Soumitrisha Kundu

সায়াটিকার সমস্যা নিয়ে দিনের পর দিন যন্ত্রণায় ভুগেছেন অভিনেত্রী সৌমিতৃষা! কী এই রোগ, কেন হয়?

আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া আগের এক সাক্ষাৎকারে সৌমিতৃষা জানিয়েছিলেন, তিনি বেশি ক্ষণ দাঁড়াতে পারতেন না, কাজ করতেও পারতেন না। ঠিক কী হয়েছিল অভিনেত্রীর?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭
Share:

সৌমিতৃষা কুন্ডু। ছবি: সংগৃহীত।

সদ্য মুক্তি পেয়েছে অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডু অভিনীত ‘কালরাত্রি ২’। ওয়েব সিরিজ়ে অভিনেত্রীর অভিনয় মন ছুঁয়েছে দর্শকের। তবে ‘প্রধান’ এবং ‘কালরাত্রি’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকে আর তাঁকে সে ভাবে পর্দায় দেখেননি দর্শক। দীর্ঘ এক বছর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। আনন্দবাজার ডট কমকে সৌমিতৃষা জানালেন, সায়াটিকার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। এখন তিনি সুস্থ আছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া আগের এক সাক্ষাৎকারে সৌমিতৃষা জানিয়েছিলেন, তিনি বেশি ক্ষণ দাঁড়াতে পারতেন না, কাজ করতেও পারতেন না। একটা বছর তিনি এই সমস্যায় কষ্ট পেয়েছেন।

দীর্ঘ ক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ, মাঝে হাঁটাচলার অবকাশও কম— আজকাল কর্মক্ষেত্রে এমন রুটিনে অভ্যস্ত অনেকেই। আর এই রুটিনের হাত ধরে শরীরে যখন তখন হানা দিচ্ছে সায়াটিকার ব্যথা। এক জায়গায় বসা ছাড়াও চাকা দেওয়া চেয়ারে বসে থাকা, শরীরের প্রয়োজনীয় শ্রমে ঘাটতি ইত্যাদি কারণেও এমন ব্যথার শিকার হতে পারেন। সায়াটিকা স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে ঊরুর পিছনের দিক থেকে শুরু করে পায়ের পিছনের দিকে এই বেদনা ছাড়িয়ে যায়। অনেক সময় অবশও হয়ে আসে পায়ের একাংশ। কখনও কখনও সেই যন্ত্রণার তীব্রতা এতটাই বেশি হয় যে, উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাটুকুও থাকে না। তাই ফেলে না রেখে ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। সঠিক ওষুধ এবং ব্যায়ামের সাহায্যে এই ব্যথা অনেকটাই আয়ত্তে রাখা যায়।

Advertisement

কোথায় থাকে এই স্নায়ু? এর উৎপত্তিস্থলই বা কোথায়?

সায়াটিকা শরীরের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে মোটা স্নায়ু, যা শুরু হয় স্পাইন বা মেরুদণ্ড থেকে। এর একাধিক রুটের মধ্যে কিছু আসছে কোমরের নীচের দিকে ‘লাম্বার স্পাইন’ থেকে। সেখানে কোনও ভাবে আঘাত পেলেও এই ব্যথা হয়। এই ব্যথাকে ‘লাম্বোসায়াটিকা পেন’ও বলা হয়। আর বাকি রুটের উৎপত্তি মেরুদণ্ডের শেষ অংশ থেকে, যাকে ‘স্যাক্রাম’ বলে। এই স্নায়ুর শেষ প্রান্তগুলি একত্রিত হয়ে ডান-বাম দিকে কোমর ও নিতম্বের নীচ থেকে একেবারে পায়ের গোড়ালি অবধি চলে যায়।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করার সময় পিছনের পকেটে মানিব্যাগ থাকলে সায়াটিকার সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া কঠিন। এ রকম ব্যথা অনুভব করলে সাবধানতা জরুরি। সহজে সমাধানযোগ্য সমস্যাটিকে অবহেলা করলে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা।

বসার ভঙ্গি যে কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ

সঠিক ভঙ্গিতে বসা সামগ্রিক সুস্থতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন অনেকেই ডেস্কে বসে কাজ করেন। এর মানে হচ্ছে দীর্ঘ সময় বসে থাকা। দীর্ঘ ক্ষণ বসে থাকতে হলে বসার ভঙ্গি যেন ঠিকঠাক থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। এমন একটি চেয়ারে বসুন, যেটি আপনার পিঠ ও মেরুদণ্ডকে সঠিক ভঙ্গিতে ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

আর কী কী কারণে হতে পারে সায়টিকার ব্যথা?

সায়াটিকার ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। গাড়িতে যেমন শক অ্যাবজ়র্ভার থাকে, তেমনই মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝেও ছোট ছোট ডিস্ক থাকে, যারা শক অ্যাবজ়র্ভারের কাজ করে। কোনও কারণে যখন ডিস্ক ফেটে ভিতরের থকথকে তরল-সহ মজ্জা বেরিয়ে এসে স্নায়ুতে ধাক্কা মারে, এটিই সায়াটিকার ব্যথা হওয়ার অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া স্নায়ুর কোনও অসুখ হলে তা থেকেও এই ধরনের সমস্যা হতে পারে। মেরুদণ্ডের উপর টিউমার হলেও তার চাপ নার্ভরুটগুলির উপরে পড়ে এই ধরনের ব্যথা হয়।

তবে ‘আর্থ্রাইটিস’ বা বাত সায়াটিকার ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া, দুর্ঘটনার জন্য কোমরে আঘাত পেলে বা ভেঙে গেলেও সায়াটিকার সমস্যা হতে পারে। অনেক সময়ে অন্তঃসত্ত্বাদের এই সমস্যা হয়।

কী ভাব মুক্তি পাওয়া সম্ভব?

গরম জলে স্নান: এই ধরনের স্নায়বিক বেদনা কমাতে গরম জলে স্নান খুবই কার্যকর। গরম জল স্নায়ুর ক্লান্তি কমাতে ও শরীরকে তরতাজা করতে বিশেষ উপকারী।

বরফ সেঁক: গরম জলে স্নানের পর সায়াটিকার ব্যথা যে অংশে, সেখানে বরফ সেঁক দিন। এতে যেমন মানসিক চাপ কমে, সেই সঙ্গে সায়াটিকার ব্যথাতেও আরাম হয়।

যোগাসন: শরীরের বিভিন্ন অঞ্চলের বেদনা ও দীর্ঘমেয়াদি কোনও অসুখ সারাতে যোগাসনের বিকল্প নেই। সায়াটিকার ব্যথা কমাতেও নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন আছে। কপোতাসন, রাজকপোতাসন প্রভৃতি সায়াটিকার ব্যথা কমাতে বিশেষ কার্যকর। কোনও প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে এই ধরনের আসন অভ্যাস করুন প্রতি দিন।

মালিশ: কোমর ও ঊরুর পেশিতে ব্যথা কমাতে চাইলে ফিজি়য়োথেরাপিও করাতে পারেন। অ্যারোমাথেরাপিতেও স্নায়ুর নানা মাসাজ হয়। সায়াটিকার ব্যথা কমাতে সে সবও খুবই কার্যকর।

তবে সায়াটিকার ব্যথা কমাতে বাজারচলতি বেদনানাশক তেল বা বেদনানাশক ওষুধে কাজে হবে না। যন্ত্রণা হলে সবার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্যথার ধরন বুঝে নিয়ম মেনে চলুন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement