Whooping Cough

সর্দি-জ্বর নেই, তাও কাশি থামছে না, শ্বাস নিতেও কষ্ট, কী ধরনের সংক্রমণ ঘটছে? সতর্ক করল আইসিএমআর

শুকনো কাশির সমস্যায় অনেকেই নাজেহাল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরও এক ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। জ্বর বা সর্দি নেই, ঠান্ডাও লাগেনি, তার পরেও নাগাড়ে কাশি হয়ে যাচ্ছে। ব্যথা হচ্ছে গলা ও বুকেও। কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও হচ্ছে। কী থেকে ঘটছে এমন সংক্রমণ?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১৫:১৮
Share:

জ্বর নেই, তা-ও ভোগাচ্ছে কাশি, থাকছে দু’সপ্তাহেরও বেশি, কী থেকে ঘটছে সংক্রমণ? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কাশি থামছে না। ওষুধ বা সিরাপেও নিরাময় হচ্ছে না। টানা সপ্তাহ দুয়েকের বেশি শুকনো কাশি ও গলা ব্যথা ভোগালে সতর্ক হওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। সর্দি বা জ্বর হলে সে সঙ্গে কাশি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, জ্বর নেই, ঠান্ডাও লাগেনি, তার পরেও নাগাড়ে কাশি হয়েই যাচ্ছে। কাশতে কাশতে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা কিছু ক্ষেত্রে কাশির সঙ্গে রক্তও বার হচ্ছে। এ সবই বর্ডেটেল্লা পার্টুসিস নামক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে ঘটছে বলেই দাবি গবেষকদের। পাঁচ বছরের নীচে শিশু, এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদেরও ভোগাচ্ছে এই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ।

Advertisement

কী থেকে হচ্ছে কাশি?

নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ঘটলে তা থেকে এমন ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে। আবার দূষণ, ধুলোবালি থেকেও হতে পারে। অ্যালার্জির ধাত যাঁদের বেশি, তাঁদের শ্বাসনালিতে পার্টুসিস ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ খুব দ্রুত ঘটে। সে ক্ষেত্রে জ্বর বা সর্দি না হলেও কাশি হতে পারে। একে বলে হুপিং কাশি, যা ইদানীং সময়ে অনেককেই ভোগাচ্ছে। সংক্রমণ এত দ্রুত ঘটছে যে, সতর্ক করেছে আইসিএমআরও।

Advertisement

বর্ডেটেল্লা পার্টুসিস ব্যাক্টেরিয়া শ্বাসের সঙ্গে ঢুকলে সরাসরি শ্বাসনালিতে গিয়ে বাসা বাঁধে। সেখানেই বংশবৃদ্ধি করে সংখ্যায় বাড়ে এবং এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। সেটি ফুসফুসে গেলে সেখানকার কোষগুলিকে নষ্ট করতে থাকে। ফলে ফুসফুসে প্রদাহ হয় এবং শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। কাশি একটানা চলতে থাকে, দমবন্ধ হয়ে আসার অনুভূতি হয়। এ ধরনের কাশি থেকে ঘন ঘন বমি হওয়া, কফের সঙ্গে রক্ত বেরিয়ে আসার লক্ষণও দেখা দেয়। তেমন হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।

সতর্ক থাকতে কী করবেন?

দূষণের মাত্রা কমানো সম্ভব নয়। তাই দূষিত বাতাস থেকে ফুসফুস বাঁচাতে হলে মাস্ক পরতেই হবে। ঘরের ভিতরের বাতাস পরিশুদ্ধ রাখার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।

ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অ্যালার্জির ধাত থাকলে শ্বাসের সঙ্গে যাতে ধুলোবালি, পোষ্যের লোম না ঢোকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে সময়মতো পার্টুসিস বা ডিটিপি টিকা নেওয়া না থাকলে বা বুস্টার ডোজ় না নিয়ে রাখলে সংক্রমণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।

শুকনো কাশি যদি এক সপ্তাহের বেশি থাকে, কাশির সঙ্গে গলা ও বুকে ব্যথা হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং রাতে ঘুমনোর সময়ে দমবন্ধ হয়ে আসে, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

বড়দের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা বা ফ্লু টিকা সময়মতো নিয়ে রাখলে ভাল। বিশেষ করে নিউমোনিয়া আগে হলে বা ফুসফুসের রোগ থাকলে, হাঁপানি বা সিওপিডির রোগীদের ক্ষেত্রেও ফ্লু টিকা চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়ে রাখলে ভাল।

পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের জন্য নিউমোকক্কাল প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এতে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement