পড়ছে। হেঁশেলে এখন সেই সব রান্নাই হবে যা পেট ঠান্ডা রাখবে। বাঙালির গরমকাল মানেই কাঁচা আমের ডাল বা আমড়া দিয়ে টক ডাল। সঙ্গে ঝাল ঝাল পোস্ত থাকলে তো কথাই নেই। টক ডাল শরীর ও মনে তৃপ্তি এনে দেয়। দক্ষিণ ভারতে রসমের ভূমিকাও তেমনই। দক্ষিণীদের খুব পছন্দের একটি খাবার হল রসম রাইস। কাঁচা আমের রসম তো ভালই, তবে আমলকি দিয়ে টক-ঝাল রসমও মন্দ নয়। ওজন কমানোর জন্য যাঁরা খাওয়াদাওয়ায় নানা বিধিনিষেধ মানছেন, তাঁরা যদি আমলকি দিয়ে রসম তৈরি করেন, তা হলে বেশি উপকার হবে। এই রসম রাইসে মশলা পড়বে খুব কম, কিন্তু স্বাদ হবে দারুণ। আমলকির গুণে পেটের সমস্যাও ঘুচবে।
অফিসের ব্যস্ততা বা বাইরের মশলাদার খাবার খেয়ে পেটের অবস্থা নাজেহাল? দক্ষিণ ভারতীয় আমলকির রসম রাইস ওষুধের মতো কাজ করবে। আমলকি ভিটামিন-সি এর ভাণ্ডার, যা বিপাকহার বাড়িয়ে অতিরিক্ত ক্যালোরি পুড়িয়ে দেবে। আর রসমের মশলা হজমে সাহায্য করবে। ডাল-ভাত খেয়ে যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁদের জন্য রসম রাইস সেরা বিকল্প।
আমলকির রসম রাইস তৈরির প্রণালী
উপকরণ:
৩-৪টি আমলকি
এক বাটি সেদ্ধ চালের ভাত বা ব্রাউন রাইস
আধ কাপ সেদ্ধ অড়হড় ডাল
১ চামচের মতো রসম মশলা (গোলমরিচ, জিরে ও ধনেগুঁড়ো)
১ চামচ আদাকুচি
একমুঠো ধনেপাতা
ফোড়নের জন্য
১ চামচ ঘি
আধ চামচ গোটা সর্ষে
২টি শুকনো লঙ্কা
একমুঠো কারি পাতা
এক চিমটে হিং
প্রণালী:
আমলকিগুলি থেকে বীজ বার করে সামান্য জল দিয়ে ব্লেন্ডারে পিষে নিন। অথবা প্রেসার কুকারে বীজ ছাড়ানো আমলকি ও অড়হড় ডাল এক সঙ্গে সেদ্ধ করে নিতে পারেন। এ বার ডাল সেদ্ধ, আমলকি, আদাকুচি ও নুন নিয়ে ফুটতে দিন। এতে রসম মশলা মিশিয়ে দিন। নুন দিতে হবে স্বাদমতো। অন্য একটি ছোট প্যানে সামান্য ঘি গরম করে তাতে সর্ষে, শুকনো লঙ্কা, কারিপাতা ও হিং ফোড়ন দিন। সামান্য নাড়াচাড়া করে ফোড়নটি রসমের উপর ঢেলে দিন ও ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। এ বার গরম গরম ভাতের উপরে আমলকির রসম ঢেলে পরিবেশন করুন।