মাথার একপাশের যন্ত্রণা কমবে সহজ আসনে, শিখুন পদ্ধতি। ছবি: ফ্রিপিক।
মাথার ব্যথা নিয়ে বড়ই মাথা ঘামান অনেকে। রোদে বেরোলে ব্যথা, বৃষ্টিতে ভিজলে ব্যথা। কখনও মাথার ডান দিকে, কখনও বাঁ দিকে, কখনও মাঝখানে আবার কখনও বাঁ দিক থেকে শুরু করে একেবারে ডান দিক অবধি ব্যথার স্রোত বয়ে যায়। এই ব্যথা মানেই যে মাইগ্রেন বা সাইনাসের কারণে ব্যথা, তা কিন্তু নয়। অনেকেরই দেখবেন, মাথার শুধু একটি পাশে ব্যথা হয়। সেই ব্যথা টানা চলতে থাকে। মাথার একটি দিকের ব্যথা মাসের পর মাস ভোগাতে পারে। ওষুধ খেয়ে বা মলম লাগিয়েও সহজে সারে না। এমন ব্যথাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া’। এ ব্যথার নিরাময় চাইলে, সহজ কিছু যোগাসন শিখে নিতে হবে।
‘হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া’ খুবই কষ্টদায়ক। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশের প্রদাহ বাড়লে এই ধরনের ব্যথা হয়। স্নায়বিক জটিলতাও রয়েছে এর নেপথ্যে। এমন ব্যথা যদি খুব ভোগায়, তা হলে এর নিরাময়ের উপায় জেনে রাখুন।
অধোমুখ শবাসন
এই আসনটি রোজ অভ্যাস করলে মাথার যন্ত্রণা কমে যাবে। ‘হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া’-র ব্যথা তো বটেই, মাইগ্রেনের কারণে যন্ত্রণা হলে তা-ও সারবে। আসনটি করতে প্রথমে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো করে বসুন। হাতের তালু মাটিতে থাকবে, পিঠ উপরের দিকে তুলতে হবে, পায়ের পাতা মাটি স্পর্শ করে থাকবে। দেখতে লাগবে অনেকটা ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষরের মতো। মাথা যতটা ঝোঁকাতে পারবেন, ততই ভাল। এই ভঙ্গিমায় ২০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
বিপরীত নমস্কার বদ্ধ কোণাসন
ম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসুন। পিঠ টানটান থাকবে। দুই হাঁটু ভাঁজ করে দুই পায়ের পাতা যতটা সম্ভব টেনে নিন। এ বার দুই হাত পিছনে পিঠের দিকে নিয়ে যান। দুই হাত মুঠো করে রাখতে হবে। লম্বা শ্বাস নিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে মাথা দিয়ে মাটি স্পর্শ করুন। এই অবস্থায় থাকুন মিনিট দুয়েক। তার পর আবার আগের অবস্থানে ফিরে যান। ঘাড়, কাঁধের পেশির ব্যায়াম হয় এই আসনে। স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়ে।
পশ্চিমোত্তাসন
প্রথমে চিৎ হয়ে শুয়ে দু’ হাত তুলে মাথার দু’ পাশে উপরের দিকে রাখুন। ধীরে ধীরে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’ হাত দিয়ে জোড়া পায়ের বুড়ো আঙুল ধরুন। দুই পায়ের মাঝখানে কপাল ঠেকাতে হবে। এ অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে মনে মনে দশ থেকে তিরিশ গুনুন। তার পর শুরুর অবস্থানে ফিরে যান।