ছবি : সংগৃহীত।
ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যথা, কোমরে, পা অস্বস্তি কতটা কষ্টের, তা যাঁর হয় তিনিই জানেন। তবে তার চেয়েও কষ্টকর হল সেই যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে স্বাভাবিক ভাবে দৈনন্দিন সমস্ত কাজ এবং দায়িত্ব পালন করে যাওয়া। অনেকেই এই কারণ দেখিয়ে কাজ থেকে ছুটি বা অব্যহতি পেতে অস্বস্তি বোধ করেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের বেদনার উপশম কী করে হবে। কিছু ঘরোয়া টোটকা এ ক্ষেত্রে কাজে দিতে পারে।
১. আদার পানীয়
আদাতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান, যা শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের হরমোনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এই হরমোনই ব্যথার মূল কারণ। কারণ এটি জরায়ুকে সংকুচিত করে দেয়, যে কারণে ব্যথাবোধ হতে থাকে। এক টুকরো আদা থেঁতো করে গরম জলে ফুটিয়ে সামান্য মধু মিশিয়ে খেলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
২. জোয়ানের জল
জোয়ান পেশির ক্র্যাম্প বা টান এবং তা থেকে হওয়া ব্যখা কমাতে কার্যকরী। এ ছাড়া জোয়ান হজমেও সাহায্য করে, কারণ ঋতুস্রাবের সময় অনেকেরই পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হয় যা ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এক গ্লাস জলে এক চামচ জোয়ান ফুটিয়ে হালকা গরম থাকতে থাকতে খেলে ব্যথায় উপশম হয়।
৩. হলুদ দুধ
হলুদে থাকা কারকিউমিন অত্যন্ত কার্যকরী প্রদাহনাশক। যা যেকোনও ব্যখাতেই কার্যকরী। ঋতুস্রাবের সময় মূলত পেশির ব্যথা হয়। এক গ্লাস গরম দুধে এক চিমটে হলুদ এবং সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে পেশি শিথিল হবে। ব্যথাও কমবে। ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা হওয়ার প্রবণতা থাকলে নিয়মিত রাতে এই পানীয় খেতে পারেন। তাতেও ব্যথা কম হবে।
এ ছাড়া যা করতে পারেন
এই সময় প্রচুর পরিমাণে সাধারণ জল পান করুন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা কফি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন, কারণ এতে রক্তনালীকে সংকুচিত হয়ে ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। বেশি ব্যথা হলে গরম জলের সেঁক নিলেও আরাম হতে পারে।