ছবি : সংগৃহীত।
সময় থাকতে হার্টের যত্ন নিতে বলেন চিকিৎসকেরা। কারণ, এই একটি প্রত্যঙ্গ এক বার কাজ করা বন্ধ করে দিলে অনেক ক্ষেত্রে তাকে পুনরায় চালু করার সময়টুকুও পাওয়া যায় না। খাতায়-কলমেই তার প্রমাণ রয়েছে। ইন্ডিয়ান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০২০-২১ সালের রিপোর্ট বলছে, দেশে মাঝবয়সি পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ২০২০ সালে ৩০-৬০ বছর বয়সিদের মধ্যে ১৯,২৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে। তার পরের বছর ১৮-৩০ বছর বয়সিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে ২,৫৪১ জনের।
হার্টের এক চিকিৎসক যদিও জানাচ্ছেন, হার্ট বাঁচার সময় দেয় না বললে ভুল হবে। বরং হার্ট অনেক আগে থেকেই রোগের জানান দিতে থাকে। কেউ কেউ সেই উপসর্গ এড়িয়ে যান। আর কেউ কেউ বুঝতে পারেন না। চেন্নাইয়ের ওই চিকিৎসকের নাম অরবিন্দ দুরুভসল। তিনি বলছেন, ‘‘প্রথম উপসর্গটি বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেই সময় থেকে হার্টের ক্ষতি শুরু হয়ে যায়। যত দ্রুত ওই উপসর্গ বুঝতে পারবেন, তত বেশি হার্টের পেশির তন্তু বাঁচাতে পারবেন। কারণ হার্টের রোগে সময়ই সব।’’
কোন কোন প্রথম দিকের উপসর্গ এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়?
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, রোগীরা সাধারণত প্রথম উপসর্গ হিসাবে সবচেয়ে বেশি যা বলেন—
১। বুকে অত্যন্ত বেশি চাপ অনুভব করা। এই চাপ এতটাই হবে যে মনে হবে বুকের উপর ভারী পাথর বসিয়ে দিয়েছে কেউ।
২। বুকের মাঝখানে একটা দমবন্ধ করা ব্যথা।
৩। বুকে কয়েক মিনিট ধরে হতে থাকা অস্বস্তি, যা চলে গেলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফিরে ফিরে আসে।
এ ছাড়া আরও কিছু অতি চেনা হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ রয়েছে—
১। বাঁ হাতে ব্যথা কিংবা দু’হাতেই ব্যথা হতে পারে।
২। চোয়াল এবং ঘাড়ে ব্যথা, যা অনেকেই দাঁতের ব্যথা ভেবে ভুল করেন।
৩। পিঠে ব্যথা বিশেষ করে দু’কাঁধের মাঝখানে।
তবে যে সমস্ত উপসর্গ দেখে সচরাচর হার্টের রোগ বলে মনে হয় না, সেগুলি হল—
১। আচমকা অত্যন্ত বেশি ক্লান্তিবোধ। সেই ক্লান্তিবোধ এতটাই বেশি যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েও মনে হবে ম্যারাথন দৌড়ে এসেছেন।
২। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
৩। মাথাঘোরা, বমি ভাব, গরম না করলেও মিন মিনে ঘাম হওয়া।
৪। কোমরের উপরের দিকের শরীরে কোনও অজানা অস্বস্তি হলেও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।