Swimming Pee Urge

জলে নামলেই প্রস্রাব পায়! সুইমিং পুলে, সমুদ্রে নেমে এমন অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই হয়েছে, কারণ কী?

বেশি জল খাননি। তার পরেও পুলে সাঁতার কাটার সময়ে হঠাৎ করেই প্রস্রাবের বেগ আসে। একই রকম অভিজ্ঞতা হয় সমুদ্রে নেমে স্নানের সময়েও। জলে নামলেই প্রস্রাব পাওয়ার কারণ বেশি জল বা চা-কফি খাওয়া নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে হরমোনের খেলা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১১:৫৭
Share:

স্নানের সময়ে, সাঁতার কাটার সময়ে প্রস্রাব পায় কেন? ছবি: ফ্রিপিক।

পুলে নেমে সাঁতার কাটা শুরু করেছেন। কিছু ক্ষণ পরেই প্রস্রাবের বেগ এমন ভাবে আসবে যে প্রকৃতির ডাকে সাড়া না দিয়ে উপায় থাকবে না। স্নানের সময়েও এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি সকলেরই হয়। গায়ে ঠান্ডা জল পড়া মাত্রই প্রস্রাবের বেগ আসে। সমুদ্র স্নানের সময়ে তো এমন অভিজ্ঞতা প্রায় সকলেরই হয়ে থাকে। জলে নামলেই যে প্রস্রাবের বেগ আসে, তার জন্য আপনি মোটেই দোষী নন। অনেকে ভাবেন, জলে নামার আগে বেশি জল পান করলে বা চা-কফি খেলে এমনটা হতে পারে। কারণ সেটিও নয়। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে হরমোনের খেলা।

Advertisement

জলে নামলেই যে প্রস্রাবের বেগ আসে, এটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ইমার্সন ডিউরেসিস’। এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যেখানে কিডনি অধিক সক্রিয় হয়ে অতিরিক্ত মূত্র উৎপাদন করতে শুরু করে। শরীর জলে ডুবে থাকলে, কিডনি তখন অধিক পরিমাণে বর্জ্য ও তরল শরীর থেকে ছেঁকে বার করে দেওয়ার কাজটি শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে বলে ডিউরেসিস। সে কারণেই প্রস্রাবের বেগ আসে। আমেরিকার অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির হাইড্রেশন সায়েন্স ল্যাবরেটরির গবেষকেরা জানিয়েছেন, জলে নিমজ্জিত থাকার সময়ে হার্ট, কিডনি বা রক্তনালির কাজ করার প্রক্রিয়ায় খানিক বদল আসে। দু’টি কারণে এমন হতে পারে।

১) জলের তাপমাত্রা ও রক্তনালির সঙ্কোচন

Advertisement

সুইমিং পুল বা যে কোনও জলাশয়ের তাপমাত্রা সাধারণত শরীরের চেয়ে কম থাকে। এই ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে এলেই ত্বকের রক্তনালিগুলি সঙ্কুচিত হয়ে যায়, যাতে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকে। এর ফলে, হাত-পায়ের দিকে থাকা রক্ত মূলত শরীরের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ বুকের দিকে চলে আসে।

২) হরমোনের কারসাজি

বুকের দিকে রক্ত ও তরলের চাপ বেড়ে যাওয়ায় হার্ট ও ফুসফুস মনে করে যে শরীরে তরলের পরিমাণ বাড়ছে। ভুল সঙ্কেত পেয়ে মস্তিষ্ক তৎক্ষণাৎ অ্যান্টি-ডিউরেটিক হরমোন (এডিএইচ) তৈরি বন্ধ করে দেয়। এই হরমোন প্রস্রাব ধরে রাখা কাজটি নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে হার্ট আরও একটি হরমোন তৈরির কাজ শুরু করে সেটি হল ‘অ্যাট্রিয়াল ন্যাট্রিইউরেটিক ফ্যাক্টর’ (এএনএফ)। এই হরমোনটির কাজ হল রক্তনালি প্রসারিত করে দ্রুত প্রস্রাব নিষ্কাশনের পথটি খুলে দেওয়া। সেই সঙ্গে কিডনিকে নির্দেশ পাঠানো যে শরীরে জমা অতিরিক্ত তরল যেন বার করে দেওয়া হয়। হরমোনের নির্দেশ পেয়ে কিডনি তখন অতিরিক্ত মূত্র উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়। ফলে জলে নামার কিছু সময় পর থেকেই প্রস্রাবের বেগ আসতে শুরু করে।

পুলে নেমে দীর্ঘ সময় সাঁতার কাটেন যাঁরা অথবা পেশাদার সাঁতারুরা এমন সমস্যার মুখোমুখি হয়েই থাকেন। একটানা সমুদ্রে নেমে স্নান করলে প্রস্রাবের বেগ আসেই। জল যত ঠান্ডা হবে, রক্তনালির সঙ্কোচন তত বেশি হবে। ফলে দ্রুত প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেই হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement