ছবি : সংগৃহীত।
কোনও নেটপ্রভাবী পুষ্টিবিদের কাছে শুনেছেন কিংবা পড়েছেন কোনও পত্রিকায়— অমুক ফলটি হার্টের জন্য ভাল। নিয়মিত খেলে ব্লাডপ্রেসার, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে যাঁরা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে চান, তাঁরা নিয়ম করে সেই ফল খাচ্ছেন এবং ভাবছেন, এতে ভাল থাকছে হার্ট। যদিও চিকিৎসকেরা বলছেন, কোনও একটি ফল ম্যাজিকের মতো হার্ট ভাল রাখতে পারে না।
সম্প্রতি দিল্লি এমসের এক মেডিসিনের চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কা শেরাওয়াত এ ব্যাপারে নিজের মত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা কথায় কথায় ইদানীং বলি সুপারফুড। কোনও খাবারের তিন চার রকমের জরুরি পুষ্টিগুণ থাকলেই তাকে ‘সুপারফুড’ তকমা দিয়ে দিচ্ছি। যেন ওই সুপারফুড খেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবটা তা নয়। কোনও একটি খাবার বা একটি ফলের পক্ষে শরীরের সমস্ত জটিলতা সামলানো সম্ভব নয়। হার্ট তো অনেক দূরের কথা।’’
একই কথা বলছেন পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তীও। তাঁর বক্তব্য, ‘‘হার্ট অ্যাটাক হয় কোলেস্টেরল, মানসিক চাপ, ডায়াবিটিস, ধূমপান-মদ্যপানের অভ্যাস-সহ আরও নানা কারণে। এমনকি, জিনগত বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ফল অবশ্যই হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল কারণ তাতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, জরুরি ভিটামিন এবং খনিজ আছে। যা হার্টের বিভিন্ন প্যারামিটার যেমন কোলেস্টেরল, ব্লাড প্রেসার ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু কোনও একটি ফলের পক্ষে একা হার্টের খেয়াল রাখা সম্ভব নয়। ’’
তবে কী ভাবে খাবেন ফল?
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ অনুযায়ী, ‘‘হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য সারাদিনের খাওয়াদাওয়ায় নানা রকম ফল রাখা যেতে পারে।’’ তবে সেগুলি শুধু হার্ট ভাল রাখবে ভেবে খেলে হবে না। হার্টের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ডায়াবিটিসের কথাও মাথায় রাখতে হবে। বদলাতে হবে জীবনযাপন।’’
দিনে এক থেকে দে়ড় কাপ নানা রকমের ফল খাওয়ার কথা বলছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র। তবে সেই ফল খাওয়ারও কিছু নিয়ম আছে।
১। তাজা এবং গোটা ফল কাঁচা অবস্থাতেই কামড়ে খান। ফলের রস নয়।
২। কলার মতো ফল হলে আলাদা কথা, কিন্তু অন্য ফল খোসা সমেতই খান। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং উপকারী ফাইবার ফলের খোসাতেই থাকে।
৩। আঙুর, টক জাতীয় ফল, আপেল, নাশপাতি, পেয়ারা এবং দেশীয় বেরি জাতীয় ফল যেমন আমলকি, জাম ইত্যাদি বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ, এই ধরনের ফল ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
৪। ফলের সঙ্গে কিছু প্রোটিনও রাখার চেষ্টা করুন। যেমন- ভেজানো বাদাম, বীজ, দই ইত্যাদির সঙ্গে ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা হার্টের সুস্থতা বজায় রাখতে জরুরি।
৫। ফলের সঙ্গে পেটভর্তি খাবার খাবেন না। যখন ফল খাচ্ছেন, তখন ফলই খান। হয় বেলার দিকে প্রাতরাশ এবং দুপুরের খাবারের মাঝে। নয়তো দুপুরের খাবারের ঘণ্টাখানেক পরে। প্রাতরাশে দই, ওটসের সঙ্গে ফল, বীজ ইত্যাদি খেলে তার সঙ্গে আর কিছু না খাওয়াই ভাল।
৬। দু’তিন রকমের ফলের টুকরো মিলিয়ে মিশিয়ে খান। তবে মাপ বুঝে। এক কাপ ফল খেলে আধ কাপ কলা আর আধ কাপ আপেল টুকরো করে মিশিয়ে নিন।
৭। ফল খাওয়ার পাশাপাশি সুস্থ হার্টের জন্য তেল, চিনি, নুনও ভেবেচিন্তে খাওয়া উচিত বলে জানাচ্ছে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন। সেই সঙ্গে অ্যালকোহল, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ময়দা, চিনি ইত্যাদি থেকেও দূরে থাকতে বলছে তারা।