Diabetes Control Tips

মেথি ভেজানো জল না কি মেথি চা, ডায়াবিটিসকে জব্দ করতে নিয়ম করে কোন পানীয়ে চুমুক দেবেন?

কিছু ঘরোয়া টোটকা দিয়েও ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে ভরসা রাখতে পারেন মেথির বীজে। হেঁশেলের এই মশলা রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি ডায়াবিটিস সামলাতেও পারদর্শী। তবে জানতে হবে খাওয়ার সঠিক নিয়ম।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৪
Share:

ডায়াবিটিস কমাতে কী ভাবে খেতে হবে মেথির দানা? ছবি: সংগৃহীত।

ডায়াবিটিসের প্রকোপ বাড়ছে ঘরে ঘরে। দৈনন্দিন জীবনের অনিয়ম মাঝবয়স থেকেই এই রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অত্যধিক মানসিক চাপের কারণে বয়স ৩০-এর কোঠা পেরোতে না পেরোতেই ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। ডায়াবিটিসের সূত্র ধরে শরীরে বাসা বাঁধে কোলেস্টেরল, থাইরয়েড, উচ্চ রক্তচাপের মতো হাজারটা রোগ। ডায়াবিটিসকে জব্দ করা সহজ নয়। খাওয়াদাওয়ায় নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি রোজের জীবনে কিছু কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ তো রয়েছেই। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়লে খাওয়াদাওয়ায় চলে আসে একাধিক বিধি-নিষেধ।

Advertisement

কিছু ঘরোয়া টোটকা দিয়েও ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে ভরসা রাখতে পারেন মেথির বীজে। হেঁশেলের এই মশলা রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি ডায়াবিটিস সামলাতেও পারদর্শী। মেথিতে রয়েছে থায়ামিন, ফোলিক অ্যাসিড, রাইবোফ্ল্যাভিন, নিয়াসিনের মতো উপকারী উপাদান। এগুলি ছাড়াও পটাশিয়াম, জি়ঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম-সমৃদ্ধ মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে দেয় না। ডায়াবিটিস রোগীর জন্য মেথি তাই মহৌষধি।

এ বার প্রশ্ন হল কী ভাবে মেথি খেলে সুগারের রোগীরা বেশি উপকার পাবেন। অনেকে সারা রাত মেথি জল ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ওই জল ছেঁকে খেয়ে নেন। অনেকে আবার মেথি জলে ফুটিয়ে খান। কোন ভাবে খেলে উপকার বেশি?

Advertisement

মেথির বীজ সারা রাত ভিজিয়ে রাখলে, এর পুষ্টিগুণ ধীরে ধীরে জলে মিশে যায়। এই পানীয়টি বেশ হালকা, হজম করা বেশ সহজ। এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে, অ্যাসিডিটি কমাতে এবং বিপাকক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। যাঁরা ওজন ঝরাতে চাইছেন তাঁদের জন্য এই পানীয় বেশ স্বাস্থ্যকর। এই পানীয় বানাতেও খুব বেশি ঝক্কি নেই।

অন্য দিকে, মেথির দানা জলে ফোটালে করলে এর সক্রিয় উপাদানগুলো আরও বেশি পরিমাণে নির্গত হয়, ফলে পানীয়টি বেশ গাঢ় হয়ে যায়। শরীরে জমা টক্সিন দূর করতে এই পানীয় বেশ উপকারী। এ ছাড়া সর্দি, কাশি, প্রদাহ, কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। তবে, এর স্বাদ বেশ তীব্র ও তেতো। তাই অনেকেই এটি খেতে পারেন না।

Advertisement

ভেজানো মেথির জলে প্রাকৃতিক এনজাইম বজায় থাকে, ফলে এটি পেটের জন্য সহনীয়। অন্য দিকে, ফোটালে বেশি পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট তৈরি হয়, যদিও এই প্রক্রিয়ায় কিছু তাপ-সংবেদনশীল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট কমে যেতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, দৈনিক ব্যবহারের জন্য ভেজানো মেথির জল বেশি উপযুক্ত। সর্দি-কাশি নিয়ন্ত্রণ বা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করার মতো স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজনে ফোটানো মেথির জল বেশি কার্যকর হতে পারে। ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও দু’টি ভাবেই খাওয়া যায়। তবে নিয়মিত খেতে হলে ভেজানো পদ্ধতিতেই ভরসা রাখা ভাল।

তবে রোজ মেথির জল খাওয়ার আগে ডায়াবেটিকেরা অবশ্যই চিকিৎসকের থেকে পরামর্শ নেবেন। হঠাৎ করে সুগার কমে গেলে আবার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement