ডায়াবিটিসের আগের পর্যায়ে রয়েছেন? খাওয়াদাওয়ায় কেন রাশ টানা জরুরি? ছবি: সংগৃহীত।
ডায়াবিটিস নিয়ে লোকজন সচেতন হলেও, প্রি-ডায়াবিটিস পর্ব নিয়ে তেমন সচেতনতা নেই। চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, ডায়াবিটিস ধরা পড়ার আগের এই পর্বটি নিয়ে। অনেকেরই রক্তে শর্করার মাত্রা পৌঁছে যায় বিপদসীমায়, অর্থাৎ ডায়াবিটিস হওয়ার আগের পর্যায়ে। এই সময়ে সতর্ক হলে, আরও কিছু দিন ঠেকানো যেতে পারে ডায়াবটিস। মুম্বইয় নিবাসী ডায়াবিটিসের চিকিৎসক আরতি উল্লাল জানাচ্ছেন, এই পর্বে পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিছু খাবার যেমন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, তেমনই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বাড়িয়ে দিতে পারে টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি। ডায়াবিটিসের আগের পর্বে পৌঁছোলে কোন ধরনের খাওয়ায় লাগাম টানা জরুরি?
চিনি এবং কার্বোনেটেড পানীয়: ডায়াবিটিস হলে চিনি খাওয়া বা মিষ্টি খাওয়া বারণ। তবে প্রি-ডায়াবিটিস পর্বে মিষ্টি খাওয়া পুরোপুরি ছাড়তে না হলেও, তা এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। কারণ, মিষ্টি বা চিনিকে বলা হয় ‘এম্পটি ক্যালোরি’। অর্থাৎ মিষ্টি বা চিনি খেলে শরীরে ক্যালোরির মাত্রা বাড়ে, কিন্তু এতে কোনও পুষ্টিগুণ নেই। ডায়াবেটিকদের শরীরে ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ করে না বলে চিনি থেকে শক্তি তৈরির বদলে তা রক্তে মিশতে থাকে। তা ছাড়া, চিনি বেশি খাওয়া মানেই বাড়তি ক্যালোরি দেহে যাওয়া, যা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে। ওজন বাড়লে ডায়াবিটিসের ঝুঁকিও বাড়ে। মিষ্টি, বাজারচলতি চিনিযুক্ত পানীয়, কার্বনযুক্ত পানীয় এই পর্ব থেকেই এড়িয়ে চলতে বলছেন চিকিৎসক।
রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট: ময়দার খাবার, সাদা ভাত, পাউরুটি দ্রুত পরিপাক হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে। এই ধরনের খাবারে ফাইবারের মাত্রা খুব কম বা প্রায় থাকেই না। ফলে, এমন খাবারও সব সময়েই এড়িয়ে চলা ভাল।
ভাজাভুজি: ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স বাড়িয়ে দিতে পারে ভাজাভুজি খাবার। ঘরোয়া ভাজাভুজি এক রকম। বিশেষত দোকানের খাবার এড়িয়ে চলতেই বলেন চিকিৎসকেরা। ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স তৈরি হলে ইনসুলিন হরমোন কলা, কোষে ঠিকমতো কাজ করে না। সেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে।
মদ্যপান: রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে লিভারেরও ভূমিকা থাকে।নিয়মিত মদ্যপানে লিভারের কার্যকারিতা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গ্লুকোজ় পরিপাকে বাধা সৃষ্টি করতে পারে অ্যালকোহল। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
শুধু খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ নয়, ডায়াবিটিসের চিকিৎসক অভিজ্ঞান মাঝি জানাচ্ছেন প্রি-ডায়াবিটিস পর্বেও শরীরচর্চা জরুরি। নিয়ম করে হাঁটা, গায়ে রোদ লাগানো, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখতে সাহায্য করে।