ফ্যাটি লিভার সারাবে কোন কোন ভেষজ চা? ছবি: ফ্রিপিক।
নানা রকম ভেষজ চা বাজারে পাওয়া যায়। তবে সে সবের চেয়ে ঘরোয়া টাটকা উপাদান দিয়ে নিজে বানিয়ে নিলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। চা এমন ভাবে বানাতে হবে যাতে প্রাকৃতিক উপাদানের পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। এমন চা খেলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা যেমন কমবে, তেমনই লিভার ভাল থাকবে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যার কারণে যাঁরা দুধ দিয়ে চা বা কফি খেতে পারেন না, তাঁদের জন্য বাড়িতে তৈরি সুস্বাদু ভেষজ চায়ের কিছু রেসিপি রইল। নিয়মিত খেলে ওজন কমবে এবং লিভারে মেদও নির্মূল হবে।
দারচিনি-গোলমরিচের চা
দারচিনি, গোলমরিচ, লেবুর রস ও মধু দিয়ে বানাতে পারেন ভেষজ চা। এক চামচ দারচিনির গুঁড়ো, সিকি চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো, এক চামচ লেবুর রস ও এক চামচ মধু-র মধ্যে এক কাপ ফুটন্ত জল দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে ছেঁকে নিন। দারচিনির কুমারিন, গোলমরিচের পিপারিন প্রদাহের প্রবণতা কমাবে, বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। লেবুর ভিটামিন সি-এর কাজও তাই। সঙ্গে যুক্ত হবে মধুর এনার্জি। এই চা পেটের জন্য খুব ভাল।
পুদিনা-লবঙ্গের চা
পুদিনা পাতা এবং লবঙ্গ পেটের সমস্যা কমাবে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করবে। ৮-১০টি পুদিনা পাতা এবং ২-৩টি লবঙ্গ দিয়ে জল ফুটিয়ে নিন। এটি পান করলে খাওয়ার পর পেট ফাঁপার সমস্যাও কমে যাবে। সকালে খালি পেটে সামান্য মধু মিশিয়ে এই চা পান করলে ওজন কমবে। তবে ডায়াবিটিস থাকলে মধু ন মেশানোই ভাল।
অশ্বগন্ধার চা
রোজ সকালে বা বিকেলে এক কাপ অশ্বগন্ধার চা খেতে পারেন। এক কাপ ফুটন্ত জলে এক চা-চামচ অশ্বগন্ধা মূলের গুঁড়ো দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন মিনিট ১০-১৫। ছেঁকে লেবুর রস ও মধু দিয়ে খান। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রদাহের প্রবণতা কমবে। অশ্বগন্ধার জীবাণুনাশক গুণও আছে। কমবে মানসিক চাপ-অবসাদ ও বয়সজনিত ক্ষয়-ক্ষতির হার।
আদা-জোয়ানের চা
এক চামচ জোয়ান সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন, একটি প্যানে জোয়ানের জল গরম করুন, তাতে মিহি করে কাটা আদা দিয়ে ফুটতে দিন। মিনিট পাঁচেক ফোটানোর পরে চা ছেঁকে নিন। তার মধ্যে এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিলেই তৈরি ওজন কমানোর চা।
হলুদ-লেবুর চা
একটি চায়ের কাপে হলুদ এবং লেবুর রস মিশিয়ে তাতে জল দিয়ে দিন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ঠান্ডা হলে পান করুন। সারা দিনে বিভিন্ন খাবারের মাঝে মাঝে অন্তত ৩ বার খাওয়ার চেষ্টা করুন।