Mineral Deficiency Symptoms

চুল পেকে যাচ্ছে, হাতে ঝিঁঝি ধরছে, উদ্বেগে ভুগছেন! নেপথ্যে কোন কোন পুষ্টির ঘাটতি হচ্ছে জানেন?

পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি চট করে চোখে পড়ে না। আর সেই সমস্যা বাড়তে বাড়তে একসময়ে জটিল রোগের সৃষ্টি করে। ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণগুলি কখনও-সখনও এতই সূক্ষ্ম হয় যে শনাক্ত করা যায় না। তালিকা দেখে মিলিয়ে নিন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৩
Share:

একটানা ক্লান্তির আসল কারণ কী? ছবি: সংগৃহীত।

সামগ্রিক ভাবে স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ প্রয়োজন। শারীরিক কার্যকলাপ, শক্তি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হাড়ের স্বাস্থ্য, রক্তাল্পতা প্রতিরোধ— ইত্যাদির জন্য মহিলাদের শরীরে বিশেষ ভাবে কিছু পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতি অপরিহার্য। ঋতুস্রাব, প্রজনন, রজোনিবৃত্তি, গর্ভাবস্থা, হরমোনের হেরফেরের সময়ে সেই উপাদানগুলিই শরীরে শক্তিপ্রদান করতে পারে।

Advertisement

কিন্তু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি চট করে চোখে পড়ে না। আর সেই সমস্যা বাড়তে বাড়তে একসময়ে জটিল রোগের সৃষ্টি করে। ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণগুলি কখনও-সখনও এতই সূক্ষ্ম হয় যে শনাক্ত করা যায় না। অনেকেই মনে করেন, মানসিক চাপ, বার্ধক্য বা ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে এই সমস্যাগুলি হচ্ছে শরীরে। আদপে তার কারণ হয়তো অন্য কিছু। আর তাই এক একটি পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির ভিন্ন ভিন্ন উপসর্গ সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন।

পেশিতে টান ধরার সমস্যাও পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ছবি: সংগৃহীত।

কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির কী উপসর্গ?

Advertisement

সোডিয়াম: সোডিয়ামের ঘাটতির কারণে ঘন ঘন মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেশিতে টান, নিম্ন রক্তচাপ এবং মাথা ঘোরা অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে যে সব মহিলার ঘাম বেশি হয়, খুব কম লবণযুক্ত খাবার খান বা অতিরিক্ত জল পান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সোডিয়ামের ঘাটতি বেশি নজরে পড়ে।

ম্যাগনেশিয়াম: একটানা ক্লান্তি, পেশিতে টান, শারীরিক দুর্বলতা, অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন, হাতে-পায়ে অসাড়তা, অনিদ্রা, উৎকণ্ঠার সমস্যা, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, পিরিয়ডের আগে মন ও মেজাজ খারাপ থাকা ইত্যাদি ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে হতে পারে।

পটাশিয়াম: এই পুষ্টি উপাদানের অভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পেশিতে টান ধরার সমস্যাও দেখা যায়। হাতে ও পায়ে ঝিঁঝি ধরা থেকে অসাড়তাও অনুভূত হতে পারে। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের সমস্যাও বাড়তে পারে পটাশিয়ামের ঘাটতিতে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য, গায়ে বল না পাওয়ার সমস্যাও হয় সে সব মহিলার, যাঁদের খাদ্যাভ্যাস খারাপ এবং দীর্ঘ দিন ধরে ওষুধ খান।

ক্যালশিয়াম: মহিলাদের মধ্যে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি খুব বেশি নজরে পড়ে একটু বয়স বাড়তেই। সে সময়ে হাড়ের দুর্বলতা, পায়ে ব্যথা, গাঁটে যন্ত্রণা, নখে দুর্বলতা, পেশিতে ব্যথা, ঘন ঘন চোট পাওয়া, দাঁতের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে বিষণ্ণতা, স্মৃতিভ্রম এবং শ্বাসকষ্টের প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

জ়িঙ্ক: মহিলাদের মধ্যে জ়িঙ্কের ঘাটতির লক্ষণগুলি হল, চুল ঝরে পড়া, নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, ত্বকের ব্রণ ও শুষ্কতার সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়া, ক্ষত শুকোতে দেরি হওয়া, ঘন ঘন সংক্রমণ হওয়া, খিদে কমে যাওয়া, স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভূতি কমে যাওয়া, মেজাজ পরিবর্তন, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি। অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন ও স্তন্যপান করানোর সময় এই ঘাটতি বেশি নজরে আসতে পারে।

আয়রন: ঋতুস্রাবের কারণে সিংহভাগ মহিলার শরীরেই আয়রনের ঘাটতি হয়। এর ফলে শরীরে সারাক্ষণ ক্লান্তি থাকে, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়, মাথা ঘোরে, শ্বাসকষ্ট হয়, মনোযোগের অভাব ঘটে এবং চুল ঝরে পড়ে। মুখের কোনায় ঘা, জিহ্বার গঠনে পরিবর্তনও হতে পারে। ঋতুস্রাবের সমস্যাও দেখা দেয় আয়রন কম থাকলে।

সেলেনিয়াম: সেলেনিয়ামের মাত্রা কমে এলেই শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। চুল পাতলা হয়ে আসা, ক্লান্ত হয়ে থাকা, পেশিতে ব্যথা হওয়া, থাইরয়েড সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেওয়া, এমনকি বন্ধ্যাত্বেরও ঝুঁকি থাকে গুরুতর ক্ষেত্রে।

কপার: ক্লান্তি ও দুর্বলতা, রক্তাল্পতা, ঘন ঘন সংক্রমণ, হাতে-পায়ে অসাড়তা বা ঝিঁঝি ধরা, ফ্যাকাশে ত্বক, চুল পেকে যাওয়া, হাড়ের জোর কমে আসা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া এবং ত্বকের সমস্যা দেখা দেয় কপারের পরিমাণ কম থাকলে। এ ছাড়াও অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগার সমস্যাও বাড়তে পারে। ঋতুস্রাবও অনিয়মিত হতে পারে এর ফলে।

আয়োডিন: মহিলাদের মধ্যে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে হাইপোথাইরয়েডিজ়মের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ থাইরয়েড গ্রন্থির সক্রিয়তা একেবারে কমে যেতে পারে। তার ফলে শরীর প্রবল ক্লান্ত লাগতে পারে। তা ছাড়া ওজন বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তির সমস্যা, ঠান্ডা লাগা, ত্বক শুষ্ক হয়ে আসা, অনিয়মিত বা অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement