Gallbladder Cancer Risk

অজান্তে দেহে বাসা বাঁধে গলব্লাডার ক্যানসার! বিলম্বিত উপসর্গই দায়ী, কারণ জেনে আগেই সতর্ক হোন

কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকেই এই ক্যানসারের প্রকোপ বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ নির্ণয় করা বেশ কঠিন। তা হলে কী ভাবে সতর্ক থাকা যায়?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪০
Share:

পিত্তথলির ক্যানসারের ঝুঁকি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে শনাক্ত করা যায় না পিত্তথলির ক্যানসার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেরিতে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। তার পর সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশনের চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ক্যানসার আগে থেকেই শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই পিত্তথলি বা গলব্লাডার ক্যানসার নিয়ে আতঙ্ক থাকে মানুষের মধ্যে। তবে এই রোগের কারণগুলি আগে থেকে জেনে রাখলে খানিক সতর্ক হওয়া যেতে পারে।

Advertisement

কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকেই এই ক্যানসারের প্রকোপ বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ নির্ণয় করা বেশ কঠিন। বেশির ভাগ লক্ষণই অনির্দিষ্ট, অস্পষ্ট। ফলে রোগ শনাক্তকরণে দেরি হয়ে যায়। এই রোগে মৃত্যুর হার কমাতে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের জন্য জনসচেতনতা এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রয়োজন। পাশাপাশি, রোগের কারণগুলিও জেনে নেওয়া দরকার।

গলব্লাডারে ক্যানসারের কারণ কী কী? ছবি: সংগৃহীত।

গলব্লাডার ক্যানসারের কারণগুলি কী কী?

Advertisement

১. পিত্তথলিতে পাথর জমা: গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথর জমার কারণে ক্যানসার হতে পারে। চিকিৎসকের কথায়, ‘‘একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁদের পিত্তথলিতে জমে থাকা পাথরের আকার ২-৩ গুণ বেড়ে যায়, তাঁদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি, পাথরের আকার যদি ১ সেন্টিমিটারের চেয়ে বেশি হয়, তা হলেও ক্যানসারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।’’ এই পাথর যদি বার না করা হয়, বা চিকিৎসা না করা হয়, তা হলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।

২. স্থূলত্ব: দেহের ওজন খুব বেশি হলে পরবর্তী কালে গলব্লাডার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। চিকিৎসক জানালেন, পুরুষদের চেয়ে মহিলারা এই ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হন।

৩. পরিবেশ দূষণ: উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে এই ক্যানসারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আর গাঙ্গেয় অববাহিকা বা গাঙ্গেয় বেল্টে অত্যন্ত বেশি মাত্রায় দেখা যায় এই ক্যানসার। অর্থাৎ গঙ্গানদীর তীরবর্তী এলাকায় এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। যেমন, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, দিল্লির রাজ্যগুলিতে এই ঝুঁকি বেশি। এই রাজ্যগুলিতে পরিবেশ দূষণ, খাদ্যাভ্যাস, এবং কিছু জৈবিক কারণ এর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। চিকি‌ৎসকের কথায়, ‘‘বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গাঙ্গেয় অববাহিকায় উচ্চ মাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া যায়। যাঁরা গলব্লাডার ক্যানসারে আক্রান্ত, তাঁদের শরীরে আর্সেনিকের মাত্রাও বেশি পরিমাণে মিলেছে। আর তাই আর্সেনিককে পিত্তথলির ক্যানসারের জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়।’’

কী ভাবে এই ক্যানসার রোধ করা যেতে পারে?

১. পিত্তথলিতে পাথর জমলে সময় মতো চিকিৎসা করাতে হবে।

২. দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৩. পরিষ্কার জল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।

চিকিৎসক বলছেন, এই তিনটি অভ্যাস রপ্ত করতে পারলে পিত্তথলির ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement