রসুনের সঙ্গে কোন উপাদান মেশাবেন? ছবি: সংগৃহীত।
নিম্নমুখী পারদ, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তুরে হাওয়া। ফলে জ্বর ভাব, সর্দি-কাশি লেগেই রয়েছে। বুকে ও গলায় জমছে শ্লেষ্মা। এমন আবহাওয়ার সঙ্গে মোকাবিলা করতে ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া টোটকাও বেশ কার্যকর। চেনা ও বহুল পরিচিত টোটকার পাশাপাশি কম প্রচলিত কৌশল প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। তার মধ্যে অন্যতম হল, রসুন ও মধু। মধুতে রসুন ভিজিয়ে রেখে খেতে হবে।
এই টোটকার উপকারিতা কী?
রসুন ও মধু স্বতন্ত্র ভাবে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী—
রসুনের তীব্র গন্ধের কারণ হল অ্যালিসিন। পুষ্টিবিদদের মতে, রসুনের এই ‘অ্যালিসিন’ নামক উপাদানই রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে আচমকা স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকিও কমে। অ্যালিসিনে একই সঙ্গে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের গুণ রয়েছে। এই কারণে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক এবং পরজীবীদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে রসুন খাওয়ার চল বেশ পুরনো। যাঁদের ঠান্ডা লাগার ধাত রয়েছে, তাঁদের জন্য রসুন খুবই উপকারী।
শীতের সময়ে রসুনের অঢেল উপকারিতা। ছবি: সংগৃহীত।
অন্য দিকে মধুতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, এনজ়াইম, ভিটামিন, খনিজ এবং এমন কিছু পুষ্টি উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। মধু হার্টের স্বাস্থ্যও ভাল রাখে। শরীরের যে কোনও প্রদাহ কমাতেও মধুর জুড়ি মেলা ভার। বিশেষ করে, ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশির সমস্যায় মধু ঘরোয়া দাওয়াই হিসাবে কার্যকরী।
মধুতে রসুন ভিজিয়ে খান। ছবি: সংগৃহীত।
সুতরাং শীতের রোগের সঙ্গে যুঝতে মধু আর রসুন একসঙ্গে খেতে পারেন। মধুতে রসুন ভিজিয়ে রাখলে, তা একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক টনিক হিসেবে কাজ করে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ঠান্ডা লাগা, সর্দি জমে থাকা কমায়, হজমশক্তি উন্নত করে, হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। মজানোর ফলে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং এটি খেলে শরীরে শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ে। তাই রোজ সকালে রসুন মেশানো এক চামচ মধু খেতে পারেন। অথবা দু’টি উপকরণ বেটে নিয়েও খাওয়া যায়।
মধুতে মিশিয়ে রসুন খেলে কী কী উপকারিতা মিলবে?
· রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। ফলে ফ্লু, ঠান্ডা লাগা, সর্দি, কাশি কমবে। রসুনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণের কারণে ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে। অন্য দিকে, মধু গলার অস্বস্তি, জ্বালা কমাতে পারে।
· মধু ও রসুনের যুগলবন্দির কারণে শরীর থেকে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমে গিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে ধমনীতে প্লাক জমার প্রবণতা কমে যায়। এই কারণেই হার্টের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে সক্ষম এই খাবারটি।
· রসুন হজমকারী উৎসেচককে উদ্দীপিত করে, অন্য দিকে মধু প্রাকৃতিক প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। ফলে অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়া পুষ্টি পায়। তাই পেটফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। হজম করার ক্ষমতা বাড়ে এবং পেটের অস্বস্তি দূর হয়।
· রসুন এবং মধুতে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যে কারণে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে গুরুতর ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে পারে।
· মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব। আর রসুনে রয়েছে বিপাকীয় হার বৃদ্ধির ক্ষমতা। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই যুগলবন্দি।
· রসুনে সালফার যৌগ থাকে, যা প্রদাহ কমায়। অন্য দিকে, মধু গাঁটের ব্যথা উপশম করে। আর্থ্রাইটিস এবং পেশির ব্যথা নিরাময়ের জন্য খুবই উপকারী তা।
· শ্লেষ্মা গলিয়ে শ্বাসনালী পরিষ্কার করার ক্ষমতা রয়েছে রসুনের। আর মধু গলার জ্বালা প্রশমিত করে এবং কাশি কমায়। ফলে শীতের সময়ে হাঁপানির সমস্যা কমাতে রসুন ও মধু একত্রে খাওয়া যেতে পারে।