গরমের দিনের কোন কোন পানীয় পেট ঠান্ডা রাখবে, অম্বল কমাবে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
বিয়েবাড়ি গিয়ে ভালমন্দ খেয়ে ফেললেন, তার পরেই গলা-বুক জ্বালায় অস্থির। বাড়িতেও যে দিন পাত পেড়ে মাছ বা মাংস বেশি খেয়ে ফেলেন, সে দিন অম্বল অবধারিত। গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় যাঁরা বেশি ভোগেন, তাঁরা হয়তো ভাবতে পারেন কিছু খেলেই অম্বল হওয়ার অর্থ হল ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’-এর সমস্যা অথবা ‘জিইআরডি’, অর্থাৎ ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজ়িজ়’। এই দু’টিই হল হজমের ব্যাধি। গরমের দিনে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা আরও বাড়ে। এর থেকে রেহাই পেতে সকালে খালি পেটে ওষুধ খান অনেকেই। রাতে সমস্যা হলে তখনও হাতের কাছে ওষুধ রাখতে হয়। তবে ওষুধের চেয়েও বেশি ভাল কাজ করতে পারে ডিটক্স পানীয়। এমন পানীয় যা শরীর থেকে টক্সিন বা দূষিত পদার্থ বার করে দিতে পারে।
গরমের দিনে রাস্তায় তৈরি হওয়া লাল-নীল শরবত বা আখের রস খান অনেকে। চিকিৎসকেরা বলেন, এই ধরনের পানীয় পেটের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তার চেয়ে ঘরে এমন কিছু পানীয় তৈরি করে নিতে পারেন, যা পেট ঠান্ডা রাখবে। গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও কমে যাবে।
কোন কোন পানীয় পেট ঠান্ডা রাখবে?
শসা ও পুদিনার ডিটক্স
শসা শরীরকে ঠান্ডা রাখে আর পুদিনা পাতা হজমে সাহায্য করে। ১টি মাঝারি মাপের শসা টুকরো করে কেটে নিতে হবে। সঙ্গে লাগবে ১০-১২টি পুদিনা পাতা, ১টি গোটা পাতিলেবু আধখানা করে কেটে নেওয়া ও এক লিটার জল। একটি কাঁচের বড় বোতলে জল ভরে তাতে তাতে শসা, লেবু ও পুদিনা দিয়ে দিন। সারা রাত বা অন্তত ৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। সারা দিন অল্প অল্প করে এই জল পান করুন।
আদা-লেবুর ডিটক্স চা
এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে আদা কুচি দিয়ে মিনিট পাঁচেক ঢেকে রাখুন। এর পর জল ছেঁকে তাতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে দিন। এই পানীয় সকালে বা সন্ধ্যায় খেলে পেট ভাল থাকবে। এই পানীয় ওজন কমাবে, অম্বলের সমস্যাও কমাতে সাহায্য করবে।
ডাবের জল ও চিয়া বীজের পানীয়
ডাবের জলে থাকা ইলেকট্রোলাইট গরমে ক্লান্তি দূর করে আর চিয়া বীজ পেট ঠান্ডা রাখে। চিয়া বীজ হজমে সহায়ক ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে। এই পানীয় তৈরি করতে এক গ্লাস ডাবের জল ও এক চামচ ভেজানো চিয়া বীজ নিতে হবে। ডাবের জল গ্লাসে ঢেলে তাতে চিয়া বীজ মিশিয়ে দিন। উপর থেকে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে পান করুন।