হাঁটুর বাত সারবে প্লেটলেট প্লাজমা থেরাপিতে, কী এই পদ্ধতি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
হাঁটুর ব্যথার কারণ অনেক। জন্মগত কারণে হাড়ের গঠনে কোনও সমস্যা থাকলে, কোনও সংক্রমণ হলে, চোট লাগলে, আর্থ্রাইটিস হলে বা কার্টিলেজে আঘাত লাগলেও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। আবার কিছু কিছু টিউমারের কারণেও হাঁটুতে ব্যথা হয়। হাঁটুর বাত বা অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের নিরাময় সহজ নয়। এর জন্য জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। তবে অস্ত্রোপচার ছাড়াও আরও এক রকম চিকিৎসা পদ্ধতিতে হাঁটুর বাতের নিরাময় সম্ভব। সেই পদ্ধতিটি হল ‘প্লেটলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি’। কী এই পদ্ধতি, কী ভাবে কার্যকরী হতে পারে, তা জেনে নেওয়া যাক।
প্লেটলেট প্লাজমা থেরাপি কী?
রক্তে মূলত তিনটি উপাদান থাকে— লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লাজমা বা রক্তরস। এই প্লাজমার মধ্যে থাকে প্লেটলেট বা অণুচক্রিকা। এর মধ্যে এমন অনেক রকম উপাদান থাকে যা ক্ষতিগ্রস্ত কোষের মেরামতি করতে পারে। নতুন কোষ তৈরিতেও সাহায্য করে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় যদি এই প্লেটলেট সংগ্রহ করে তা ব্যথার জায়গায় প্রয়োগ করা হয়, তা হলে সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলির নিরাময় দ্রুত হতে পারে। যে পদ্ধতিতে এটি করা হয়, তাকেই বলে প্লেটলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, প্লেটলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি হাঁটুর ব্যথা বা অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় কার্যকরী হতে পারে।
প্লেটলেট সংগ্রহ করা পদ্ধতিটি নিয়ে জানিয়েছে অস্থিরোগ চিকিৎসক সুব্রত গড়াই। তিনি জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে রোগীর শরীর থেকে প্রথমে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এর পরে ওই সংগৃহীত রক্ত বিশেষ যন্ত্রে তীব্র গতিতে ঘোরানো হয়। এতে রক্তের স্তরগুলি আলাদা হয়। এর থেকে প্লেটলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা বা পিআরপি স্তরটিকে সংগ্রহ করা হয়। রোগীর আঘাত পাওয়া জায়গা চিহ্নিত করে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে সেখানে পিআরপি দেওয়া হয়। দু’সপ্তাহ অন্তর তিন ধাপে রোগীকে ওই ইঞ্জেকশন দেওয়া হতে থাকে। সঠিক উপায়ে পদ্ধতিটির প্রয়োগ করা গেলে, অস্ত্রোপচার ছাড়াই হাঁটুর যন্ত্রণা কমতে পারে।
কাদের জন্য পদ্ধতিটি কার্যকর?
প্রাথমিক বা মাঝারি স্তরের অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসে যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য পদ্ধতিটি কার্যকর হতে পারে।
দুর্ঘটনায় পায়ে বা হাঁটুতে আঘাত, লিগামেন্টে আঘাত পেলে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা যেতে পারে।
অল্প বয়সে হাঁটুর সমস্যায় ভুগছেন, অস্ত্রোপচার করাতে চাইছেন না যাঁরা, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থেরাপিটি করাতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা বিচার করে তবেই থেরাপি করবেন চিকিৎসক।
এই পদ্ধতির সুবিধা হল, যেহেতু রোগীর নিজের রক্তই ব্যবহার করা হয়, তাই অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় থাকে না। আলাদা করে স্টেরয়েড দেওয়ার দরকার পড়ে না। তবে যদি পঞ্চাশোর্ধ্ব বা ষাটোর্ধ্ব কারও অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে, তা হলে এই পদ্ধতিটি কার্যকর না-ও হতে পারে। হাঁটুর হাড় যদি মারাত্মক ভাবে ক্ষয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে প্রতিস্থাপন করারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।