চোখের ক্লান্তি দূর হবে সহজ কিছু ব্যায়ামে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
দিনের অনেকটা সময়ই কেটে যায় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে। তার উপরে মোবাইলে স্ক্রল করা চলছে অনবরত। দিনের শেষে চোখ দু’টি মনে হয় আর খুলে রাখা যাচ্ছে না। চোখের ক্লান্তি এতটাই বাড়ছে যে, দৃষ্টিও ঝাপসা হয়ে যায় অনেক সময়ে। চোখে যন্ত্রণা, জল পড়া, চোখ লাল হয়ে ওঠার সমস্যা তো আছেই। ইদানীং কালে চোখের ক্লান্তি মারাত্মক ভাবে বেড়ে গিয়েছে। তা দূর করতে কেবল চোখের ড্রপে কাজ হবে না। অভ্যাস করতে হবে সহজ কিছু ব্যায়াম। চোখ ভাল রাখারও যোগাসন আছে। সেগুলি শিখে নিলে দৃষ্টিশক্তি আরও ভাল হবে।
করতলাসন
চোখের ক্লান্তি দূর করার অন্যতম কার্যকর আসন। পিঠ সোজা রেখে বসুন। চেয়ারেও বসতে পারেন। দুই হাতের তালু একে অপরের সঙ্গে খুব জোরে ঘষতে হবে, যত ক্ষণ না তা গরম হয়ে ওঠে। এর পর চোখ বন্ধ করে উষ্ণ তালু দু’টি চোখের উপর আলতো করে রাখুন। খুব বেশি চাপ দেবেন না। হাতের উষ্ণতা চোখকে আরাম দেবে। এতে চোখের নীচের ফোলা ভাব থাকলে, তা-ও কমে যাবে। আসনটি করার সময়ে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। দিনে ৩-৪ বার করতে পারেন।
ভ্রামরী
পদ্মাসন, বজ্রাসন বা যে কোনও সুখাসনে বসে দুই হাতের তালু দিয়ে দুই চোখ ঢাকতে হবে। দুই হাত কাঁধ বরাবর থাকবে। এ বার নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। কিছু ক্ষণ ধরে রেখে নাক দিয়েই শ্বাস ছাড়ুন। আর শ্বাস ছাড়ার সময়ে গলা দিয়ে গুনগুন করে আওয়াজ বার করতে হবে। কিন্তু ঠোঁট ফাঁক করলে চলবে না। মুখ বন্ধ রেখে আওয়াজ করতে হবে। ভ্রামরী আসলে প্রাণায়ামের এক বিশেষ পদ্ধতি, যা নিয়মিত অভ্যাস করলে চোখের পাশাপাশি মন ও মস্তিষ্কেরও ব্যায়াম হয়। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও কেটে যায়।
শাম্ভবী মুদ্রা
সোজা হয়ে বসে চোখ বন্ধ করুন। দুই হাত হাঁটুর উপর জ্ঞান মুদ্রায় বা স্বাভাবিক ভাবে রাখতে পারেন। এ বার গভীর ভাবে শ্বাস নিয়ে চোখ খুলে দুই ভ্রু-র মাঝখানের অংশে (যেখানে টিপ পরা হয়) দৃষ্টি নিবদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। চোখের উপর খুব বেশি চাপ দিলে হবে না। ভ্রু-র মাঝখানে তাকাতে গিয়ে চোখে ব্যথা হলে, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যান। এটি নিয়মিত অভ্যাসে দৃষ্টিশক্তি উন্নত হবে, মনঃসংযোগও বাড়বে।